odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Saturday, 17th January 2026, ১৭th January ২০২৬
জাতীয় নিরাপত্তার কারণে ট্রাম্পের শুল্ক হুমকি কোন দেশ প্রতিক্রিয়া না দিলে শুল্ক বসানো হতে পারে

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে কঠোর ট্রাম্প: বিরোধিতাকারীদের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি

Special Correspondent | প্রকাশিত: ১৭ January ২০২৬ ০০:০০

Special Correspondent
প্রকাশিত: ১৭ January ২০২৬ ০০:০০

নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডকে মার্কিন ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত করার উচ্চাকাঙ্ক্ষায় আবারও বিশ্বজুড়ে উত্তাপ ছড়িয়েছেন। শুক্রবার হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক সভায় তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যেসব দেশ তার এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করবে তাদের ওপর নতুন করে বাণিজ্য শুল্ক (Tariffs) আরোপ করা হতে পারে।

সহজ বা কঠিন পথ—ট্রাম্পের আল্টিমেটাম

গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক একটি বৈঠকে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প বলেন, আমি ওই দেশগুলোর ওপর শুল্ক বসাতে পারি যারা গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে আমাদের সাথে একমত হবে না। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে আমাদের গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন  যুক্তরাষ্ট্র এই দ্বীপটি হয় সহজ পথে (ক্রয় বা চুক্তির মাধ্যমে) নেবে অথবা কঠিন পথে (শক্তির প্রয়োগ) অগ্রসর হবে। উল্লেখ্য ডেনমার্কের অধীনে থাকা এই স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে উত্তর আমেরিকা ও আর্কটিক অঞ্চলের মধ্যবর্তী অবস্থানের কারণে একে সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বা জাহাজ চলাচলের ওপর নজরদারির জন্য একটি আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম' হিসেবে দেখছে ওয়াশিংটন।

আন্তর্জাতিক মহলে তোলপাড় ও সামরিক তৎপরতা

ট্রাম্পের এই অনমনীয় অবস্থানের বিপরীতে ডেনমার্ক কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেছেন কোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিলে তা উত্তর আটলান্টিক সামরিক জোট বা NATO-র সমাপ্তি ঘটাতে পারে। ইউরোপীয় মিত্ররাও ডেনমার্কের পাশে দাঁড়িয়েছে। ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেন ও যুক্তরাজ্য ইতিমধ্যে গ্রিনল্যান্ডে সীমিত সংখ্যক সেনা পাঠিয়ে একটি রিকনাইসেন্স মিশন শুরু করেছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন দ্রুতই সেখানে আকাশ ও সমুদ্রপথে আরও সরঞ্জাম পাঠানো হবে।

ওয়াশিংটনে দ্বিধাবিভক্ত রাজনীতি

ট্রাম্প যখন হুমকির সুর চড়াচ্ছেন ঠিক তখনই যুক্তরাষ্ট্রের একটি ১১ সদস্যের দ্বিপাক্ষিক প্রতিনিধি দল ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড সফর করছে। ডেমোক্র্যাট এবং রিপাবলিকান উভয় দলের এই সদস্যরা মিত্রদের আশ্বস্ত করতে চাইছেন যে ট্রাম্পের বক্তব্য মার্কিন জনগণের সার্বিক মনোভাবের প্রতিফলন নয়।

সিনেটর ক্রিস কুন্স (ডেমোক্র্যাট): তিনি জানান, পরিস্থিতির উত্তেজনা প্রশমিত করাই তাদের সফরের লক্ষ্য।

সিনেটর লিসা মুরকোস্কি (রিপাবলিকান): তিনি গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে একটি বিলের সহ-পৃষ্ঠপোষকতা করছেন। তার মতে কংগ্রেসের হাতে বাজেট নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা রয়েছে যা দিয়ে এই ধরনের সামরিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ঠেকানো সম্ভব।

কেন গ্রিনল্যান্ড ট্রাম্পের লক্ষ্য?

ট্রাম্পের দাবি, রাশিয়া এবং চীনের হাত থেকে আর্কটিক অঞ্চলকে রক্ষা করতে যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি গ্রিনল্যান্ডের মালিক হতে হবে। যদিও গ্রিনল্যান্ডের এমপি আজা চেমনিটজ বলেন, আসল হুমকি আসছে যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকেই। গ্রিনল্যান্ডের প্রাকৃতিক সম্পদ এবং খনিজ ভাণ্ডারও এই আগ্রহের অন্যতম বড় কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বর্তমানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকে পরিচালিত পিতুফিক (Pituffik) ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের ১০০ জনেরও বেশি সেনা মোতায়েন রয়েছে। বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র সেখানে সেনা বাড়াতে পারলেও, ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য হলো অঞ্চলটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বা মালিকানা।

 --মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: