বিনোদন ডেস্ক, অধিকার পত্র ডটকম
একসময় বলিউডের আলোচিত অভিনেত্রী ছিলেন সেলিনা জেটলি। সিনেমা থেকে দূরে থাকলেও তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের ঘটনা ফের আলোচনার কেন্দ্রে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন বক্তব্যে সেলিনা জানান, বিবাহিত জীবনে তিনি দীর্ঘদিন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
২০০০ দশকের শুরুতে জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী ২০১১ সালে অস্ট্রিয়ান ব্যবসায়ী পিটার হাগের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর তিনি বিদেশে স্থায়ী হন। বাইরে থেকে সুখী দাম্পত্যের ছবি ফুটে উঠলেও বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন—এমনটাই দাবি সেলিনার।
সেলিনা জেটলি নিজেই নিশ্চিত করেছেন, তিনি স্বামীর সঙ্গে আর একসঙ্গে নেই। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে চলা নির্যাতন থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই তাঁকে সম্পর্ক ছিন্ন করার কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তের মূল্য দিতে হয়েছে ভয়াবহভাবে—নিজের সন্তানদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে।
🔹 সন্তানদের থেকে বিচ্ছেদের যন্ত্রণা
ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে সেলিনা জানান, এক রাতে প্রতিবেশীদের সহায়তায় তাঁকে অস্ট্রিয়া ছাড়তে হয়। গভীর রাতে অল্প কিছু অর্থ নিয়ে তিনি ভারতে ফিরে এলেও সন্তানদের সেখানে রেখে আসতে বাধ্য হন।
তাঁর ভাষায়, আত্মমর্যাদা রক্ষার লড়াইয়ে তিনি সন্তানদের কাছ থেকে দূরে সরে যান। সেলিনার দাবি, আদালতের যৌথ অভিভাবকত্বের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তাঁকে সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি সন্তানদের মানসিকভাবে প্রভাবিত করার অভিযোগও করেছেন তিনি।
🔹 নিজের বাড়িতেও ঢুকতে আইনি লড়াই
সেলিনা অভিযোগ করেন, ভারতে ফেরার পর নিজের সম্পত্তিতে প্রবেশের জন্যও তাঁকে আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছে। তাঁর দাবি, স্বামী সেই সম্পত্তির ওপর অধিকার দাবি করেছিলেন। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের ফলে তাঁকে বড় অঙ্কের ঋণও নিতে হয়েছে।
🔹 বিবাহবার্ষিকীতে ডিভোর্স পেপার
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্যটি সেলিনা প্রকাশ করেন নিজেই। তিনি জানান, তাঁদের ১৫তম বিবাহবার্ষিকীর দিন স্বামী তাঁকে পোস্ট অফিসে নিয়ে যান ‘উপহার’ দেওয়ার কথা বলে। কিন্তু সেখানে তাঁকে যে খামটি দেওয়া হয়, সেটি ছিল ডিভোর্সের কাগজ। সেলিনার ভাষায়, সেটিই ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে কষ্টদায়ক ‘বার্ষিকী উপহার’।
অভিনেত্রী জানান, সন্তানদের কথা ভেবে তিনি একাধিকবার শান্তিপূর্ণভাবে আলাদা হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তাঁর সামনে এমন শর্ত রাখা হয়েছিল, যেখানে তাঁকে নিজের সম্পত্তির অধিকার ছাড়তে এবং একজন নারী ও মা হিসেবে নিজের স্বাধীনতা ও মর্যাদা বিসর্জন দিতে বলা হয়—যা তিনি মেনে নিতে পারেননি।
💔 বিবাহবার্ষিকীতে ‘উপহার’ ডিভোর্স পেপার! নীরব নির্যাতনের ভয়াবহ অধ্যায় খুললেন সেলিনা জেটলি
#CelinaJaitly #BollywoodNews #DivorceStory #CelebrityLife #EntertainmentNews #অধিকারপত্র #BollywoodBangla

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: