odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Friday, 16th January 2026, ১৬th January ২০২৬
ট্রাম্পের দাবির মধ্যেই গ্রিনল্যান্ডে ইউরোপীয় সেনা মোতায়েন, ন্যাটোর উপস্থিতির বার্তা। গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র–ইউরোপ টানাপোড়েন, সীমিত সামরিক মিশন শুরু।

গ্রিনল্যান্ডে ইউরোপীয় সেনা মোতায়েন: ট্রাম্পের দাবির মুখে উত্তপ্ত আর্কটিক

Special Correspondent | প্রকাশিত: ১৫ January ২০২৬ ২৩:৩৫

Special Correspondent
প্রকাশিত: ১৫ January ২০২৬ ২৩:৩৫

নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র

ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতীয় নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে গ্রিনল্যান্ড দখলের অভিপ্রায় পুনর্ব্যক্ত করার পরই সেখানে পৌঁছেছে ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপীয় ন্যাটো মিত্রদের একটি বিশেষ সামরিক দল।

অপারেশন আর্কটিক এনডুরেন্স: ইউরোপের রাজনৈতিক বার্তা

ডেনমার্কের নেতৃত্বে ‘অপারেশন আর্কটিক এনডুরেন্স (Operation Arctic Endurance) নামক সামরিক মহড়ার অধীনে ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেন, নরওয়ে, নেদারল্যান্ডস এবং যুক্তরাজ্যের ছোট ছোট সামরিক দল গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নিউকে পৌঁছেছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ এই মিশনকে রাজনৈতিক সংকেত হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, গ্রিনল্যান্ড ইউরোপীয় ইউনিয়নের অংশ এবং ন্যাটোর ঘনিষ্ঠ মিত্র। আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে দেখাতে চাই যে ন্যাটো এখানে উপস্থিত আছে। তিনি জানিয়েছেন, শীঘ্রই জল, স্থল ও আকাশপথে আরও শক্তি বৃদ্ধি করা হবে।

ব্যর্থ ওয়াশিংটন বৈঠক:

গত বুধবার হোয়াইট হাউসে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সাথে বৈঠক করেন ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লারস লোকে রাসমুসেন এবং গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান মোৎজফেল্ড। বৈঠক শেষে রাসমুসেন জানান, আলোচনা গঠনমূলক হলেও দুই পক্ষের মধ্যে মৌলিক মতপার্থক্য রয়ে গেছে। রাসমুসেন কড়া ভাষায় বলেন, ২০২৬ সালে আপনি পণ্য কেনাবেচা করতে পারেন, কিন্তু মানুষকে নয়। গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেনস-ফ্রেডেরিক নিলসেন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হতে চায় না।

ট্রাম্পের অনড় অবস্থান:

বৈঠকের পরপরই ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, রাশিয়ান বা চীনা আগ্রাসন থেকে গ্রিনল্যান্ডকে রক্ষা করার ক্ষমতা ডেনমার্কের নেই। আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন। তিনি গত সপ্তাহের ভেনেজুয়েলা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে পরোক্ষভাবে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকিও দিয়ে রেখেছেন। ট্রাম্পের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত গোল্ডেন ডোম (Golden Dome) মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেমের জন্য গ্রিনল্যান্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া:

পোল্যান্ড: প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক সতর্ক করেছেন যে, ন্যাটোর এক সদস্য যদি অন্য সদস্যের ভূখণ্ড দখল করে তবে তা বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থার পতন ঘটাবে।

রাশিয়া: মস্কো এই অঞ্চলে ন্যাটোর উপস্থিতি বৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং একে রাশিয়ার বিরুদ্ধে উস্কানি হিসেবে দেখছে।

চীন: ওয়াশিংটনকে সার্বভৌম রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব সম্মান করার আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং।

বর্তমান পরিস্থিতি:

বর্তমানে গ্রিনল্যান্ডে ইউরোপীয় সেনার সংখ্যা মাত্র কয়েক ডজন হলেও ডেনমার্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী দিনগুলোতে এখানে বিমান, যুদ্ধজাহাজ এবং স্থায়ী সেনার উপস্থিতি বাড়ানো হবে। অন্যদিকে, মার্কিন ডেমোক্র্যাট দলের একটি প্রতিনিধি দল আগামীকাল শুক্রবার ডেনমার্ক সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে, যা এই সংকট নিরসনে নতুন কোনো মোড় নিতে পারে কি না তা দেখার বিষয়।

--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: