নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র
ইংল্যান্ডের প্রিথিবীর অন্যতম রহস্যময় ও প্রত্নস্মৃতিতে স্থান নেওয়া স্টোনহেঞ্জের নতুন একটি তত্ত্ব সম্প্রতি বিজ্ঞানীদের আলোচনার বিষয় হয়েছে। এই প্রাগৈতিহাসিক স্থাপনার মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে শতাব্দীর পুরোনো ধারণাগুলিকে নতুন করে চ্যালেঞ্জ করে গবেষকরা এখন দাবি করছেন যে স্টোনহেঞ্জ শুধু ধর্মীয় বা জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক উদ্দেশ্য ছিল না এটি ছিল এক রাজনৈতিক সংগঠন ও ঐক্যের প্রতীক।
টুকরা টুকরা পাথর থেকে বড় উদ্দেশ্য
২০২৪ সালে প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় এক বিস্ময়কর তথ্য সামনে এসেছে: স্টোনহেঞ্জের কেন্দ্রস্থ অল্টার স্টোন নামে পরিচিত বড় পাথরটি আসলেই স্কটল্যান্ড থেকে আনা হয়েছে, পূর্বে ধারণা করা হয়েছিল এটি ওয়েলস থেকেই এসেছে। প্রাথমিক গবেষণায় জানা গিয়েছিল ব্লুস্টোন নামের কিছু পাথর পশ্চিম ওয়েলস থেকে আনতে সম্ভব হয়েছে, কিন্তু এদিকে আরেকটি প্রধান পাথর বহু দূর স্কটল্যান্ডের উত্তরাঞ্চল থেকেও আনা হয়েছে, যা তখনকার নেওলিথিক জনগোষ্ঠীর সংগঠিত শক্তি ও যোগাযোগের বিস্ময় ছড়াচ্ছে।
ভিন্ন ভিন্ন জনগোষ্ঠীর মিলনস্থল
ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের (UCL) গবেষক ও প্রধান লেখক প্রফেসর মাইক পার্কার পিয়ারসন এমন এক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন যেখানে এই স্থাপনা ব্রিটেনের বিভিন্ন কৃষক সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ করার একটি রাজনৈতিক প্রজেক্ট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গবেষকেরা মনে করেন দীর্ঘ দূরত্ব থেকে পাথরগুলো নিয়ে আসার প্রচেষ্টা শুধুই ধর্মীয় উদ্দেশ্য নয়। এটি ছিল সেই যুগের জনগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে বোনা সম্পর্ক ও ক্ষমতার প্রতীক। গবেষণায় বলা হয়েছে স্টোনহেঞ্জের নির্মাণকালে বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ পশুপালন, বাড়িঘর, খাদ্যাভ্যাস এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক উপাদান শেয়ার করত এমনকি প্রায় অর্ধেক লোক যারা এখানে সমাধি করা হয়েছিল তারা সালিসবেরি প্লেইন ছাড়া অন্য কোথাও থেকে এসেছিলেন।
ধর্মীয় থেকে রাজনৈতিক: একটি দার্শনিক বদল
দীর্ঘদিন ধরে স্টোনহেঞ্জকে পুরাতাত্ত্বিক ঠাকুর ঘর, জ্যোতির্বিদ্যার অদিন ব্যাপার, বা খ্রিস্টপূর্ব ২৫০০ সালের সময় সূর্যোদয়-সুর্যাস্ত পর্যবেক্ষণের একটি স্থান হিসেবে দেখা হয়েছে। কিন্তু এই নতুন তত্ত্ব অনুযায়ী, এটি একটি প্রাগৈতিহাসিক রাজনৈতিক কেন্দ্র, যেখানে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সমঝোতা, ঐক্য এবং সামাজিক যোগাযোগ স্থাপনের উদ্দেশ্য কাজ করেছিল।
স্টোনহেঞ্জ আজও ঐক্যের প্রতীক
আজ স্টোনহেঞ্জ বার্ষিক শীত ও গ্রীষ্মের সূর্যস্ত solstice-তে হাজার হাজার মানুষকে আকৃষ্ট করে সেই পুরোনো ঐতিহ্য আজও জীবন্ত। আর এই নতুন গবেষণা যদি সঠিক হয়, তবে এই প্রাচীন স্মৃতিস্তম্ভ কখনোই শুধুমাত্র ইতিহাস বা ধর্মের নির্দিষ্ট চিহ্ন ছিল না এটি মানুষকে একত্রিত করার এক বিরাট চেষ্টার প্রতীক, যা আজও শিল্প, সংস্কৃতি ও পর্যটনের কেন্দ্রবিন্দুতে আছে। স্টোনহেঞ্জ আজও প্রমাণ করে যে, প্রাচীন মানুষ কেবল টিকে থাকার জন্যই লড়াই করেনি, বরং তারা শিল্প, রাজনীতি এবং সামাজিক ঐক্যের গুরুত্বও বুঝত। বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে সাথে হয়তো এই রহস্যময় পাথরগুলো নিয়ে আরও বিস্ময়কর তথ্য আমাদের সামনে আসবে।
--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: