বিশেষ প্রতিনিধি, অধিকার পত্র ডটকম
ভয়াবহ শীতকালীন তুষারঝড়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েক লাখ বাড়ি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে এবং দেশজুড়ে বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
মার্কিন জাতীয় আবহাওয়া বিভাগ (এনডব্লিউএস) জানিয়েছে, টেক্সাস থেকে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত ‘প্রাণঘাতী’ শীতকালীন আবহাওয়া পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এর ফলে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে এবং হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, লুইজিয়ানায় অন্তত দুজন এবং টেক্সাস, টেনেসি ও কানসাসে আরও পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। লুইজিয়ানার স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, সেখানে দুজন হাইপোথার্মিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
পাওয়ারআউটেজ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, রোববার বিকেল নাগাদ আট লাখের বেশি বাড়ি বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন ছিল। একই সময় ফ্লাইট ট্র্যাকিং সাইট ফ্লাইটঅ্যাওয়ার জানায়, শীতকালীন ঝড়ের কারণে ১১ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
এই ঝড়ের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১৮ কোটি মানুষ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি। নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসি, কেন্টাকি ও ভার্জিনিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক তুষারপাত ও বরফ পড়ার খবর পাওয়া গেছে।
নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হকুল বাসিন্দাদের ঘর থেকে বের না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এটি কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় ও শীতল তুষারঝড়। কেন্টাকির গভর্নর অ্যান্ডি বেসিয়ার জানান, বরফের পরিমাণ পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই ঝড়ের সবচেয়ে বড় বিপদ হলো বরফ জমে যাওয়া, যা গাছ ভেঙে পড়া, বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। ইতোমধ্যে ভার্জিনিয়া ও কেন্টাকিতে শতাধিক দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি কানাডার বিভিন্ন এলাকাতেও ভারী তুষারপাত হয়েছে। সেখানে শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং অন্টারিও প্রদেশে ১৫ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত তুষারপাত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: