নাটোর প্রতিনিধি, অধিকার পত্র ডটকম /
নাটোর—নির্বাচনী সহিংসতার অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে নাটোরের সিংড়া উপজেলা। স্বতন্ত্র প্রার্থীর এক কর্মীর দুই পায়ের রগ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি প্রার্থীর কর্মীদের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই কর্মীকে প্রথমে রাজশাহী এবং পরে ঢাকায় নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
আহত রায়হান কবীর (৪৫) সিংড়া উপজেলার ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমানে স্বতন্ত্র প্রার্থী দাউদার মাহমুদ–এর কর্মী। দাউদার মাহমুদ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক।
ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে নির্বাচনী প্রচারণা শেষে রায়হান কবীর দাউদার মাহমুদের কার্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার পথে বিল তাজপুর এলাকায় পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তাঁর পথরোধ করে। এরপর চাপাতি ও রামদা দিয়ে তাঁর দুই পায়ের রগ কেটে তাঁকে সড়কে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
পরে এক ভ্যানচালক তাঁকে উদ্ধার করে সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসকরা তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক জানিয়ে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দিয়েছেন।
রায়হান কবীরের ছেলে মেহেদী হাসান অভিযোগ করে জানান, নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী আনোয়ার হোসেনসহ ২০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১২ জনের বিরুদ্ধে সিংড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
রায়হানের বড় ভাই আব্দুল করিম বলেন, আহত অবস্থায় রাজশাহী নেওয়ার পথে রায়হান জানিয়েছেন—হিজলী গ্রামের রমজান আলী ও সোহানুর রহমানের নেতৃত্বে রহিদুল, আওয়াল, ফরহাদসহ কয়েকজন এই হামলা চালিয়েছে।
তবে অভিযুক্ত সোহানুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এটি পারিবারিক দ্বন্দ্বের ঘটনা, নির্বাচনকে জড়ানো হচ্ছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী দাউদার মাহমুদ বলেন, “রগ কেটে রায়হান কবীরকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। আগে বিএনপি করার কারণে সে নির্যাতিত হয়েছিল, এখন একই দলের কর্মীদের হাতেই প্রাণ হারাতে বসেছে।”
অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী আনোয়ার হোসেন বলেন, “অপরাধীদের কোনো দল নেই। যারা হামলা করেছে তাদের শাস্তি হোক। আমার কোনো কর্মী এই ঘটনায় জড়িত নয়।”
সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ স ম আব্দুর নুর জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার সত্যতা যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: