নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৩০
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের অধ্যাদেশটি আইনে পরিণত করতে ‘সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস করেছে বিএনপি সরকার। ফলে দলটির সব রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকছে। বিএনপি জানিয়েছে, জনমত, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়া ও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণেই তাদের এ সিদ্ধান্ত।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
১. জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা: বিএনপির দাবি, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবি দেশব্যাপী জনমতে পরিণত হয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ই বিভিন্ন বিক্ষোভ ও আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে অধ্যাদেশ জারি হয়। সেই জনমত উপেক্ষা করা সম্ভব নয় বলে মনে করে বিএনপি।
২. ট্রাইব্যুনালের বিচার সুষ্ঠু করা: আওয়ামী লীগ ও তার জোটের নেতাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার চলছে। সরকার মনে করে, বিচার চলাকালীন দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম সচল থাকলে আইনি জটিলতা তৈরি হবে। তাই নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেই বিচার সম্পন্ন করতে চায় বিএনপি।
৩. আইনি বাধ্যবাধকতা: সংবিধান অনুযায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ সংসদের অনুমোদন ছাড়া স্থায়ী হয় না। তাই বিলটি পাস করা বাধ্যতামূলক ছিল। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “আমরা আইনি প্রক্রিয়া মেনেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখানে দলগত ইচ্ছা কাজ করেনি।”
৪. জামায়াত নিষিদ্ধের উদাহরণ টেনে: পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকার প্রশাসনিক আদেশে জামায়াতে ইসলামী নিষিদ্ধ করলেও বিএনপি সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছে বলে দাবি করে আসছে। তাই এই সিদ্ধান্তকে ‘দায়’ না বলে ‘প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ’ আখ্যা দিচ্ছে দলটি।
প্রতিক্রিয়া
আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্তকে ‘অগণতান্ত্রিক ও প্রতিহিংসাপরায়ণ’ বলে মন্তব্য করা হয়েছে। দলটির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বিএনপিকে এই সিদ্ধান্তের পূর্ণ দায় নিতে হবে। ভবিষ্যতে এর পরিণতি তাদেরই ভোগ করতে হবে।”
আইন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুব হোসেন মনে করেন, “আইন করে একটি রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার চেয়ে নির্দিষ্ট অপরাধ প্রমাণিত হলে ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনা বেশি যৌথতান্ত্রিক। এই আইন ভবিষ্যতে অন্য দলের বিরুদ্ধেও ব্যবহৃত হতে পারে, যা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি।”
সংসদে কী বললেন মন্ত্রীরা?
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সংসদে বিল পাসের সময় বলেন, “২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অসংখ্য হত্যা, গুম ও নির্যাতন হয়েছে। এসব অপরাধের বিচার না করে স্বাভাবিক রাজনীতিতে ফিরলে স্বৈরাচারকে বৈধতা দেওয়া হবে। এই আইন শুধু সেই অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করবে।”

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: