নিজস্ব প্রতিবেদক, অধিকারপত্র প্রকাশিত: ১ জানুয়ারি, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত অভিবাসন নীতির কারণে বিশ্বজুড়ে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে আফ্রিকার দেশগুলোর সাথে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক এখন তলানিতে। মালি এবং বুরকিনা ফাসো সম্প্রতি মার্কিন নাগরিকদের ওপর পূর্ণ ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। কিন্তু কেন হঠাৎ এই কঠোর অবস্থান?
ঘটনার প্রেক্ষাপট: ট্রাম্পের ‘ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা’
২০২৫ সালের শেষদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন, যা ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে। এই আদেশের মাধ্যমে বিশ্বের ৩৯টি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে ‘পূর্ণ’ বা ‘আংশিক’ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। তালিকায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে মালি, বুরকিনা ফাসো, নাইজার, সিরিয়া, এবং দক্ষিণ সুদান।
যুক্তরাষ্ট্রের যুক্তি: হোয়াইট হাউসের দাবি, এই দেশগুলোতে পর্যালোচনার (vetting) পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই এবং তারা বহিষ্কৃত নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে চায় না, যা মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।
‘যেমন কর্ম, তেমন ফল’: আফ্রিকার পাল্টা ব্যবস্থা
যুক্তরাষ্ট্রের এই একতরফা সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলো ‘রেসিপ্রোসিটি’ বা ‘পারস্পরিক বিনিময়ের নীতি’ গ্রহণ করেছে।
* মালি ও বুরকিনা ফাসো: এই দুই দেশ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, মার্কিন নাগরিকরা তাদের দেশে প্রবেশের ক্ষেত্রে ঠিক সেই একই কঠিন শর্ত ও বাধার সম্মুখীন হবেন, যা মালিয়ান বা বুরকিনাবে নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার ক্ষেত্রে পোহাতে হচ্ছে।
* নাইজার: এর আগে গত ২৫ ডিসেম্বর নাইজার সরকার ঘোষণা করে যে, তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য সব মার্কিন নাগরিকের ভিসা বন্ধ করে দিয়েছে।
* চাদ: গত বছরের জুন মাসেই চাদ একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিল।
গোল্ড কার্ড ভিসা বনাম সাধারণ নাগরিক
উত্তেজনার মাঝেই গত ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ ট্রাম্প একটি নতুন ‘গোল্ড কার্ড ভিসা’ প্রোগ্রামের ঘোষণা দেন। এর মাধ্যমে ধনী বিদেশিরা ১ মিলিয়ন ডলার (individually) বা ২ মিলিয়ন ডলার (corporately) অনুদানের বিনিময়ে দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী রেসিডেন্সি বা গ্রিন কার্ড পেতে পারেন।
সমালোচকরা বলছেন, একদিকে ট্রাম্প সাধারণ এবং উন্নয়নশীল দেশের নাগরিকদের জন্য দরজা বন্ধ করছেন, অন্যদিকে ‘গোল্ড কার্ড’-এর মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে ভিসা বিক্রি করছেন। আফ্রিকার দেশগুলোর ক্ষোভের এটিও একটি বড় কারণ।
ভবিষ্যৎ প্রভাব কী হতে পারে?
এই ‘টিট-ফর-ট্যাট’ বা পাল্টা-পাল্টি নিষেধাজ্ঞার ফলে:
১. কূটনৈতিক সংকট: সন্ত্রাসবাদ বিরোধী লড়াইয়ে পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোর সাথে যুক্তরাষ্ট্রের যে সামরিক ও গোয়েন্দা সহযোগিতা ছিল, তা হুমকির মুখে পড়বে।
২. মানবিক বিপর্যয়: সাধারণ শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং দ্বৈত নাগরিকদের যাতায়াত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হবে।
৩. অন্যান্য দেশের অবস্থান: ৩৯টি দেশের তালিকায় থাকা আরও অনেক দেশ (যেমন নাইজেরিয়া, সেনেগাল) একই পথে হাঁটলে মার্কিন পাসপোর্টধারীদের জন্য বিশ্বভ্রমণ অনেক কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: