নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র
ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে আটক এবং দেশটির শাসনভার যুক্তরাষ্ট্রের হাতে নেওয়ার ঘোষণায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে খোদ ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিজের রাজ্য ফ্লোরিডায়। ট্রাম্প সমর্থকদের একটি বড় অংশ একে শান্তির জন্য শক্তি (Peace through Strength) নীতির বিজয় হিসেবে দেখলেও দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের আশঙ্কাও উঁকি দিচ্ছে কারো কারো মনে।
এটি ইরাক বা আফগানিস্তান নয়-
সেন্ট অগাস্টিন নিবাসী দীর্ঘদিনের ট্রাম্প সমর্থক ডির্ক ফ্রেজিয়ার মনে করেন, ভেনেজুয়েলার এই অভিযানটি অতীতের ব্যর্থ যুদ্ধগুলো থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। ইরাক ও আফগানিস্তানের অন্তহীন সংঘাতের স্মৃতি হাতড়ে তিনি বলেন, আমি সারা জীবন শেষ না হওয়া যুদ্ধ দেখে বড় হয়েছি। কিন্তু এবারের বিষয়টি ভিন্ন। ভেনেজুয়েলা আমাদের অনেক কাছাকাছি। ফ্রেজিয়ারের মতে কোনো মার্কিন হতাহত ছাড়াই দ্রুত এই অভিযান শেষ করা যুক্তরাষ্ট্রের সুপারপাওয়ার ইমেজকে পুনরুত্থিত করেছে। এটি কোনো দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত নয়। আমরা বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছি যে খারাপ কাজ করলে পার পাওয়া যাবে না।
দাবা খেলা, লুডু নয়-
ফ্লোরিডার রিপাবলিকান মহলে এই পদক্ষেপকে দেখা হচ্ছে একটি কৌশলগত চাল হিসেবে। সাবেক রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটি কর্মী ভিয়াঙ্কা রদ্রিগেজ একে বর্ণনা করেছেন দাবা খেলার সাথে। তার মতে মাদুরোর পতন হলে কিউবা ও নিকারাগুয়ার মতো বামপন্থী সরকারগুলো তাদের লাইফলাইন হারাবে। তিনি আরও বলেন, এটি একটি দূরদর্শী পরিকল্পনা। আমরা চাই ভেনেজুয়েলানরা নিজ দেশে ফিরে যাক। সেখানে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরলে অভিবাসন সমস্যাও অনেকটা কমে আসবে।
ঘরে-বাইরে সমালোচনা-
তবে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে খোদ রিপাবলিকান পার্টির ভেতরেই সুর চড়া হচ্ছে। কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত মারজোরি টেইলর গ্রিন এক্স-এ (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, ম্যাগি (MAGA) সমর্থকরা এই ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপ বন্ধ করতেই ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছিল। কেনটাকির প্রতিনিধি থমাস মাসিও বিরক্তি প্রকাশ করে বলেছেন, আমরা এর জন্য ভোট দেইনি।
তেলের রাজনীতি ও ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা-
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই অভিযানকে সমর্থন করে বলেছেন, আমেরিকার সম্পদ রক্ষা এবং মাদক পাচার বন্ধে এটি জরুরি ছিল। ট্রাম্পের দাবি ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদ ব্যবহার করেই দেশটির পুনর্গঠন করা হবে। যা মার্কিন করদাতাদের পকেটে চাপ ফেলবে না। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন। সাবেক সিআইএ কর্মকর্তা জন ম্যাকলাফলিন বলেন, সামরিক অভিযানে সহিংসতা শুরু করলে তার শেষ কোথায় হবে তা কেউ জানে না। সাধারণ আমেরিকানদের মধ্যেও সংশয় রয়েছে। সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুযায়ী মাত্র ২২% সাধারণ মানুষ ভেনেজুয়েলায় সামরিক হস্তক্ষেপ সমর্থন করেছিলেন। ফ্লোরিডার লিটল ভেনেজুয়েলা নামে পরিচিত এলাকাগুলোতে এখন আনন্দ আর আশঙ্কার দোলাচল। মাদুরোর পতন কি সত্যিই শান্তি আনবে নাকি যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো দীর্ঘস্থায়ী সংকটে জড়িয়ে পড়বে সে উত্তর দেবে কেবল ভবিষ্যৎ।
--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: