odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Thursday, 8th January 2026, ৮th January ২০২৬
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ভোলার তজুমদ্দিনে যুবদল ও শ্রমিক দলের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, পুলিশ–নৌবাহিনীর টহল জারি

ভোলায় আধিপত্যের লড়াইয়ে রণক্ষেত্র শশীগঞ্জ বাজার, যুবদল–শ্রমিক দলের সংঘর্ষে আহত অন্তত ১৫

odhikarpatra | প্রকাশিত: ৬ January ২০২৬ ২৩:৫৯

odhikarpatra
প্রকাশিত: ৬ January ২০২৬ ২৩:৫৯

ক্রাইম প্রতিনিধি, অধিকার পত্র ডটকম

ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে যুবদল ও শ্রমিক দলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার শশীগঞ্জ বাজার এলাকায় প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে ভোলা সদর হাসপাতাল ও তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শশীগঞ্জ বাজারের দক্ষিণ পাশে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও তালুকদার মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় প্রথমে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও ধাওয়ায় রূপ নেয়। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে যায়।

পুলিশ জানায়, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। আগে তারা একই রাজনৈতিক ধারার হলেও সাম্প্রতিক সময়ে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. গিয়াস উদ্দিন হাওলাদার। অপর পক্ষের নেতৃত্বে আছেন উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি ইকবাল হোসেন।

ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে জানা যায়, তালুকদার মার্কেটের মালিকানা ও পাওনা টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে দুপুরে উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি ইকবাল হোসেন ও স্বেচ্ছাসেবক দলের এক কর্মী মার্কেটের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় তাঁদের সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কয়েকজন রাজনৈতিক কর্মীর বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে যুবদলের এক কর্মীর সঙ্গে হাতাহাতি হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এরপর ইকবাল হোসেন মুঠোফোনে তাঁর অনুসারীদের ঘটনাস্থলে ডেকে নেন। খবর পেয়ে জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. গিয়াস উদ্দিন হাওলাদার ও উপজেলা যুবদলের কয়েকজন নেতা-কর্মী দলবল নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। এতে দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে চলে যায় এবং লাঠিসোঁটা নিয়ে ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়।

প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে বাজার এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরে নৌবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে ওই এলাকায় পুলিশ ও নৌবাহিনীর যৌথ টহল জোরদার করা হয়েছে।

তজুমদ্দিন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুশান্ত ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ দেয়নি।

এ ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. গিয়াস উদ্দিন হাওলাদার দাবি করেন, শ্রমিক দলের নেতা ইকবাল হোসেন ও তাঁর সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে শশীগঞ্জ বাজারে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত। চাঁদা না দেওয়ায় একাধিক দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে গালাগাল ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে স্থানীয় লোকজন বাধা দেয়। এরপরই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যাতে তাঁদের পক্ষের পাঁচজন আহত হন।

অন্যদিকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি ইকবাল হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে যুবলীগ নেতা সবুজ তালুকদার ও তাঁর সহযোগীরা তাঁর তিনটি দোকান লুট করে নেয়। কয়েক লাখ টাকার মূলধন রেখে তাঁকে আদালতে হাজিরা দিতে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল, কিন্তু আজও সেই টাকা ফেরত পাননি। টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যেই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, গিয়াস উদ্দিন হাওলাদারের নেতৃত্বে তাঁদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। তাঁরা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

 


 

ভোলায় আধিপত্যের লড়াইয়ে রণক্ষেত্র শশীগঞ্জ বাজার, যুবদল–শ্রমিক দলের সংঘর্ষে আহত অন্তত ১৫

#ভোলা #তজুমদ্দিন #যুবদল #শ্রমিকদল #রাজনৈতিকসংঘর্ষ #বাংলাদেশসংবাদ #OdhikarPatra #CrimeNews

 



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: