odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Saturday, 31st January 2026, ৩১st January ২০২৬

মুক্তাগাছায় বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান—বিক্ষোভে স্থগিত সংবর্ধনা

odhikarpatra | প্রকাশিত: ১৬ December ২০২৫ ১৮:৩৫

odhikarpatra
প্রকাশিত: ১৬ December ২০২৫ ১৮:৩৫

✍️ বিশেষ প্রতিনিধি, অধিকার পত্র ডটকম ১৬ ই ডিসেম্বর ২০২৫.

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এক মুক্তিযোদ্ধার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠান স্থগিত ঘোষণা করে উপজেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।

উপজেলা প্রশাসন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বেলা ১১টার দিকে অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা বছির উদ্দিন। বক্তব্যের শেষাংশে তিনি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বেই মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া হয়েছিল এবং সে সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগানই ছিল প্রধান প্রেরণা। বক্তব্য শেষে তিনি ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেন।

এ সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুবসংগঠন জাতীয় যুবশক্তি ময়মনসিংহের সংগঠক আল মামুন এবং গণ অধিকার পরিষদের মুক্তাগাছা উপজেলা সভাপতি শাহীনুর আলমসহ ১৫–২০ জন প্রতিবাদ জানান। তাদের একটি অংশ মঞ্চে উঠে পাল্টা স্লোগান দিলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এতে অনুষ্ঠানস্থলে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কৃষ্ণ চন্দ্র সংবর্ধনা অনুষ্ঠান স্থগিত ঘোষণা করেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা বছির উদ্দিন বলেন, তিনি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করতেই আপত্তি তোলা হয়। বক্তব্য শেষে কিছু ব্যক্তি বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণ করা যাবে না বলে প্রতিবাদ জানালে পরিস্থিতি অবনতি ঘটে।

অন্যদিকে, জাতীয় যুবশক্তির সংগঠক আল মামুন দাবি করেন, বক্তব্যে বারবার ‘জয় বাংলা’ ও ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ বলা হওয়ায় তারা আপত্তি তোলেন। তিনি বলেন, তারা মুক্তিযুদ্ধকে সম্মান করেন এবং কোনও মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে অসৌজন্য করেননি। তাদের মতে, মুক্তিযুদ্ধকে রাজনৈতিক বন্দনার বাইরে রাখা উচিত। পরে উপজেলা প্রশাসনের কক্ষে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত হয় বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে ইউএনও কৃষ্ণ চন্দ্র বলেন, এক মুক্তিযোদ্ধার বক্তব্যে ব্যবহৃত স্লোগান নিয়ে আপত্তি ওঠে এবং ছাত্র প্রতিনিধিরাও মঞ্চে বক্তব্য দেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে সাময়িকভাবে অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয় এবং পরবর্তীতে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়েছে।

 



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: