নিজস্ব প্রতিবেদক, অধিকারপত্র | মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর ওপর ইসরায়েলি বিমান হামলা ও স্থল অভিযানের হুমকির মুখে দেশটি এক ভয়াবহ অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক মহলের একাংশ যখন হিজবুল্লাহকে অস্ত্র নামিয়ে রাখার সময়সীমা বেঁধে দিচ্ছে, তখন প্রশ্ন উঠেছে—লেবাননের ভাগ্যে আসলে কী ঘটতে যাচ্ছে?
অস্ত্র ত্যাগের আল্টিমেটাম ও বাস্তবতা: ইসরায়েল ও তার পশ্চিমা মিত্ররা দীর্ঘ দিন ধরেই দাবি করে আসছে যে, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল থেকে হিজবুল্লাহর উপস্থিতি সরাতে হবে এবং তাদের নিরস্ত্রীকরণ করতে হবে। সম্প্রতি এই চাপ আরও তীব্র হয়েছে। তবে হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরুল্লাহর উত্তরসূরি ও বর্তমান নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, গাজায় যুদ্ধবিরতি না হওয়া পর্যন্ত তারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিরোধ চালিয়ে যাবে।
ইসরায়েলের বিধ্বংসী কৌশল: গত কয়েক দিনে লেবাননের বিভিন্ন প্রান্তে ইসরায়েলি বিমান হামলায় শত শত বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলের দাবি, তারা হিজবুল্লাহর অস্ত্রের গুদাম ও কমান্ড সেন্টার লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, লেবাননের সাধারণ জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে হিজবুল্লাহকে জনবিচ্ছিন্ন করাই ইসরায়েলের মূল লক্ষ্য।
লেবাননের অভ্যন্তরীণ সংকট: একদিকে যুদ্ধের হুমকি, অন্যদিকে চরম অর্থনৈতিক মন্দা—সব মিলিয়ে লেবানন এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। দেশটির সরকার ও সেনাবাহিনী হিজবুল্লাহর কর্মকাণ্ডের ওপর খুব সামান্যই নিয়ন্ত্রণ রাখে। এমতাবস্থায় ইসরায়েলের বেঁধে দেওয়া 'ডেডলাইন' বা সময়সীমা লেবানন সরকারকে এক কঠিন পরীক্ষার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
কী ঘটতে পারে সামনে? আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননের সামনে এখন তিনটি পথ খোলা রয়েছে:
১. পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ: যদি হিজবুল্লাহ তাদের অবস্থান থেকে সরে না আসে এবং ইসরায়েল স্থল অভিযান শুরু করে, তবে এটি একটি আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।
২. কূটনৈতিক সমাধান: যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স একটি মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে যাতে হিজবুল্লাহকে লিতানি নদীর ওপারে সরিয়ে নেওয়া যায়। তবে এর সম্ভাবনা এখন পর্যন্ত ক্ষীণ।
৩. দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত: গাজা যুদ্ধের মতো লেবানন সীমান্তেও একটি দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতা বজায় থাকতে পারে, যা দেশটির অর্থনীতিকে পুরোপুরি পঙ্গু করে দেবে।
লেবাননের সাধারণ মানুষ এখন আকাশের দিকে তাকিয়ে দিন গুনছে—সেখান থেকে কি শান্তির বার্তা আসবে, নাকি ধেয়ে আসবে আরও শক্তিশালী কোনো ক্ষেপণাস্ত্র? দক্ষিণ লেবানন থেকে বাস্তুচ্যুত হাজার হাজার মানুষের আর্তনাদ বিশ্ববিবেককে নাড়া দিলেও যুদ্ধের ময়দান এখনো উত্তপ্ত।
সূত্র: আল জাজিরা ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: