odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Monday, 25th May 2026, ২৫th May ২০২৬
হরমুজ প্রণালীর সঙ্গে এই সংকটময় পথ বন্ধ হলে বিশ্বের এক-চতুর্থাংশ জ্বালানি ও ইউরোপগামী এশিয়ার রফতানির বিশাল অংশ আটকে যাবে

ইরানের হুমকি: বাব আল-মান্দেব বন্ধ করে দিলে কীভাবে থমকে যাবে বিশ্ব বাণিজ্য?

odhikarpatra | প্রকাশিত: ৬ April ২০২৬ ২৩:৩৯

odhikarpatra
প্রকাশিত: ৬ April ২০২৬ ২৩:৩৯

অধিকারপত্র ডটকম  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তারিখ: ৬ এপ্রিল ২০২৬

ইরান আবারও হুমকি দিয়েছে বাব আল-মান্দেব প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার। ইরান যুদ্ধের এই নতুন মোড় বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য হতে পারে ভয়াবহ বিপর্যয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালীর পাশাপাশি এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের এক-চতুর্থাংশ ও এশিয়া থেকে ইউরোপে রফতানি হওয়া পণ্যের একটি বিশাল অংশ আটকে যাবে।

বিস্তারিত:
ইরানের সামরিক কর্মকর্তারা গত কয়েক ঘণ্টায় হুমকি দিয়েছেন, যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্ররা ইরানের স্বার্থকে হুমকির মুখে ফেলে, তবে তারা বাব আল-মান্দেব প্রণালী বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবে। এই প্রণালী লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত, যা সুয়েজ খাল হয়ে ভূমধ্যসাগরে যাওয়ার মূল পথ।

বিশ্ব বাণিজ্যে প্রভাব:
বর্তমানে ইতিমধ্যেই হরমুজ প্রণালী ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকায় সেখান দিয়ে তেল ও গ্যাসের চলাচল প্রায় বন্ধ। এর ওপর বাব আল-মান্দেব বন্ধ হয়ে গেলে:

· বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের ২৫ শতাংশ (এক-চতুর্থাংশ) সরবরাহ লাইন বিচ্ছিন্ন হবে।
· এশিয়ার তৈরি পোশাক, ইলেকট্রনিক্স, যন্ত্রপাতি ও ফার্মাসিউটিক্যালস ইউরোপে পৌঁছাতে পারবে না।
· চীন, ভারত, বাংলাদেশ, ভিয়েতনামের মতো দেশের রফতানি বাণিজ্য প্রায় ৪০-৫০ শতাংশ কমে যেতে পারে।
· তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

ভৌগোলিক গুরুত্ব:
বাব আল-মান্দেব প্রণালীর প্রস্থ মাত্র ২৫ কিলোমিটার। এটি সুয়েজ খালের প্রবেশপথ। এই পথ বন্ধ মানে ইউরোপের সঙ্গে এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ বাণিজ্যের পথ বন্ধ। বিকল্প পথ কেপ অফ গুড হোপ দিয়ে ঘুরে যেতে সময় লাগবে অন্তত ১৫ দিন বেশি, যা খরচ বাড়িয়ে দেবে কয়েকগুণ।

বাংলাদেশের ওপর প্রভাব:
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত ইউরোপে রফতানি করে প্রায় ৬০ শতাংশ পণ্য। এই পথ বন্ধ হয়ে গেলে চালান জটিলতায় পড়বে। এছাড়া জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় দেশের বিদ্যুৎ ও পরিবহন খাত বিপর্যস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।

পূর্বাভাস:
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান যদি প্রকৃতপক্ষে বাব আল-মান্দেব বন্ধ করে দেয়, তবে তা দ্বিতীয় বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট (১৯৭৩ সালের পর) ডেকে আনতে পারে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) ইতিমধ্যে সতর্কতা জারি করেছে।

সূত্র: আলজাজিরা, রয়টার্স, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল (বিশ্লেষণের ভিত্তিতে)



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: