odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Tuesday, 28th April 2026, ২৮th April ২০২৬
ওয়াশিংটনে রাজা চার্লস কংগ্রেসে ভাষণের মাধ্যমে চিরচেনা বিশেষ সম্পর্ক ঝালাইয়ের চেষ্টা

মার্কিন কংগ্রেসে রাজা চার্লস: সংঘাত নয় বরং পুনর্মিলনের ডাক

Special Correspondent | প্রকাশিত: ২৮ April ২০২৬ ১৭:২০

Special Correspondent
প্রকাশিত: ২৮ April ২০২৬ ১৭:২০

নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র

দীর্ঘ তিন দশক পর ব্রিটিশ রাজসিংহাসনের কোনো উত্তরসূরি হিসেবে মার্কিন কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন রাজা তৃতীয় চার্লস। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল, ২০২৬) ক্যাপিটল হিলে দেওয়া এই ভাষণে তিনি দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে পুনর্মিলন ও নবায়নের (reconciliation and renewal) ডাক দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের সরকারের পরামর্শে লিখিত ২০ মিনিটের এই ভাষণে রাজা বলবেন বারবার আমাদের দুই দেশ একসঙ্গে পথ চলার পথ খুঁজে নিয়েছে। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের মধ্যে চলমান উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের প্রেক্ষাপটে রাজার এই সফরকে সফট পাওয়ার বা কূটনৈতিক সেতুবন্ধন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকগণ।

কড়া নিরাপত্তায় প্রথম দিনের ব্যস্ততা

গত সোমবার মেরিল্যান্ডের অ্যান্ড্রুজ সামরিক বিমানঘাঁটিতে অবতরণের মাধ্যমে চার দিনের এই রাষ্ট্রীয় সফর শুরু করেন রাজা চার্লস ও রানি ক্যামিলা। বিমানবন্দরে তাঁদের স্বাগত জানান মার্কিন প্রটোকল প্রধান মনিকা ক্রাউলি এবং ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত স্যার ক্রিশ্চিয়ান টার্নার। উল্লেখ্য যে মাত্র দুই দিন আগে ওয়াশিংটনের একটি অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উপস্থিতিতে এক বন্দুকধারী হামলা চালানোর পর পুরো শহরজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নজিরবিহীনভাবে জোরদার করা হয়েছে। রাজা তাঁর ভাষণে এই হামলার ঘটনায় গভীর সমবেদনা জানাবেন বলে রাজকীয় সূত্রে জানা গেছে।

হোয়াইট হাউসের সেই 'মৌমাছি' ও ব্রিটিশ বিফ

সফরের প্রথম দিনে হোয়াইট হাউসের সাউথ পোর্টিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প রাজকীয় দম্পতিকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। সেখানে গ্রিন রুমে চা-চক্রের পর তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয় হোয়াইট হাউসের বাগানে। সেখানে রাজার প্রকৃতিপ্রেমের কথা মাথায় রেখে বিশেষভাবে তৈরি মিনি হোয়াইট হাউস আকৃতির একটি মৌচাক পরিদর্শন করেন তাঁরা।  এরপর ব্রিটিশ দূতাবাসে আয়োজিত এক বিশাল গার্ডেন পার্টিতে অংশ নেন রাজা ও রানি। সেখানে পরিবেশিত খাবারের মেনুতেও ছিল কূটনীতির ছোঁয়া। অতিথিদের পরিবেশন করা হয় ব্রিটিশ গরুর মাংসের স্যান্ডউইচ, যা সম্প্রতি শুল্কমুক্ত আমদানির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র পৌঁছানো প্রথম চালান থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল।

ভাষণের মূল লক্ষ্য ও সাম্প্রতিক বিতর্ক কংগ্রেসে রাজার ভাষণের প্রধান দিকগুলো হতে পারে:

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ: ন্যাটো রক্ষা এবং ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান।

ট্রান্স-আটলান্টিক মৈত্রী: উদারতা, মমতা এবং শান্তির ভিত্তিতে দুই দেশের বন্ধন দৃঢ় করা।

ঐতিহাসিক গুরুত্ব: রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের পর (১৯৯১) দ্বিতীয় ব্রিটিশ শাসক হিসেবে কংগ্রেসে ভাষণ দেবেন চার্লস। 

তবে সফরের মাঝে কিছু বিতর্কও মাথাচাড়া দিয়েছে। যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের নির্যাতনের শিকার কয়েকজন নারী রাজার সঙ্গে সাক্ষাতের দাবি জানিয়েছিলেন। তবে আইনি জটিলতার আশঙ্কায় ব্রিটিশ রাজপ্রাসাদ সেই আবেদন গ্রহণ করেনি। ভুক্তভোগীদের একজন রীনা ওহ জানিয়েছেন, রাজা যেন অন্তত তাঁর ভাষণে তাঁদের কষ্টের বিষয়টি উল্লেখ করেন।

সামনে যা আছে

মঙ্গলবার সকালে হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে ২১-গান স্যালুটের মাধ্যমে রাজাকে আনুষ্ঠানিক সামরিক অভ্যর্থনা জানানো হবে। এরপরই তিনি কংগ্রেসের ভাষণ দেবেন। দিনশেষে হোয়াইট হাউসে একটি বর্ণাঢ্য 'স্টেট ডিনার' বা রাষ্ট্রীয় নৈশভোজের আয়োজন করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, যেখানে দুই দেশের শীর্ষ রাজনীতিক ও সেলিব্রেটিরা উপস্থিত থাকবেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপনের এই বছরে রাজা চার্লসের এই সফরকে আটলান্টিকের দুই পাড়ের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: