odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Sunday, 22nd February 2026, ২২nd February ২০২৬

ইরান উত্তেজনায় কাতার–বাহরাইন থেকে সেনা সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ২২ February ২০২৬ ১৬:১৪

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২২ February ২০২৬ ১৬:১৪

ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের দুটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ কাতার ও বাহরাইন থেকে শত শত সেনা সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। পরিস্থিতি খারাপের দিকে যেতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস পেন্টাগনের গোপন সূত্রের বরাতে জানায়, কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি থেকে ইতোমধ্যে কয়েক শ মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হয়েছে। আল উদেইদ ঘাঁটিটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি। সেখানে সাধারণত প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করেন।

একই সঙ্গে বাহরাইন থেকেও সেনা কমানো হয়েছে। বাহরাইনেই রয়েছে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম বহরের প্রধান কার্যালয়। এই দুই ঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এর আগে গত ২০ ফেব্রুয়ারি আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে জানায়, সিরিয়ায় থাকা প্রায় এক হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি মাথায় রেখেই এই সেনা সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে পাল্টা জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে আঘাত হানতে পারে।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের মিশন এক চিঠিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, ইরান আক্রান্ত হলে এ অঞ্চলে থাকা শত্রু পক্ষের সব ঘাঁটি ও স্থাপনা বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হবে। এমন পরিস্থিতির দায় পুরোপুরি ওয়াশিংটনের ওপরই পড়বে বলেও সতর্ক করেছে তেহরান।

তবে কাতার ও বাহরাইন থেকে সেনা সরালেও ইরাক, সিরিয়া, কুয়েত, সৌদি আরব, জর্ডান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন ঘাঁটিতে এখনো মার্কিন সেনারা অবস্থান করছেন। পুরো বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত সেন্ট্রাল কমান্ড আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি।

এর মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র। পেন্টাগনের একাধিক কর্মকর্তার দাবি, চাইলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর মতো অবস্থানে রয়েছে ওয়াশিংটন।

এই উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে ১০ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে কোনো সমঝোতা না হলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন তিনি।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: