odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Wednesday, 25th March 2026, ২৫th March ২০২৬
প্রেসক্লাবের ফটকে তালা ঝুলিয়ে উত্তেজনা, সাংবাদিকদের তালা ভেঙে প্রবেশ; অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

গোদাগাড়ী প্রেসক্লাব দখলের চেষ্টা: জুলাই যোদ্ধার তালা ভাঙলেন সাংবাদিকরা

Special Correspondent | প্রকাশিত: ২৫ March ২০২৬ ১৯:১৫

Special Correspondent
প্রকাশিত: ২৫ March ২০২৬ ১৯:১৫

নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জুলাই যোদ্ধা নামের একটি সংগঠনের কার্যালয় স্থাপনের উদ্দেশ্যে উপজেলা প্রেসক্লাব দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে প্রেসক্লাবের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয় সংগঠনটি। পরে সাংবাদিকরা সেই তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আন্দোলনে গোদাগাড়ী উপজেলা সদরে আহত ৩২ জনকে নিয়ে গঠিত হয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জুলাই যোদ্ধা নামের এই সংগঠনটি। অভিযোগ উঠেছে তারা বর্তমানে প্রেসক্লাব ভবনটি দখল করে নিজেদের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। উল্লেখ্য, ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রেসক্লাবটি ২০০৯ সাল থেকে ডাইংপাড়া মোড়ে নিজেদের নির্মিত একতলা ভবনে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। দীর্ঘদিন এর সভাপতি ছিলেন আলমগীর কবির (তোতা), যাঁর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ হওয়ার অভিযোগ তুলে জুলাই যোদ্ধারা আগে থেকেই ভবনটি দখলের চেষ্টা করছিল।

তালা ও পাল্টা অভিযোগ

সম্প্রতি প্রেসক্লাবে নতুন কমিটি গঠন করা হয় যেখানে সভাপতি হিসেবে আমার দেশ প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ‘কালবেলা’র জামিল আহমেদ দায়িত্ব নেন। নতুন কমিটির কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর গতকাল মঙ্গলবার সকালে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. মুরশালিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে দাবি করা হয়, প্রেসক্লাবের ব্যানারে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসিত হওয়ার চেষ্টা করছে। ইউএনওর কাছে অভিযোগ দেওয়ার পরপরই প্রেসক্লাবের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। তালা দেওয়ার বিষয়ে মো. মুরশালিন বলেন ওখানে সব আওয়ামী লীগের দোসরেরা থাকত। ৫ তারিখের (৫ আগস্ট) পরে এটি বন্ধ ছিল। আওয়ামী লীগের কোনো দোসরকে এলাকায় কাজ করতে দেওয়া হবে না।

নিরাপত্তাহীনতায় সাংবাদিকরা

প্রেসক্লাবের বর্তমান সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা তিলে তিলে এই প্রেসক্লাব গড়ে তুলেছি। যাঁকে নিয়ে আপত্তি ছিল, তাঁকে বাদ দিয়েই নতুন কমিটি করা হয়েছে। এখানে নিছক সাংবাদিকতার চর্চা হয়। তারপরও এটি দখলের চেষ্টা অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমরা থানায় ও ইউএনওর কাছে গেলেও কেউ দায়িত্ব নিতে চাচ্ছেন না। আমরা বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। অন্যদিকে জুলাই যোদ্ধা সংগঠনের সভাপতি সাবিয়ার রহমান মিল্টন (যিনি পৌর যুবদলের নেতা) দাবি করেন, তিনি তালা লাগানোর পক্ষে ছিলেন না এবং বিষয়টি সম্পর্কে আগে থেকে অবগত ছিলেন না। তবে তিনি মনে করেন বর্তমান সাংবাদিকদের অনেকেই বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগের অনুসারী ছিলেন।

প্রশাসনের বক্তব্য

গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির জানান, তারা অভিযোগ পেয়েছেন। তবে বিষয়টি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক হওয়ায় ইউএনও এটি দেখবেন বলে তিনি জানান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুস সাদাত রত্ন বলেন, প্রেসক্লাবে তালা দেওয়া হয়েছিল, যা সাংবাদিকরা পরে ভেঙে ঢুকেছেন। কেন এই পরিস্থিতি তৈরি হলো তা দুই পক্ষের বক্তব্য শুনলে বোঝা যাবে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে প্রেসক্লাব এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং স্থানীয় সাংবাদিকরা পেশাগত নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন।

--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: