odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Friday, 9th January 2026, ৯th January ২০২৬
‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিতে অটল ট্রাম্প: বিশ্ব সংস্থাগুলোকে ‘করদাতার অর্থের অপচয়’ বলে ঘোষণা

জলবায়ু চুক্তি ও ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্থান: ট্রাম্পের বড় ঘোষণা

Special Correspondent | প্রকাশিত: ৮ January ২০২৬ ২২:০৫

Special Correspondent
প্রকাশিত: ৮ January ২০২৬ ২২:০৫

নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্তে বিশ্বের প্রধান জলবায়ু চুক্তি 'ইউএন ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন ক্লাইমেট চেঞ্জ' (UNFCCC) সহ ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা ও গোষ্ঠী থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবার (৭ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউসে এই সংক্রান্ত একটি মেমোরেন্ডাম স্বাক্ষরিত হয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে বিশ্ব রাজনীতিতে আমেরিকার 'বিচ্ছিন্নতাবাদী' অবস্থানের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই সংস্থাগুলো আর "আমেরিকান স্বার্থ রক্ষা করছে না" এবং এগুলো "অকার্যকর ও বৈরী এজেন্ডা" প্রচার করছে।

প্রধান তথ্যসমূহ:

সংস্থার সংখ্যা: মোট ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্র নাম প্রত্যাহার করছে। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেকই (৩১টি) জাতিসংঘ সংশ্লিষ্ট।

জলবায়ু আঘাত: বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ভিত্তি হিসেবে পরিচিত 'UNFCCC' এবং জলবায়ু বিজ্ঞানের শীর্ষ কর্তৃপক্ষ 'IPCC' থেকে যুক্তরাষ্ট্র বেরিয়ে যাচ্ছে।

আর্থিক কারণ: ট্রাম্প প্রশাসন এই সংস্থাগুলোকে "করদাতার অর্থের অপচয়" এবং "গ্লোবালিস্ট এজেন্ডা" বাস্তবায়নকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

আইনি চ্যালেঞ্জ: মার্কিন সংবিধানে চুক্তিভুক্ত হওয়ার নিয়ম থাকলেও প্রত্যাহার নিয়ে অস্পষ্টতা থাকায় এই সিদ্ধান্ত আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

হোয়াইট হাউসের বক্তব্য-

স্বাক্ষরিত মেমোরেন্ডামে বলা হয়েছে, "এই প্রত্যাহারের ফলে আমেরিকার করদাতাদের অর্থের অপচয় বন্ধ হবে। এমন কোনো সত্তায় মার্কিন সংশ্লিষ্টতা থাকবে না যা মার্কিন অগ্রাধিকারের চেয়ে বৈশ্বিক এজেন্ডাকে প্রাধান্য দেয়।" এছাড়া সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে "কট্টর জলবায়ু নীতি" এবং "মতাদর্শগত কর্মসূচি" প্রচারের অভিযোগ এনেছে প্রশাসন, যা মার্কিন সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি বলে মনে করেন ট্রাম্প।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্বনেতারা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) জলবায়ু কমিশনার ওপকে হোয়েকস্ট্রা এই সিদ্ধান্তকে "দুঃখজনক ও দুর্ভাগ্যজনক" বলে অভিহিত করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, UNFCCC হলো বিশ্ব জলবায়ু কর্মকাণ্ডের মেরুদণ্ড, যা থেকে সরে আসা বৈশ্বিক সহযোগিতাকে দুর্বল করবে।

ইউনিয়ন অব কনসার্নড সায়েন্টিস্টস-এর সিনিয়র পলিসি ডিরেক্টর রেচেল ক্লিটাস এই পদক্ষেপকে "নতুন পতন" হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি একে একটি "স্বৈরাচারী ও বিজ্ঞান-বিরোধী" প্রশাসনের কাজ বলে অভিহিত করেছেন।

প্রেক্ষাপট

এর আগে গত বছর ট্রাম্প দ্বিতীয়বারের মতো প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করেছিলেন এবং ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত COP30 সম্মেলনে কোনো প্রতিনিধি দল পাঠাননি। এছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল এবং ইউনেস্কো থেকেও যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, UNFCCC থেকে সরে আসার ফলে ভবিষ্যতে অন্য কোনো মার্কিন প্রশাসনের পক্ষে পুনরায় জলবায়ু চুক্তিতে ফেরা আইনি ও কূটনৈতিকভাবে জটিল হয়ে উঠতে পারে।

--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: