নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র
আগামী মাসে ইতালিতে শুরু হতে যাওয়া মিলানো-কর্তিনা ২০২৬ শীতকালীন অলিম্পিকে নিরাপত্তা সহযোগিতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিতর্কিত সংস্থা 'আইসিই' (ICE)-এর এজেন্টদের পাঠানোর সিদ্ধান্তে উত্তাল হয়ে উঠেছে ইতালির রাজনীতি। মিলানের মেয়র থেকে শুরু করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী সবাই এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
মূল বিতর্কের কারণ
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপলিসে অভিবাসন বিরোধী অভিযানের সময় আইসিই এজেন্টদের গুলিতে দুই মার্কিন নাগরিক (অ্যালেক্স প্রেত্তি এবং রেনি গুড) নিহত হওয়ার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে সমালোচনা চলছে। এই প্রেক্ষাপটে ইতালির মাটিতে তাদের উপস্থিতি মেনে নিতে পারছেন না দেশটির অনেক নেতা।
ইতালীয় নেতাদের কড়া প্রতিক্রিয়া
জুসেপ্পে সালা (মিলানের মেয়র): আইসিই-কে একটি হত্যাকারী মিলিশিয়া হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন মিলানে তাদের কোনো স্বাগতম নেই। তারা আমাদের গণতান্ত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন ইতালির কি ট্রাম্প প্রশাসনকে না বলার সাহস নেই?
জুসেপ্পে কোন্তে (সাবেক প্রধানমন্ত্রী): তিনি বর্তমান মেলোনি সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে বলেন আমাদের নিজেদের সীমা নির্ধারণ করতে হবে। ইতালিতে আইসিই এজেন্টদের নিরাপত্তা দিতে আসা আমরা মেনে নিতে পারি না। সরকারের মাথা নত করার রাজনীতি বন্ধ করা উচিত।
কার্লো ক্যালেন্দা (আইনপ্রণেতা): তিনি আইসিই-কে একটি সহিংস এবং অনিয়ন্ত্রিত বাহিনী হিসেবে অভিহিত করে তাদের ইতালিতে পা না রাখার হুশিয়ারি দিয়েছেন।
মার্কিন ও ইতালীয় সরকারের অবস্থান
তীব্র সমালোচনার মুখে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (DHS) স্পষ্ট করেছে যে আইসিই এজেন্টরা ইতালিতে কোনো ধরনের অভিবাসন বিরোধী অভিযান চালাবে না। তাদের কাজ হবে শুধুমাত্র মার্কিন কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধী চক্রের ঝুঁকি মোকাবিলায় সহযোগিতা করা। ইতালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও পিয়ান্তেদোসি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছেন। তারা রাস্তায় মেশিনগান নিয়ে টহল দেবে না বা জনশৃঙ্খলা রক্ষা করবে না। তারা শুধুমাত্র অপারেশনাল কন্ট্রোল রুমে বসে কারিগরি সহযোগিতা করবে। এটি কোনো নাৎসি বাহিনীর আগমন নয়।
বর্তমান পরিস্থিতি
ইতালির বিভিন্ন বিরোধী দল এবং সাধারণ নাগরিকরা ইতোমধ্যে এই মোতায়েনের বিরুদ্ধে পিটিশন এবং বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। বিশেষ করে মিলানের রাস্তায় 'ICE OUT' স্লোগানে বিক্ষোভের প্রস্তুতি চলছে। আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে, যা ঘিরে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক উত্তেজনা এখন তুঙ্গে।
--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: