odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Saturday, 25th April 2026, ২৫th April ২০২৬
প্রত্যাশা ও উচ্ছ্বাসের জ্বলন্ত প্রতিচ্ছবি: নতুন কমিটির মাধ্যমে ক্রিকেটাঙ্গনে ইনক্লুসিভ বা সর্বজনীন পরিবেশের প্রত্যাশা বিডিসিএ-এর

বিসিবির নতুন এডহক কমিটির ওপর আস্থা ডেফ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের: ইনক্লুসিভ ক্রিকেটাঙ্গন বিনির্মাণে নতুন দিগন্তের সূচনা

নিজস্ব স্পোর্টস প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ২৫ April ২০২৬ ২১:২৫

নিজস্ব স্পোর্টস প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৫ April ২০২৬ ২১:২৫

নিজস্ব স্পোর্টস প্রতিবেদক, ঢাকা

এই সংবাদ প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নবগঠিত এডহক কমিটিকে ঘিরে বাংলাদেশ ডেফ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের (বিডিসিএ) উচ্ছ্বাস এবং ভবিষ্যতের প্রত্যাশা তুলে ধরা হয়েছে। দেশের ক্রিকেটে ইনক্লুসিভ বা সর্বজনীন পরিবেশ তৈরিতে তামিম ইকবাল খানের নেতৃত্ব এবং রফিকুল ইসলামের বিশেষ দায়িত্ব প্রাপ্তি কীভাবে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে, তা এখানে বিস্তারিত আলোচিত হয়েছে। এছাড়া ক্রীড়াঙ্গনে সঠিক নেতৃত্ব নির্বাচনে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দূরদর্শী ভূমিকার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে সদাবহুল এক উত্তরণের মুহূর্তে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ ডেফ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (বিডিসিএ)। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নবগঠিত এডহক কমিটিকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়ে সংগঠনটি নতুন এই নেতৃত্বের প্রতি গভীর থেকে গভীরতর আস্থা প্রকাশ করেছে। সম্প্রতি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে বিডিসিএ শুধু বিসিবির এ পরিবর্তনকে স্বাগতই জানায়নি, বরং দীর্ঘদিনের নানা জটিলতা ও স্থবিরতা কাটিয়ে ক্রিকেটের হারানো গৌরব ও মেরুদণ্ড পুনরুদ্ধারে এই এডহক কমিটির সাফল্যের ব্যাপক প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে। বিশেষ করে, দীর্ঘদিন ধরে প্রান্তিক ও উপেক্ষিত বাংলাদেশের ডেফ (বধির) ক্রিকেটারদের জন্য এটি যেন এক নতুন প্রভাতের বার্তা বহন করে আনে।

বিডিসিএ-এর সাধারণ সম্পাদক এম আই চৌধুরী এবং সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. মাহবুব লিটু যৌথভাবে স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে বিশেষ সন্তোষ ও আনন্দের উদগার প্রকাশ করে বলা হয়, বিসিবির এডহক কমিটির নতুন সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের ক্রিকেট কিংবদন্তি, সর্বকালের সেরা ওপেনার ও জাতীয় দলের সাবেক গতিশীল অধিনায়ক তামিম ইকবাল খানের নিয়োগকে তারা হৃদয় খুলে বরণ করে নিয়েছেন। নিঃসন্দেহে, তামিমের নামটি বাংলাদেশের ক্রিকেটাঙ্গনে এক উত্তাল সমুদ্রের মতো প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছে তারা।

বিবৃতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশে বিডিসিএ নেতৃবৃন্দ বলেন, "আমরা অটল বিশ্বাসে বিশ্বাস করি, তামিম ইকবাল খানের অসাধারণ ক্রিকেটীয় প্রজ্ঞা, মাঠের অমোঘ কৌশলী দক্ষতা এবং সংকটময় মুহূর্তে তাঁর আপসহীন ও বুদ্ধিদীপ্ত নেতৃত্ব বিশ্ব ক্রিকেটের অলিম্পাসে বাংলাদেশকে এক অনন্য ও অভাবনীয় উচ্চতায় নিয়ে যাবে।" তারা আরও আশা প্রকাশ করেন যে, তামিমের বলিষ্ঠ নেতৃত্বাধীন এই কমিটি ডেফ ক্রিকেটারদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করবে। দীর্ঘদিন ধরে যেসব প্রতিভাবান বধির ক্রিকেটার নিজেদের প্রমাণের সুযোগ পাচ্ছিলেন না, তামিমের হাত ধরে তাদের সঠিক মূল্যায়নের দার উন্মোচিত হবে বলে বিডিসিয়া আশাবাদী।

তবে বিডিসিএ-এর উচ্ছ্বাসের প্রধান অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছেন সংগঠনটির সম্মানিত সভাপতি জনাব রফিকুল ইসলাম বাবু। নতুন এই এডহক কমিটিতে তাকে অন্তর্ভুক্ত করায় এবং বিশেষ করে 'বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের গ্রাউন্ডস কমিটি'র চেয়ারম্যান হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদান করায় বিডিসিএ নিজেদেকে বারে বারে গর্বিত ও অভিভূত অনুভব করছে। বিডিসিএর বিবৃতিতে তাকে উৎসর্গ করে বলা হয়, রফিকুল ইসলামের বলিষ্ঠ, সুদূরপ্রসারী ও ন্যায়নিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ ক্রিকেট শুধু তার মূল স্রোতেই ফিরবে না, বরং সত্যিকারের একটি সর্বজনীন, ইনক্লুসিভ ও সমতাভিত্তিক ক্রিকেটাঙ্গন গড়ে উঠবে। যেখানে সাধারণ ক্রিকেটারদের পাশাপাশি ডেফ ক্রিকেটাররাও তাদের লুকায়িত প্রতিভা বিকাশের সমান সুযোগ লাভ করবে। এটি এমন এক পরিবর্তনের সূচনা, যা দীর্ঘদিনের বৈষম্যের পথ রুদ্ধ করে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ডেফ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন বছরের পর বছর ধরে ক্রিকেট বোর্ডের কাছ থেকে নানা প্রতিবন্ধকতা ও অনীহার শিকার হয়ে আসছিল। প্রতিভাবান বধির ক্রিকেটারদের জন্য আলাদা কোনো কাঠামো বা স্বীকৃতির অভাবে তাদের পেশাদার ক্রিকেটে স্থান করে নেওয়া ছিল কঠিন। কিন্তু নতুন এডহক কমিটিতে রফিকুল ইসলামের মতো অভিজ্ঞ, নিষ্ঠাবান ও ক্রীড়ামোদী ব্যক্তিত্বকে দায়িত্ব দেওয়া সেই অন্তরায় যেন সেতুতে পরিণত হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।

এতদসত্ত্বেও, এই যুগান্তকারী পরিবর্তনের পুরো কৃতিত্ব একা ক্রিকেট বোর্ড বা নতুন কমিটিকে দেয়নি বিডিসিএ। তারা আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন মাননীয় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং সাবেক জাতীয় ফুটবল দলের কিংবদন্তি অধিনায়ক আমিনুল ইসলামকে। বিবৃতিতে এক জায়গায় স্পষ্ট ও সরল ভাষায় লেখা হয়েছে, "ক্রিকেটকে পতনের হাত থেকে বাঁচাতে এবং অসুস্থ প্রতিযোগিতার গ্রাস থেকে মুক্ত করতে মাননীয় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী যে অত্যন্ত চমৎকার, যোগ্যতা-দক্ষতায় ভরপুর ও দূরদর্শী একটি কমিটি উপহার দিয়েছেন, তার জন্য আমরা তাঁর কাছে চিরকৃতজ্ঞ ও ঋণী। তাঁর এই বলিষ্ঠ ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ বাংলাদেশের ক্রিকেটাঙ্গনের জন্যই শুধু নয়, গোটা ক্রীড়াঙ্গনের জন্য এক অনন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে।" বিডিসিএ মনে করে, আমিনুল ইসলামের সাহসী পদক্ষেপের কারণেই প্রান্তিক ক্রীড়া সংগঠনগুলি এখন আশার আলো দেখতে পাচ্ছে।

উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি বিডিসিয়া নেতৃবৃন্দ নবগঠিত এডহক কমিটির প্রত্যেক সদস্যকে উষ্ণ অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি ও সর্বাঙ্গীণ উন্নতি কামনা করেন। তাদের বিশ্বাস, নতুন কমিটির শক্তিশালী ও স্বচ্ছ নেতৃত্বে বিসিবি সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছাবে, যা একদা যেমন স্বপ্নের মতো মনে হতো, এখন তা বাস্তবে রূপ নিতে চলেছে। বিডিসিএ মনে করে, তামিম ইকবাল, রফিকুল ইসলাম ও কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ ক্রিকেটে একটি শান্তিপূর্ণ, গঠনমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সংস্কৃতির ভিত্তি রচিত হবে।

শুধু বিবৃতিতে থেমে থাকেনি বিডিসিএর উদ্দীপনা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখন নতুন এই কমিটির সাফল্য কামনা এবং ডেফ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের প্রত্যাশা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। উন্নত ও ইনক্লুসিভ ক্রিকেটের এই যাত্রাকে আরও জনসম্মুখে তুলে ধরতে নির্ধারিত হ্যাশট্যাগগুলো হলো: #BCB #TamimIqbal #BDCA #InclusiveCricket #BangladeshCricket #SportsNews। প্রতিটি টুইট, ফেসবুক পোস্ট বা স্ট্যাটাসে যেন ডেফ ক্রিকেটারদের অধিকার ও সম্ভাবনার কথা উঠে আসে, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রেখেছে বিডিসিএ।

বাংলাদেশ ডেফ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, নতুন কমিটিকে সময় দিন। একটি জীর্ণ সংস্থাকে নতুন করে দাঁড় করাতে সময় লাগবে। আর সেই দাঁড়ানোর প্রক্রিয়ায় ডেফ ক্রিকেটাররা যাতে অবহেলিত না হন, সেটাই এখন তাদের একমাত্র প্রত্যাশা। তারা আরও আশা করে, রাজনীতি ও স্বার্থের জট খুলে দিয়ে শুদ্ধ ক্রিকেটের চর্চা যেন আবার মাথা তুলে দাঁড়ায়। সংগঠনটি মনে করে, একটি ফুটবলার ও ক্রীড়ামন্ত্রী যখন এত বড় উদ্যোগ নিয়েছেন, তখন ক্রিকেটবোর্ডের নতুন কমিটির দায়িত্ব আরও বেড়ে গেল।

সবশেষে, বিডিসিএ সব স্তরের ক্রিকেটপ্রেমী, ডেফ ক্রিকেটার, কোচ ও কর্মকর্তাদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে, নতুন কমিটিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করতে এবং দলগত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশকে ক্রিকেটের এমন এক শক্তিতে পরিণত করতে, যেখানে বধির ক্রিকেটাররাও গর্বের সঙ্গে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে। প্রকৃত অর্থে তবেই পূর্ণ হবে 'ইনক্লুসিভ ক্রিকেটাঙ্গন' নামের সেই স্বপ্ন, যা আজ থেকে এই প্রতিবেদনের মূল উপজীব্য।

এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত বিসিবি বা এর সভাপতি আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাননি, তবে বিডিসিএর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রান্তিক ক্রীড়া সংগঠনের এই আস্থা ও সমর্থন ক্রিকেটবোর্ডের নতুন নেতৃত্বের জন্য অবশ্যই একটি অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। ক্রীড়ামোদী ও ডেফ ক্রিকেটারদের অপেক্ষার পালা এখন শেষ হচ্ছে, শুরু হচ্ছে কেবল সম্ভাবনার নতুন এক ক্রিকেটবিশ্বের।

#BCBNewCommittee2026 #TamimIqbalLeadership #InclusiveCricketBangladesh #BDCA #BangladeshCricketUpdate #DeafCricketSupport #SportsReformsBD #CricketGroundsManagement



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: