odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Sunday, 5th April 2026, ৫th April ২০২৬
ছয়টি ভিন্ন শিক্ষা ধারার শিক্ষা বনাম একটি খণ্ডিত জাতি—আমরা কি একই মানচিত্রের নিচে তিনটি আলাদা দেশ গড়ছি?

সংবিধানের কান্না ও ১৭ অনুচ্ছেদের হাহাকার—এক স্বপ্ন, বহু বাস্তবতা, আর এক জাতির সন্ধান: ৫৪ বছরেও কেন মেলেনি একমুখী শিক্ষার স্বাদ?

Dr Mahbub | প্রকাশিত: ৫ April ২০২৬ ০৩:২৭

Dr Mahbub
প্রকাশিত: ৫ April ২০২৬ ০৩:২৭

অধিকারপত্র শিক্ষা সংস্কার ধারাবাহিক

১৯৭২ সালের সংবিধানে যে একমুখী, গণমুখী ও সর্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থার স্বপ্ন আঁকা হয়েছিল, ৫৪ বছর পর সেই স্বপ্ন কেন বাস্তবে ভেঙে গেছে—এই ফিচার নিবন্ধটি সেই প্রশ্নের গভীরে পৌঁছানোর চেষ্টা করে; এখানে উঠে আসে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার বহুমুখী বিভাজনের জটিল চিত্র, যেখানে বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম, উপানুষ্ঠানিক উন্মুক্ত, মাদ্রাসা ও কারিগরি ধারার শিক্ষার্থীরা একই দেশের নাগরিক হয়েও ভিন্ন বাস্তবতায় বড় হচ্ছে, আর সংবিধানের কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, রাজনৈতিক অর্থনীতি, শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ ও সামাজিক বাস্তবতা মিলেমিশে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যেখানে শিক্ষা অধিকার না হয়ে সুযোগে পরিণত হয়েছে; সংখ্যার অগ্রগতির আড়ালে লুকিয়ে থাকা ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের নীরব গল্প, অসম প্রতিযোগিতা এবং ক্রমবর্ধমান সামাজিক বিচ্ছিন্নতার বাস্তবতা এই আলোচনায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে, এবং শেষ পর্যন্ত প্রবন্ধটি এক অস্বস্তিকর কিন্তু জরুরি প্রশ্ন সামনে আনে—আমরা কি সত্যিই একটি অভিন্ন জাতি গড়তে পারছি, নাকি একই মানচিত্রের নিচে ধীরে ধীরে তৈরি হচ্ছে একাধিক বিচ্ছিন্ন সমাজ; ফলে বিষয়টি আর কেবল শিক্ষার সংকটে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং তা জাতীয় সংহতি, ন্যায়বিচার এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র নির্মাণের কেন্দ্রীয় প্রশ্নে পরিণত হয়।

এক স্বপ্নের জন্ম, এক সীমাবদ্ধতার বীজ

১৯৭২ সালের এক শীতল ভোরে, স্বাধীনতার উচ্ছ্বাস তখনও বাতাসে ভাসছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশ নতুন করে দাঁড়াতে শিখছে, আর সেই দাঁড়ানোর শক্তি হিসেবে কল্পনা করা হচ্ছে শিক্ষা—একটি এমন শক্তি, যা ভাঙা সমাজকে জোড়া লাগাতে পারে, বৈষম্যের রেখা মুছে দিতে পারে। সেই প্রেক্ষাপটেই রচিত হয়েছিল বাংলাদেশের সংবিধান, আর তার ভেতরে লেখা হয়েছিল ১৭ অনুচ্ছেদ—একটি প্রতিশ্রুতি, যা ছিল একসাথে স্বপ্নও, আবার ভবিষ্যতের নকশাও।

সেখানে বলা হয়েছিল একটি একমুখী, গণমুখী ও সর্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থার কথা। কল্পনা ছিল, দেশের প্রতিটি শিশুর জন্য একই দরজা খুলে যাবে—সে শহরের হোক বা গ্রামের, ধনী পরিবারের হোক বা দরিদ্রের ঘর থেকে উঠে আসুক। শিক্ষা হবে সমতার সেতু, বিভেদের দেয়াল নয়।

কিন্তু এই উজ্জ্বল প্রতিশ্রুতির ভেতরেই নিঃশব্দে রয়ে গেল একটি মৌলিক সীমাবদ্ধতা। ১৭ অনুচ্ছেদটি স্থান পেল সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে—রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে। ফলে এটি হয়ে উঠল একটি নৈতিক দিকনির্দেশনা, আইনি অধিকার নয়। এর অর্থ ছিল স্পষ্ট, যদিও তা উচ্চারিত হয়নি—রাষ্ট্র ব্যর্থ হলেও নাগরিকের হাতে থাকবে না আদালতের দরজায় কড়া নাড়ার ক্ষমতা।

এই একটিমাত্র কাঠামোগত সীমাবদ্ধতাই সময়ের সাথে একটি বড় শূন্যতায় রূপ নেয়। আমরা শিক্ষা নিয়ে কথা বলেছি, স্লোগান দিয়েছি, পরিকল্পনা করেছি—কিন্তু সেই কথার পেছনে আইনি শক্তি না থাকায় তা বাস্তবের মাটিতে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পারেনি। শিক্ষা তখন হয়ে উঠেছে প্রত্যাশা, কিন্তু অধিকার নয়; দাবি নয়, বরং অনুরোধ।

সংখ্যার আলো, বাস্তবতার ছায়া

স্বাধীনতার পর থেকে আমরা উন্নয়নের নানা সূচক নিয়ে গর্ব করেছি। স্বাক্ষরতার হার বেড়েছে, স্কুলের সংখ্যা বেড়েছে, মেয়েদের শিক্ষায় অংশগ্রহণ বেড়েছে—এই সবই নিঃসন্দেহে ইতিবাচক পরিবর্তন। কিন্তু এই সংখ্যার আড়ালে লুকিয়ে আছে এমন কিছু প্রশ্ন, যা আমরা খুব একটা উচ্চারণ করি না।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য বলছে, ২০১৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ঝরে পড়ার হার প্রায় তিনগুণ বেড়েছে। এই একটি তথ্যই আমাদের চোখ খুলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। কারণ এটি শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়; এটি হাজার হাজার অসমাপ্ত গল্পের প্রতিচ্ছবি। যারা স্কুলে ভর্তি হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারেনি—তাদের প্রতিটি গল্পের পেছনে আছে একেকটি বাস্তবতা।

আরো পড়ুন: অর্জনের শিখর ছুঁয়ে কেন অনিশ্চয়তায়—বিগত অন্তবর্তীকালীন সময়ে প্রাথমিক শিক্ষায় বাজেট কাটছাঁট ও অস্থিরতায় শিশুদের ভবিষ্যৎ বিপন্ন/ বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার ধারাবাহিক যাত্রায় ছন্দপতন: গুরুগৃহ থেকে ৯৮% এনরোলমেন্ট—তারপর হঠাৎ পতন! বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা কোন পথে?

এই বাস্তবতার বড় একটি অংশ অর্থনৈতিক। আমরা বলি “বিনামূল্যে” শিক্ষা, কিন্তু সেই শিক্ষার আড়ালে লুকিয়ে থাকে অসংখ্য খরচ—বই, খাতা, ইউনিফর্ম, যাতায়াত, কোচিং। এই খরচগুলো অনেক পরিবারের জন্য এমন এক বোঝা, যা তারা দীর্ঘদিন বহন করতে পারে না। ফলে শিশুটি স্কুলে যায়, কিন্তু কিছুদিন পর আর যায় না। ভর্তি হওয়ার সুযোগ থাকলেও টিকে থাকার পথ সবার জন্য সমান নয়।

এই অবস্থায় শিক্ষা ধীরে ধীরে অধিকার থেকে সরে গিয়ে সুযোগের প্রশ্নে পরিণত হয়। দরজা খোলা থাকে, কিন্তু সেই দরজায় পৌঁছানোর রাস্তা সবার জন্য একরকম মসৃণ নয়। কেউ সহজেই পৌঁছে যায়, কেউ পথেই থেমে যায়।

ভাঙা আয়নার মতো শিক্ষাব্যবস্থা

আজকের বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে যদি এক ছবিতে কল্পনা করা হয়, তবে সেটি হবে একটি ভাঙা আয়না। দূর থেকে এক মনে হলেও কাছ থেকে দেখলে বোঝা যায়—প্রতিটি টুকরো আলাদা, প্রতিটি প্রতিফলন ভিন্ন।

বাংলা মাধ্যম এই আয়নার সবচেয়ে বড় অংশ—বৃহৎ জনগোষ্ঠীর আশ্রয়স্থল। কিন্তু এই ধারাটি নানা সীমাবদ্ধতায় জর্জরিত। অবকাঠামোগত ঘাটতি, শিক্ষক সংকট, মানের তারতম্য—সব মিলিয়ে এটি অনেক সময় তার নিজস্ব শক্তিটুকু ধরে রাখতে পারে না। এই মূলধারার বাংলা মাধ্যমের আরেকটি রূপ হচ্ছে ইংরেজি ভার্সন। এ যেন এক মাঝামাঝি অবস্থান—না পুরোপুরি দেশীয়, না পুরোপুরি আন্তর্জাতিক। এটি মূলত মধ্যবিত্তের এক ধরনের দোলাচলের প্রতিফলন—একদিকে নিজের শেকড়, অন্যদিকে বিশ্বায়নের আকর্ষণ। কিন্তু ইংরেজি মাধ্যম আবার এক ভিন্ন জগত তৈরি করেছে। এখানে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক পাঠক্রমে বড় হয়, বৈশ্বিক সুযোগের জন্য প্রস্তুত হয়। কিন্তু অনেক সময় এই প্রস্তুতির ভেতরেই স্থানীয় বাস্তবতার সাথে তাদের সংযোগ দুর্বল হয়ে পড়ে। অপরদিকে মাদ্রাসা ধারায়ও রয়েছে ভিন্নতা। আলিয়া মাদ্রাসা চেষ্টা করে ধর্মীয় শিক্ষা ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয় ঘটাতে। অন্যদিকে কওমি মাদ্রাসা ঐতিহ্যকে ধরে রেখে নিজস্ব পথে এগিয়ে চলে। এই দুই ধারার ভেতরেও রয়েছে আলাদা অভিজ্ঞতা, আলাদা দৃষ্টিভঙ্গি। আর আছে কারিগরি শিক্ষা—যা হওয়ার কথা ছিল দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি, কিন্তু সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তা এখনো প্রান্তিক অবস্থানে। সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এটি যথাযথ মর্যাদা পায় না।

ই ছয়টি ধারা একই দেশে থেকেও তৈরি করেছে আলাদা আলাদা বাস্তবতা—ভাষা আলাদা, পাঠ আলাদা, স্বপ্নও আলাদা। এই সব ধারার সমষ্টিই আজকের বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা। কিন্তু তারা একে অপরের সাথে সংযুক্ত নয়; বরং আলাদা আলাদা পথে এগিয়ে চলছে।

ইতিহাসের গভীরে প্রোথিত বিভাজন

এই বিভাজন হঠাৎ তৈরি হয়নি। এই বিভাজন কোনো একদিনে তৈরি হয়নি। এর শিকড় অনেক গভীরে, ইতিহাসের ভেতরে। ঔপনিবেশিক আমলে লর্ড মেকলের শিক্ষা নীতি তৈরি করেছিল এক নতুন শ্রেণি, যারা শাসকের ভাষা ও চিন্তায় অভ্যস্ত। সেই ধারার প্রতিধ্বনি আজও শোনা যায় বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমের ব্যবধানে। অন্যদিকে ধর্মীয় পরিচয় রক্ষার প্রয়োজনে গড়ে ওঠে মাদ্রাসা শিক্ষা, যা সময়ের সাথে নিজস্ব কাঠামো তৈরি করে। ঔপনিবেশিক আমলে যে শিক্ষা ব্যবস্থা চালু হয়েছিল, তার উদ্দেশ্য ছিল প্রশাসনিক কাজে সহায়ক একটি শ্রেণি তৈরি করা। সেই শিক্ষা নীতির প্রভাব আজও রয়ে গেছে—বিশেষ করে ভাষাভিত্তিক বিভাজনে।

গবেষণায় দেখা যায়, এই বহুমুখী ধারাগুলো সময়ের সাথে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে এবং এখন তা সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের সাথে গভীরভাবে যুক্ত। রাজনৈতিক বাস্তবতা ও স্বার্থের সমীকরণ এই বিভাজনকে টিকিয়ে রাখতে সহায়ক হয়েছে। অন্যদিকে ধর্মীয় পরিচয় রক্ষার প্রয়োজনে গড়ে ওঠে কওমি মাদ্রাসা। স্বাধীনতার পর সবাইকে এক ধারায় আনার কথা বলা হলেও রাজনৈতিক বাস্তবতা, ভোটের সমীকরণ এবং গোষ্ঠীগত স্বার্থ সেই উদ্যোগকে বারবার থামিয়ে দেয়। ফলে ইতিহাসের পুরনো রেখাগুলো আজও আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার ভেতরে জীবন্ত।

স্বাধীনতার পর সবাইকে এক ধারায় আনার কথা বলা হলেও রাজনৈতিক বাস্তবতা, ভোটের হিসাব আর গোষ্ঠীগত স্বার্থ সেই প্রয়াসকে থামিয়ে দেয়। ফলে ইতিহাসের পুরনো রেখাগুলো আজও মুছে যায়নি; বরং আরও গাঢ় হয়েছে। অন্যদিকে ধর্মীয় পরিচয় রক্ষার প্রয়োজনে মাদ্রাসা শিক্ষা গড়ে ওঠে। এটি ছিল একটি সামাজিক প্রতিক্রিয়া, একটি সাংস্কৃতিক আত্মরক্ষার উপায়। সময়ের সাথে এটি একটি শক্তিশালী ধারায় পরিণত হয়। স্বাধীনতার পর একটি অভিন্ন শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলা হলেও বাস্তবে তা সম্ভব হয়নি। রাজনৈতিক বাস্তবতা, ভোটের হিসাব, এবং বিভিন্ন গোষ্ঠীর স্বার্থ এই প্রক্রিয়াকে জটিল করে তোলে। ফলে বিভাজন মুছে যাওয়ার বদলে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়।

একই মানচিত্রে বহু পৃথিবী

এই শিক্ষাগত বিভাজন এখন কেবল নীতিগত সমস্যা নয়; এটি সামাজিক বাস্তবতায় রূপ নিয়েছে। ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থী, বাংলা মাধ্যমের শিক্ষার্থী এবং মাদ্রাসার শিক্ষার্থী—তাদের জীবনযাপন, ভাষা, চিন্তা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ভিন্ন হয়ে উঠছে। গবেষণা বলছে, এই ভিন্ন ধারাগুলো শিক্ষার্থীদের দক্ষতা, বিশেষ করে ভাষাগত দক্ষতা ও উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের ক্ষেত্রে অসম প্রতিযোগিতা তৈরি করে। ফলে মেধার চেয়ে কাঠামোগত সুবিধা অনেক সময় বেশি প্রভাব ফেলে। এভাবে একই মানচিত্রের নিচে তৈরি হয় বিচ্ছিন্ন সামাজিক দ্বীপ—যেখানে সংযোগের সেতু ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ে।

এই বিভাজনের প্রভাব এখন সমাজের গভীরে পৌঁছে গেছে। আজ একজন ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থী, একজন বাংলা মাধ্যমের শিক্ষার্থী এবং একজন মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর জীবনযাপন, চিন্তা, ভাষা—সবকিছুতেই পার্থক্য তৈরি হয়েছে। তারা একই দেশের নাগরিক, কিন্তু তাদের অভিজ্ঞতা ভিন্ন। একজন বৈশ্বিক সুযোগের জন্য প্রস্তুত হয়, অন্যজন স্থানীয় বাস্তবতায় টিকে থাকার চেষ্টা করে, আরেকজন ভিন্ন আদর্শিক কাঠামোর ভেতরে বড় হয়।

আরো পড়ুন: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে প্রাথমিক শিক্ষা: অগ্রগতির ইতিহাস, না কি ফিরে আসা পাকিস্তানি ভূতের ছায়া? প্রাথমিক শিক্ষার ক্রমবিকাশ থেকে সংকট: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে পাকিস্তানি ভূতের ফিরে আসা ও বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার আলো-অন্ধকার

এই ভিন্নতা স্বাভাবিক হতে পারত, যদি তাদের মধ্যে একটি অভিন্ন ভিত্তি থাকত। কিন্তু সেই ভিত্তি দুর্বল হওয়ায় এই ভিন্নতা ধীরে ধীরে বিচ্ছিন্নতায় পরিণত হয়েছে। এই বিভাজনের প্রভাব শুধু শিক্ষাব্যবস্থায় সীমাবদ্ধ নেই; এটি সমাজের ভেতরেও গভীর ছাপ ফেলেছে। একজন ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থী যে বাস্তবতায় বড় হয়, আর একজন মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর জগৎ—দুটি যেন আলাদা পৃথিবী। ভাষা, দৃষ্টিভঙ্গি, স্বপ্ন—সবকিছুতেই ফারাক। মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা বাংলা মাধ্যমের শিক্ষার্থী প্রায়ই পড়ে যায় পরিচয়ের দোলাচলে। ফলে ধীরে ধীরে একটি জাতির ভেতর তৈরি হয় অদৃশ্য দ্বীপ—যেখানে মানুষ পাশাপাশি থেকেও একে অপরকে বুঝতে পারে না। ফলে একই মানচিত্রের ভেতরে তৈরি হয়েছে একাধিক বাস্তবতা—যেখানে মানুষ পাশাপাশি থেকেও একে অপরকে পুরোপুরি বুঝতে পারে না।

এক প্রতিশ্রুতির ভাঙা প্রতিফলন

সংবিধানে একদিন উচ্চারিত হয়েছিল একমুখী শিক্ষার স্বপ্ন—একটি এমন পথ, যেখানে সব শিশুর জন্য শিক্ষা হবে সমান, অভিন্ন, এবং মানবিক। কিন্তু সময়ের স্রোতে সেই স্বপ্ন যেন ভেঙে গিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে নানা ধারায়। বাইরে থেকে কাঠামোটি এক মনে হয়—প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক—কিন্তু ভেতরে ঢুকলেই বোঝা যায়, এটি আসলে বহু ভিন্ন পথে বিভক্ত এক বাস্তবতা।

এই বিভাজন শুধু পাঠ্যবই বা ভাষার নয়; এটি ধীরে ধীরে সমাজের ভেতরেও রেখা টেনে দেয়। একই দেশের শিশু, একই বয়সে, একেকজন বড় হতে থাকে একেক ধরনের জগতে। কারও কাছে স্কুল মানে সম্ভাবনার দরজা খুলে যাওয়া, আর কারও কাছে সেটিই হয়ে ওঠে সংগ্রামের প্রথম ধাপ।

শুরুর পথেই ভিন্নতা

শিক্ষার যাত্রা শুরু হয় প্রাথমিক স্তর থেকে, কিন্তু এই শুরুটাও সবার জন্য সমান নয়। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো রাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে থাকলেও বাস্তবে সেখানে সুযোগ-সুবিধা আর মানের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষকের অভাব, অবকাঠামোর দুর্বলতা কিংবা শিক্ষার পরিবেশের ঘাটতি সেই পথকে কঠিন করে তোলে।

অন্যদিকে বেসরকারি কিন্ডারগার্টেন, এনজিও পরিচালিত স্কুল কিংবা কমিউনিটি স্কুলগুলোতে আবার ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। কোথাও শৃঙ্খলা আর কাঠামো দৃঢ়, কোথাও সুযোগের বিস্তার, আবার কোথাও কেবল টিকে থাকার লড়াই। একই বয়সের শিশু, কিন্তু শুরুটাই আলাদা।

এর পাশাপাশি রয়েছে ইবতেদায়ী মাদ্রাসা, যেখানে ধর্মীয় শিক্ষার সাথে সাধারণ শিক্ষার একটি মিশ্র ধারা তৈরি হয়। ফলে শিক্ষার শুরুতেই শিশুরা ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বড় হতে থাকে—যার ছাপ পড়ে তাদের ভাবনায়, তাদের ভবিষ্যৎ দেখার দৃষ্টিতে।

মধ্যপথে বৈচিত্র্যের বিস্তার

মাধ্যমিক স্তরে এসে এই ভিন্নতাগুলো আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সরকারি বিদ্যালয়গুলো দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেও সেগুলোর সুযোগ সবার নাগালের মধ্যে নয়। অন্যদিকে এমপিওভুক্ত বেসরকারি স্কুলগুলো সরকারি সহায়তা পেলেও পরিচালনায় বৈচিত্র্য থাকায় মানের তারতম্য থেকে যায়।

ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো আবার আলাদা এক মানদণ্ড তৈরি করেছে—শৃঙ্খলা, কাঠামো এবং ফলাফলের দিক থেকে। কিন্তু এই সুযোগ সবার জন্য সমানভাবে উন্মুক্ত নয়।

সবচেয়ে দৃশ্যমান বিভাজনটি তৈরি হয় ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষায়। আন্তর্জাতিক পাঠক্রমে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানগুলো এক ভিন্ন জগত গড়ে তোলে, যেখানে প্রবেশাধিকার নির্ভর করে অর্থনৈতিক সামর্থ্যের ওপর। ফলে একই বয়সের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দূরত্ব কেবল ভাষার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; তা ছড়িয়ে পড়ে তাদের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার মধ্যেও।

নীরব বৈপরীত্যের গল্প

এই বহুমুখী বাস্তবতা সংবিধানের সেই অঙ্গীকারের সাথে এক অদ্ভুত বৈপরীত্য তৈরি করে। যেখানে বলা হয়েছিল সর্বজনীন ও গণমুখী শিক্ষার কথা, সেখানে বাস্তবে শিক্ষা হয়ে উঠছে সুযোগসুবিধানির্ভর এক ব্যবস্থা।

অর্থনৈতিক বৈষম্য এখানে বড় একটি ভূমিকা রাখে। যাদের সামর্থ্য আছে, তারা উন্নত শিক্ষার দিকে এগিয়ে যায়; আর যাদের নেই, তারা শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে। এর সাথে যুক্ত হয় মানের পার্থক্য—সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যে ফারাক, তা অনেক সময় প্রতিযোগিতার ময়দানকেই অসম করে দেয়।

সবচেয়ে গভীর সমস্যা হয়তো এখানেই—এই ভিন্ন ধারাগুলো ভিন্ন ধরনের মানুষ তৈরি করছে। তাদের দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা, প্রস্তুতি আলাদা, লক্ষ্যও আলাদা। ফলে একটি অভিন্ন জাতিগত চেতনা গড়ে ওঠার বদলে তৈরি হচ্ছে বিচ্ছিন্ন বাস্তবতা।

একই দেশের মানুষ হয়েও আমরা ধীরে ধীরে একে অপরের থেকে দূরে সরে যাচ্ছি—নীরবে, ধীরে, কিন্তু নিশ্চিতভাবে।

কেন ভাঙে না এই দেয়াল: স্বার্থ, ক্ষমতা নীরব বাস্তবতার গল্প

পাঁচ দশক পেরিয়ে গেছে, তবু শিক্ষার এই বিভাজন অটুট। যেন এক অদৃশ্য জাল, যা আমরা দেখতে পাই না, কিন্তু প্রতিদিন অনুভব করি। বাইরে থেকে বিষয়টি একটি নীতিগত সমস্যার মতো মনে হলেও, ভেতরে এটি আসলে জটিল রাজনৈতিক অর্থনীতি আর স্বার্থের গভীর সমীকরণে বাঁধা।

আজ শিক্ষা কেবল জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্র নয়; এটি এক বিস্তৃত বাজার। বিশেষ করে ইংরেজি মাধ্যম ও বেসরকারি শিক্ষাখাত ঘিরে তৈরি হয়েছে বড় এক অর্থনৈতিক বলয়, যেখানে বিনিয়োগ, লাভ আর প্রতিযোগিতা—সবই জড়িয়ে আছে। এই কাঠামোর ভেতরে একমুখী বা অভিন্ন শিক্ষাব্যবস্থা অনেকের জন্য অস্বস্তিকর, কারণ তা বিদ্যমান সুবিধার ভারসাম্য বদলে দিতে পারে। ফলে পরিবর্তনের প্রতিটি সম্ভাবনার সামনে অদৃশ্য এক প্রতিরোধ গড়ে ওঠে।

অন্যদিকে, মাদ্রাসা শিক্ষা কেবল একটি শিক্ষাধারা নয়; এটি একটি সামাজিক বাস্তবতা, একটি আবেগের জায়গা, আবার একইসাথে একটি রাজনৈতিক শক্তি। এই ধারার সঙ্গে যুক্ত মানুষের সংখ্যা বিপুল, এবং তাদের অবস্থান রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এই খাতে কোনো বড় ধরনের পরিবর্তন আনার প্রশ্ন এলেই তা হয়ে ওঠে সংবেদনশীল, অনেক সময় ঝুঁকিপূর্ণও।

এই দুই শক্তির মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকে নীতিনির্ধারকেরা। কিন্তু তাদের অবস্থানও নিরপেক্ষ নয়। যাদের হাতে সিদ্ধান্ত, তাদের বড় অংশের সন্তানরাই সুবিধাপ্রাপ্ত ধারায় শিক্ষা গ্রহণ করে। ফলে সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন নয়, বরং বিদ্যমান কাঠামো অক্ষুণ্ণ রাখার প্রবণতাই বেশি চোখে পড়ে। পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা বোঝা যায়, কিন্তু সেই পরিবর্তনের চাপ অনুভূত হয় না।

সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি এখানেই—শিক্ষা এখনো অধিকার হয়ে ওঠেনি। এটি এখনো সুযোগ হিসেবে বিবেচিত। আর যেখানে অধিকার নেই, সেখানে জবাবদিহিতাও তৈরি হয় না। আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকায় রাষ্ট্রের ওপর চাপও তৈরি হয় না। ফলে সংস্কারের কথা কাগজে লেখা থাকে, কিন্তু বাস্তবতায় তার প্রতিফলন ঘটে না।

পুরো অনুসন্ধানী প্রতিবেদন পড়ুন: “১৯৯০ সালের বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন—কাগজে কঠোর, বাস্তবে অকার্যকর; কোথায় কমিটি, কোথায় জবাবদিহি?”—অধিকারপত্র শিক্ষা সংস্কার ধারাবাহিক

এই কাঠামোগত বাস্তবতার প্রভাব ধীরে ধীরে সমাজের ভেতরেও ছড়িয়ে পড়েছে। আজ একজন ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থী, একজন বাংলা মাধ্যমের শিক্ষার্থী এবং একজন মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর জীবনযাপন যেন তিনটি আলাদা পৃথিবীর গল্প বলে। তাদের ভাষা ভিন্ন, চিন্তার ধরন ভিন্ন, ভবিষ্যৎ কল্পনার দিগন্তও ভিন্ন। ফলে একই দেশের নাগরিক হয়েও তারা আলাদা অভিজ্ঞতায় বড় হয়।

এই ভিন্নতা কেবল বৈচিত্র্য নয়; এটি অনেক সময় অসম প্রতিযোগিতার জন্ম দেয়। বিশেষ করে ভাষাগত দক্ষতা এবং উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের ক্ষেত্রে এই পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মেধা থাকলেও সুযোগের অভাবে অনেকেই পিছিয়ে পড়ে, আবার সুবিধার কারণে কেউ এগিয়ে যায়। ফলে প্রতিযোগিতার ময়দান আর সমান থাকে না।

সবচেয়ে জটিল অবস্থানে থাকে বাংলা মাধ্যমের শিক্ষার্থীরা। তারা যেন দুই জগতের মাঝখানে দাঁড়িয়ে—একদিকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার চাপ, অন্যদিকে নিজের শেকড়ের বাস্তবতা। এই দ্বিধা অনেক সময় তাদের ভেতরে এক ধরনের পরিচয়ের সংকট তৈরি করে।

এভাবেই একই মানচিত্রের নিচে তৈরি হয় অদৃশ্য সামাজিক দ্বীপ—যেখানে মানুষ পাশাপাশি থেকেও একে অপরকে পুরোপুরি বুঝতে পারে না। সংযোগের সেতুগুলো ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে, আর বিভাজন হয়ে ওঠে স্বাভাবিক।

এই বিভাজন টিকে থাকার পেছনে তাই কেবল অভ্যাস কাজ করে না; কাজ করে শক্তিশালী স্বার্থের জাল। একবার কোনো কাঠামো তৈরি হয়ে গেলে তা ভাঙা সহজ নয়। বরং সময়ের সাথে তা আরও শক্ত হয়, আরও প্রাতিষ্ঠানিক হয়ে ওঠে।

শিক্ষার বাজার, রাজনীতির হিসাব আর ক্ষমতার বাস্তবতা—সব মিলিয়ে এই বিভাজন এখন একটি নীরব কিন্তু গভীর বাস্তবতা। এটি দৃশ্যমান নয়, কিন্তু প্রভাবশালী; উচ্চারিত নয়, কিন্তু উপস্থিত। আর এই উপস্থিতিই আমাদের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি রেখে যায়—আমরা কি সত্যিই এই দেয়াল ভাঙতে প্রস্তুত?

দক্ষিণ এশিয়ার আয়নায় আমাদের অবস্থান

আমাদের আশপাশের দেশগুলো এই প্রশ্নে ভিন্ন পথ নিয়েছে। তারা শিক্ষাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, এবং সেই অনুযায়ী আইনি কাঠামো তৈরি করেছে।

ফলে সেখানে শিক্ষা আর কেবল একটি প্রতিশ্রুতি নয়; এটি একটি বাধ্যবাধকতা। রাষ্ট্রকে তার দায়িত্ব পালন করতে হয়, এবং নাগরিকদেরও সেই অধিকার দাবি করার সুযোগ থাকে। এই উদাহরণগুলো আমাদের সামনে একটি স্পষ্ট প্রশ্ন তুলে ধরে—আমরা কি সেই পথে হাঁটতে প্রস্তুত?

একই জাহাজে ভিন্ন যাত্রা

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা আজ যেন একটি দিকহারা জাহাজ। সবাই একই জাহাজে, কিন্তু যাত্রা এক নয়। কেউ প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের দিকে এগোচ্ছে, কেউ সীমিত বাস্তবতায় আটকে আছে, কেউ আবার ভিন্ন ব্যাখ্যায় পৃথিবীকে বোঝার চেষ্টা করছে। সমস্যা ভিন্নতা নয়; সমস্যা হলো সংযোগের অভাব। কারণ একটি জাতির শক্তি নির্ভর করে তার অভিন্ন বোঝাপড়ার ওপর। যখন সেই বোঝাপড়া দুর্বল হয়ে যায়, তখন সংকটের সময় ঐক্যও দুর্বল হয়ে পড়ে।

উত্তরণের পথ: অভিন্ন ভিত্তির সন্ধানে

এই বাস্তবতা থেকে বের হওয়ার পথ সহজ নয়, কিন্তু অসম্ভবও নয়। প্রথমেই প্রয়োজন একটি অভিন্ন ভিত্তি—একটি কোর কারিকুলাম, যেখানে দেশের ইতিহাস, ভাষা, বিজ্ঞান এবং নাগরিক মূল্যবোধ সবার জন্য সমানভাবে শেখানো হবে। একইসঙ্গে শিক্ষাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যাতে এটি আইনি শক্তি পায়। সরকারি শিক্ষার মান উন্নয়ন, কারিগরি শিক্ষার মর্যাদা বৃদ্ধি, এবং প্রযুক্তিগত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করাও জরুরি।

এই পরিবর্তনগুলো একসাথে ঘটলে তবেই একটি সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে উঠতে পারে।

শেষ কথা: একটি অখণ্ড জাতির শেষ সুযোগ

আজকের বাংলাদেশ এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। প্রশ্ন একটাই—আমরা কি সেই স্বপ্নটিকে আবার জীবন্ত করতে চাই, যা ১৯৭২ সালে দেখা হয়েছিল? যদি চাই, তাহলে আমাদের সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। শিক্ষাকে প্রতিশ্রুতি থেকে অধিকার করতে হবে, বিভাজন থেকে সংহতিতে ফিরতে হবে। নচেৎ ভবিষ্যতের বাংলাদেশ হবে একই মানচিত্রের নিচে বসবাস করা বিচ্ছিন্ন মানুষের দেশ—যেখানে ভাষা থাকবে, কিন্তু বোঝাপড়া থাকবে না; শিক্ষা থাকবে, কিন্তু সংযোগ থাকবে না।

শেষ প্রশ্ন তাই থেকে যায়—আমরা কি একসাথে এগোবো?

️ অধ্যাপক মাহবুব লিটু, উপদেষ্টা সম্পাদক, অধিকারপত্র (odhikarpatranews@gmail.com)

#অধিকারপত্র শিক্ষা সংস্কার ধারাবাহিক #EducationCrisis #BangladeshEducation #Article17 #EducationInequality #UniformEducation #PolicyReform #SocialDivide #EducationForAll #RightToEducation #EdPolicy #FutureBangladesh #EducationSystem #Inequality #জাতীয়সংহতি #শিক্ষাসংকট


আপনার মূল্যবান মতামত দিন: