নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার উপক্রম হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই রুট দিয়ে সম্পন্ন হয়। এই সংকটে ক্রেতা দেশগুলো এখন বিকল্প উৎসের সন্ধানে আফ্রিকার দিকে নজর দিচ্ছে। তবে প্রশ্ন উঠেছে নাইজেরিয়া বা অ্যাঙ্গোলার মতো দেশগুলো কি স্বল্পমেয়াদে উৎপাদন বাড়িয়ে এই ঘাটতি মেটাতে সক্ষম?
নাইজেরিয়া: সম্ভাবনা আছে সক্ষমতা নেই
আফ্রিকার বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ নাইজেরিয়ার উৎপাদন বাড়ানোর সম্ভাবনা থাকলেও বর্তমানে তাদের কোনো স্পেয়ার ক্যাপাসিটি বা অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা নেই। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (IEA) ২০২৬ সালের মার্চের প্রতিবেদন অনুযায়ী নাইজেরিয়া বর্তমানে দৈনিক ১.৪২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উৎপাদন করছে, যা তাদের সর্বোচ্চ সীমা। বিশ্লেষক আয়োদেলে ওনি জানান অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা, পুরনো পাইপলাইন নেটওয়ার্ক এবং নাইজার ডেল্টা অঞ্চলের নিরাপত্তা জনিত সমস্যার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব নয়। সরকার ওয়ান মিলিয়ন ব্যারেল প্রকল্পের মাধ্যমে বন্ধ হয়ে যাওয়া কূপগুলো সচল করার চেষ্টা করলেও তার সুফল পেতে কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে।
অ্যাঙ্গোলা: ওপেক ছেড়েও সীমাবদ্ধ
সাব-সাহারান আফ্রিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎপাদক অ্যাঙ্গোলা ২০২৩ সালে তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংস্থা ওপেক (OPEC) থেকে বেরিয়ে আসে যাতে তারা স্বাধীনভাবে উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। বর্তমানে দেশটি পশ্চিমা বিনিয়োগকারীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠলেও স্বল্পমেয়াদে বিশ্ববাজারের বড় ঘাটতি পূরণে তারা হিমশিম খাচ্ছে। বিশেষজ্ঞ ফ্লাভিও ইনোসেনসিও বলেন আফ্রিকা বিশ্বের মোট তেলের মাত্র ১০ শতাংশ উৎপাদন করে। মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন ২০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল যাতায়াত করে যা আফ্রিকার পক্ষে একলা পূরণ করা অসম্ভব।
অর্থনীতির দ্বিমুখী প্রভাব
তেলের দাম বাড়লে উৎপাদনকারী দেশগুলোর আয় বাড়লেও মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি বাড়ছে। অ্যাঙ্গোলার অর্থনীতি মন্ত্রী হোসে দে লিমা মাসানো সতর্ক করে বলেছেন তেলের দাম বাড়লে পরিবহন খরচ বেড়ে যায়, ফলে আমদানিকৃত নিত্যপণ্যের দামও পাল্লা দিয়ে বাড়ে। অন্যদিকে নাইজেরিয়া তাদের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি চাহিদা মেটাতে ড্যাঙ্গোট রিফাইনারির (Dangote Refinery) ওপর নির্ভর করছে যা দৈনিক ৬৫ লক্ষ লিটার জ্বালানি সরবরাহ করছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের বিশাল ঘাটতি মেটাতে আফ্রিকার দেশগুলোর ভূমিকা বর্তমানে কেবল মধ্যমেয়াদী সমাধানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: