odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Saturday, 17th January 2026, ১৭th January ২০২৬
গাজায় যুদ্ধোত্তর শাসন ও পুনর্গঠনের রূপরেখা বাস্তবায়নে কাজ করবে নতুন বোর্ড। ট্রাম্পের নেতৃত্বে গঠিত বোর্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বরা। নির্বাহী বোর্ডে নেই কোনো ফিলিস্তিনি প্রতিনিধি, উঠেছে প্রশ্ন।

গাজা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘বোর্ড অব পিস’: কারা আছেন নির্বাহী বোর্ডে

Special Correspondent | প্রকাশিত: ১৭ January ২০২৬ ১৭:৩৫

Special Correspondent
প্রকাশিত: ১৭ January ২০২৬ ১৭:৩৫

নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র

গাজায় যুদ্ধোত্তর শাসন ও পুনর্গঠন কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে নতুন একটি সংস্থা গঠন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। বোর্ড অব পিস ফর গাজা নামের এই উদ্যোগের নির্বাহী বোর্ডের সদস্যদের নাম সম্প্রতি প্রকাশ করেছে হোয়াইট হাউস। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই এই বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। বোর্ডটি গাজায় অস্থায়ী শাসনব্যবস্থা ও পুনর্গঠন কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বে থাকা একটি টেকনোক্র্যাট কমিটির ওপর নজরদারি করবে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, নির্বাহী বোর্ডের প্রতিটি সদস্য গাজার স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ আলাদা আলাদা খাতের দায়িত্বে থাকবেন, যদিও এখনো নির্দিষ্ট দায়িত্ব বণ্টনের ঘোষণা আসেনি। ঘোষিত তালিকায় কোনো নারী বা ফিলিস্তিনি সদস্য নেই। তবে হোয়াইট হাউস বলেছে আগামী সপ্তাহগুলোতে বোর্ডে আরও সদস্য যুক্ত হতে পারেন।

১. প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী বোর্ডের (Founding Executive Board) সদস্যবৃন্দ:

এই উচ্চপর্যায়ের কমিটিতে ট্রাম্পের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত ব্যক্তিত্বদের রাখা হয়েছে:

স্যার টনি ব্লেয়ার: যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তিনি এই বোর্ডের একমাত্র অ-মার্কিন সদস্য। ইরাক যুদ্ধের ভূমিকার কারণে তার অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বিতর্ক থাকলেও মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক কোয়ার্টেট দূত হিসেবে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

মার্কো রুবিও: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি গাজার ভূ-রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক দিকগুলো দেখভাল করবেন।

স্টিভ উইটকফ: মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত এবং ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী বন্ধু। তিনি গাজার নিরস্ত্রীকরণ ও পুনর্গঠনের দ্বিতীয় ধাপের ঘোষণা দিয়েছেন।

জ্যারেড কুশনার: ট্রাম্পের জামাতা ও সাবেক উপদেষ্টা। আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের কারিগর হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের বিনিয়োগ ও রিয়েল এস্টেট উন্নয়নে তার বিশেষ নজর থাকবে।

মার্ক রোয়ান: বিলিয়নেয়ার এবং অ্যাপোলো গ্লোবাল ম্যানেজমেন্টের সিইও। গাজার জন্য বিশাল অংকের বিনিয়োগ ও মূলধন সংগ্রহের দায়িত্ব তার ওপর থাকতে পারে।

অজয় বাঙ্গা: বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট। গাজার অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আর্থিক সহায়তায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

রবার্ট গ্যাব্রিয়েল: মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সহযোগী।

২. মাঠ পর্যায়ের তদারকি ও প্রশাসন:

বোর্ড অব পিস মূলত নীতিনির্ধারণী ভূমিকা পালন করলেও মাঠ পর্যায়ে কাজ করবে দুটি বিশেষ কমিটি:

নিকোলে ম্লাদেনভ (High Representative): বুলগেরিয়ার এই সাবেক কূটনীতিক এবং জাতিসংঘের সাবেক মধ্যপ্রাচ্য দূত গাজায় 'বোর্ড অব পিস'-এর প্রধান প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করবেন। তিনি ট্রাম্পের বোর্ড এবং গাজার স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে থাকবেন।

ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা (NCAG): এটি একটি ১৫ সদস্যের ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট কমিটি, যা গাজার দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করবে। এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সাবেক উপ-মন্ত্রী আলী শাথ (Ali Shaath)।

৩. নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা:

গাজার পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ এবং শান্তি বজায় রাখতে একটি 'আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী' (International Stabilisation Force - ISF) গঠন করা হয়েছে। এর কমান্ডার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মার্কিন মেজর জেনারেল জ্যাসপার জেফারস (Jasper Jeffers)।

বিতর্ক ও সমালোচনা:

বোর্ড অব পিস-এর শীর্ষ পর্যায়ে কোনো নারী বা ফিলিস্তিনি সদস্য না থাকায় এরই মধ্যে সমালোচনা শুরু হয়েছে। তবে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে আগামী সপ্তাহগুলোতে আরও সদস্যের নাম ঘোষণা করা হতে পারে।

 --মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: