ঢাকা | রবিবার, ৬ এপ্রিল ২০২৫, ২৩ চৈত্র ১৪৩১

ঈদ শেষে চট্টগ্রাম বন্দরনগরীতে ফিরছে কর্মজীবী মানুষ

odhikarpatra | প্রকাশিত: ৫ এপ্রিল ২০২৫ ১৮:৩০

odhikarpatra
প্রকাশিত: ৫ এপ্রিল ২০২৫ ১৮:৩০

পবিত্র ঈদুল ফিতরের লম্বা ছুটি শেষ হচ্ছে আজ। আগামীকাল রবিবার থেকে খুলছে অফিস-আদালত। এনজিওসহ কিছু কিছু বেসরকারি অফিস অবশ্য আজ শনিবার থেকে খুলেছে। তাই গত বৃহস্পতিবার থেকে মূলত ফিরতে শুরু করেছে কর্মজীবী মানুষ।

এতে বাস, ট্রেন বা ব্যক্তিগত গাড়িতে যে যেভাবে পারছে ফিরছেন বন্দরনগরী চট্টগ্রামে। তবে পথে তেমন কোনো ভোগান্তি নেই। স্বাচ্ছন্দ্যেই ভ্রমণ করছেন সবাই। তবে দীর্ঘ ছুটি কাটানোর পরও সবার চেহারায় প্রিয়জনকে দূরে রেখে আসার কষ্ট ও বিষাদের ছায়া ওঠছে ভেসে। এবারের ঈদের যাত্রা তুলনামূলক স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ হওয়ায় ভোগান্তি ছাড়াই যাতায়াত করতে পেরেছেন সাধারণ মানুষ।

আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর বহদ্দারহাট বাস টার্মিনালে দেখা গেছে, ঈদের ছুটি কাটিয়ে মহানগরে ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবীরা। টার্মিনালে কক্সবাজার, চকরিয়া, আমিরাবাদ, টেকনাফ, বান্দরবানসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা থেকে বাসগুলো নগরে ঢুকছে।

এছাড়া নগরীর অন্যান্য বাস টার্মিনালেও ফিরতি যাত্রী নিয়ে একের পর এক পরিবহন ঢুকছে। ফলে সকাল থেকে ফাঁকা নগরী ভরপুর হয়ে ওঠতে শুরু করেছে। সড়কে বেড়েছে গণপরিবহনের সংখ্যা। অলি-গলিতে বাড়ছে শোরগোল।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে চলাচলকারী মারচা পরিবহনের কর্মী শফিকুল আলম বলেন, টার্মিনালে তেমন যাত্রী নামে না। এদিকে যাদের কর্মস্থল বা বাসাবাড়ি তারা এখানে নামে। অধিকাংশ যাত্রী নতুন ব্রিজে নেমে যান। নতুন ব্রিজে নেমে নিউমার্কেট, কোতোয়ালি হয়ে সবাই শহরে ঢুকে।

বৃহস্পতিবার থেকে বাড়ি-ঘর ছেড়ে ঈদ ফেরত যাত্রীরা নগরে আসা শুরু করলেও মূলত গতকাল শুক্রবার থেকে যাত্রী বেড়ে গেছে। রাস্তায় তেমন যানজট নেই।

চট্টগ্রাম নগরের অন্যতম প্রবেশপথ একে খান ও অলংকার মোড় ঘুরে দেখা যায়, একটির পর একটি আন্তঃজেলা বাস এসে থামছে। যাত্রীরা নামছেন ব্যাগ, গাট্টি-বোচকা নিয়ে। সবার চোখে-মুখে ক্লান্তি আর স্বজনদের ছেড়ে দূরে আসার কষ্ট।

যাত্রীদের পরবর্তী গন্তব্যে পৌঁছাতে একই স্থানে ভিড় করছে অটোরিকশা ও ব্যাটারি রিকশা। এতে সাময়িক যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। আর এ যানজট নিরসনে নিরলস কাজ করছেন নগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের কর্তব্যরতরা।

খুলনা থেকে আসা আবদুল কাদের নামে এক যাত্রী বলেন, ‘বাড়ি গেলে তো আর আসতে মন চায় না। কিন্তু পেট তো ওসব বুঝে না। রবিবার থেকে অফিস খুলবে। একটু বিশ্রাম নিয়ে অফিস করার জন্য একদিন আগে চলে আসলাম।’

বগুড়ার থেকে আসা নাসরিন সুলতানা বলেন, ‘এবার ছুটিও বেশি ছিলো। গাড়িতে বা রাস্তায় জ্যাম ও কোনো হয়রানি ছিলো না। তাই ঈদ ভ্রমণটা খুব উপভোগ করেছি। তবে লোহাগাড়ার দুটি বড় দুর্ঘটনার কারণে মনে একটা আতঙ্ক ছিলো সবসময়।’

বেনামি বাস সার্ভিসগুলো ঈদযাত্রায় বাস সার্ভিসে ভোগান্তি সৃষ্টি করে উল্লেখ করে রাজশাহী থেকে আসা রিপন হোসেন বলেন, ‘সরকার যদি এই বিষয়টিতে নজর দেয় তাহলে বাড়তি বাসভাড়া নিয়ে আমাদের কোনো আপত্তি থাকতো না।’

গ্রীনলাইন পরিবহনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় ব্যবস্থাপক বাবুল আইচ বলেন, এবারের ঈদ উপলক্ষ্যে সড়ক পরিবহনে কোনো ধরনের অসঙ্গতিপূর্ণ বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। যাত্রীরা অনলাইনে এবং সরাসরি এসে টিকিট কেটে যাওয়া-আসা করেছেন। যানজটের সমস্যাও তেমন ছিল না। প্রায় গাড়ি শিডিউল টাইমে ছাড়া সম্ভব হয়েছে।

চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে দেখা গেছে, ঢাকা, সিলেট, চাঁদপুর, ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন রুট থেকে আসা ট্রেনে করে শত শত যাত্রী বন্দরনগরীতে ফিরতে শুরু করছেন।

চাঁদপুর থেকে আসা মো. সিয়াম উদ্দিন বলেন, ‘আমি একটি প্রোডাক্ট সাপ্লাই কোম্পানিতে চাকরি করি। ঈদের ছুটিতে বাড়িতে গেছিলাম। আজ চলে আসছি।’

চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার আবু বক্কর সিদ্দিকী বলেন, যাত্রী সাধারণের নিরাপত্তার স্বার্থে আমাদের গৃহীত পদক্ষেপগুলো যথাযথভাবে চলছে। তাছাড়া যাত্রীরা যাতে ভোগান্তির শিকার না হন সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: