নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র
দীর্ঘ দেড় বছরের প্রতীক্ষা আর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আগামীকাল ১২ মার্চ, ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) সকাল ১১টায় বসছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত এই প্রথম সংসদীয় অধিবেশন ঘিরে জনমনে বইছে ব্যাপক কৌতূহল। সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এই অধিবেশন আহ্বান করেছেন।
স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন: কে আসছেন নেতৃত্বে?
অধিবেশনের প্রথম বৈঠকেই সম্পন্ন হবে নতুন সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন। এবারের সংসদীয় সমীকরণে কিছু নতুনত্ব লক্ষ্য করা যাচ্ছে:
স্পিকার পদ: বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করলেও স্পিকার পদে অভিজ্ঞ কাউকে খুঁজছে দলটি। আলোচনায় রয়েছেন ড. আবদুল মঈন খান, ওসমান ফারুক এবং হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এর মধ্যে হাফিজ উদ্দিন আহমদের নাম সবচেয়ে জোরালোভাবে শোনা যাচ্ছে।
ডেপুটি স্পিকার: রাজনৈতিক উদারতার অংশ হিসেবে বিএনপি এই পদটি বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীকে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে জামায়াত এটি 'অনুগ্রহ' হিসেবে না নিয়ে জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী তাদের প্রাপ্য হিসেবে দাবি করছে। আজ বুধবার বিরোধী দলের বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে।
সভাপতিত্ব নিয়ে সাময়িক সংকট
সাধারণত বিদায়ী স্পিকার প্রথম বৈঠকের শুরুতে সভাপতিত্ব করেন। কিন্তু সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর পদত্যাগ এবং বিদায়ী ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু কারাগারে থাকায় একটি সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে। কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির মনোনীত কোনো সদস্য এই দায়িত্ব পালন করবেন। এ ক্ষেত্রে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম আলোচনায় রয়েছে।
প্রথম অধিবেশনের প্রধান কার্যসূচি
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দিনের অধিবেশনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন হবে:
১. শপথ ও নির্বাচন: শুরুতে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং তাদের শপথ গ্রহণ।
২. শোক প্রস্তাব: প্রয়াত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শোক প্রস্তাব উত্থাপন।
৩. রাষ্ট্রপতির ভাষণ: সংবিধান অনুযায়ী নতুন সংসদের শুরুতে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেবেন। পরবর্তীতে এই ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে।
৪. অধ্যাদেশ উত্থাপন: অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ (যেমন: সাইবার সুরক্ষা সংশোধন, গুম প্রতিরোধ, বাংলাদেশ ব্যাংক সংশোধন ইত্যাদি) সংসদে পেশ করবেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, ৩০ দিনের মধ্যে এগুলো অনুমোদন না পেলে তার কার্যকারিতা থাকবে না।
অতিথিদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা
সংসদ ভবন এলাকায় যানজট এড়াতে এবং নিরাপত্তা বজায় রাখতে আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। অতিথিদের প্রবেশের জন্য বকুলতলা (১২ নম্বর গেট) ও আসাদগেট (১ নম্বর গেট) ব্যবহারের অনুরোধ জানানো হয়েছে। স্টিকার অনুযায়ী নির্ধারিত স্থানে গাড়ি পার্কিং এবং ট্রাফিক নির্দেশনা মানতে বলা হয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিপুল জনরায় নিয়ে গঠিত এই সংসদ আগামী ৫ বছর অর্থাৎ ২০৩১ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হবে। দেশের প্রশাসনিক সংস্কার ও আইনি কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে শুরু হওয়া এই সংসদ কতটুকু সফল হয় সেটিই এখন দেখার বিষয়।
--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: