odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Friday, 3rd July 2026, ৩rd July ২০২৬
ইরানে শোকের মিছিলে ১০০ দেশের প্রতিনিধি ও ৬০০ সাংবাদিকের উপস্থিতিতে ঐতিহাসিক বিদায় জানাবে

ঐতিহাসিক বিদায়ের অপেক্ষায় ইরান: খামেনির জানাজায় থাকছে ১০০ দেশের প্রতিনিধি

Special Correspondent | প্রকাশিত: ২ July ২০২৬ ২২:৪৬

Special Correspondent
প্রকাশিত: ২ July ২০২৬ ২২:৪৬

নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্রর

ইরানের ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির শেষ বিদায়কে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন প্রস্তুতি নিয়েছে তেহরান। আগামী ৪ থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে আয়োজিত হতে যাওয়া এই জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে বিশ্বের অন্তত ১০০টি দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশ নিচ্ছেন। ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, দেশটির ইতিহাসে এটিই হতে যাচ্ছে সর্ববৃহৎ শেষকৃত্যানুষ্ঠান।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনের ব্যাপক সাড়া

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ী জানিয়েছেন, এই অনুষ্ঠান কেবল ইরানের জন্য নয়, বরং পুরো অঞ্চল ও বিশ্বের মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও ঐতিহাসিক। রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান, ভারত, জর্জিয়া ও কিউবাসহ ৩০টিরও বেশি দেশ ইতিমধ্যে তাদের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি পাঠানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। বিভিন্ন ধর্মের নেতা, শিক্ষাবিদ এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বসহ ৯০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিরা এই শোকানুষ্ঠানে অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

গণমাধ্যম কাভারেজের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে ব্যাপক আগ্রহ। ইরানের সংস্কৃতি ও ইসলামি দিকনির্দেশনাবিষয়ক মন্ত্রী আব্বাস সালেহি জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানটি বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রায় ৬০০ বিদেশি সাংবাদিক ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিনিধি উপস্থিত থাকছেন।

নিরাপত্তাজনিত কারণে মোজতবা খামেনির অনুপস্থিতি

এই ঐতিহাসিক আয়োজনে একটি বড় চমক হিসেবে দেখা দিয়েছে বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অনুপস্থিতি। ভারতে ইরানের প্রতিনিধি আয়াতুল্লাহ হাকিম এলাহি জানিয়েছেন, ইসরায়েলের অব্যাহত হুমকির মুখে নিরাপত্তাজনিত কারণে মোজতবা খামেনি এই অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত থাকছেন না। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ সম্প্রতি তাঁকে লক্ষ্য করে হুমকি প্রদানের পর ইরান সরকার এই সতর্কতা অবলম্বন করেছে।

কর্মসূচির বিস্তারিত

ইরান সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিদায়ী আনুষ্ঠানিকতার সূচি নিম্নরূপ:

৪ জুলাই: তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রার্থনা কমপ্লেক্সে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদন।

শোকযাত্রা: তেহরানে ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ শোকযাত্রা।      

৭ জুলাই: পবিত্র শহর কোমে বিশেষ শোকানুষ্ঠান।           

৮ জুলাই: ইরাকের বাগদাদ, কারবালা ও নাজাফে আনুষ্ঠানিক শোকানুষ্ঠান।

৯ জুলাই: জন্মস্থান মাশহাদে দাফন সম্পন্ন।     

জাতীয় শক্তির বহিঃপ্রকাশ

আব্বাস সালেহি বলেন, খামেনির জানাজা কেবল একজন নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানানো নয়; এটি আমাদের জাতীয় শক্তি, সামাজিক সংহতি এবং শত্রুদের মোকাবিলায় ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের অদম্য প্রতিরোধক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। এই শোকাবহ ঘটনাকে ঘিরে পুরো ইরানজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং কয়েক কোটি মানুষের সমাগমের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে তেহরান।

--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: