অধিকারপত্র ডটকম
গাজা উপত্যকা | ১ জানুয়ারি ২০২৬
গাজা উপত্যকায় কার্যরত আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তাকারী সংস্থাগুলোর ওপর ইসরায়েলের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে। এর ফলে জীবনরক্ষাকারী সহায়তা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে লক্ষ লক্ষ ফিলিস্তিনি। নতুন এই সিদ্ধান্তের আওতায় ‘ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স (এমএসএফ)’ ও ‘নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল’-সহ মোট ৩৭টি আন্তর্জাতিক এনজিওর কার্যক্রম স্থগিত বা বাতিল করা হয়েছে।
ইসরায়েলের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে কাজ করতে হলে এনজিওগুলোকে কর্মীদের বিস্তারিত ব্যক্তিগত তথ্য, অর্থায়নের উৎস এবং কার্যক্রম সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য জমা দিতে হবে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, এই শর্তগুলো মানবিক নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতার নীতির পরিপন্থী।
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য
ইসরায়েলের ১৭টি মানবাধিকার ও অ্যাডভোকেসি সংস্থা এক যৌথ বিবৃতিতে জানায়,
“একটি দখলদার শক্তি হিসেবে বেসামরিক জনগণের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা ইসরায়েলের দায়িত্ব। অথচ তারা শুধু সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ নয়, বরং অন্যদের সহায়তা দিতেও বাধা দিচ্ছে।”
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক বলেন,
“এটি অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে মানবিক সহায়তা প্রবেশে অবৈধ বাধা দেওয়ার ধারাবাহিকতারই অংশ।”
ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স (এমএসএফ) সতর্ক করে জানায়,
“ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত। এমএসএফ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হলে শত শত হাজার মানুষ জরুরি চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হবে।”
সাবেক জাতিসংঘ মানবিক সহায়তা প্রধান মার্টিন গ্রিফিথস বলেন,
“এই সংস্থাগুলোই হলো শেষ মাইল—যারা বাস্তবে সহায়তা মানুষের হাতে পৌঁছে দেয়। গাজায় সহায়তা পৌঁছাতে এদের বিকল্প নেই।”

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: