odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Sunday, 24th May 2026, ২৪th May ২০২৬
কুরবানির হাটে বৃষ্টিভেজা পশুর চোখে সভ্যতার আয়না

অধিকার কি শুধু মানুষের?

odhikarpatra | প্রকাশিত: ২৪ May ২০২৬ ১৭:৩৭

odhikarpatra
প্রকাশিত: ২৪ May ২০২৬ ১৭:৩৭

প্রকাশিত: ২৪ মে ২০২৬, রবিবার,অধিকার পত্র ডটকম সম্পাদকীয়,

মুল প্রতিবেদন:

অধিকার—শব্দটি আমরা সাধারণত মানুষের ক্ষেত্রেই ব্যবহার করি। মানবাধিকার, নাগরিক অধিকার, মতপ্রকাশের অধিকার, বেঁচে থাকার অধিকার। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই পৃথিবীতে মানুষ ছাড়া অন্য প্রাণের কি কোনো অধিকার নেই? বিশেষ করে সেই প্রাণীগুলোর, যাদের আমরা নিজের প্রয়োজন, ধর্মীয় আচার কিংবা অর্থনৈতিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ব্যবহার করি?

কুরবানির মৌসুম এলেই দেশের বিভিন্ন স্থানে বসে অস্থায়ী গরুর হাট। হাজার হাজার পশু ট্রাকভর্তি হয়ে আসে দূর-দূরান্ত থেকে। প্রচণ্ড গরম, দীর্ঘ যাত্রা, খাদ্যের অনিশ্চয়তা, আর হঠাৎ বৃষ্টি—সব মিলিয়ে পশুগুলোর ওপর নেমে আসে এক নীরব দুর্ভোগ। হাটে দেখা যায়, বৃষ্টির মধ্যে মানুষ নিজেকে বাঁচাতে ব্যস্ত, বিক্রেতারা ত্রিপল টানছেন, ক্রেতারা আশ্রয় খুঁজছেন, কেউ কেউ নিজের গরুটিকে ভিজে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু শত শত পশু কাদার মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা।

এ দৃশ্য শুধু একটি হাটের নয়; এটি আমাদের সভ্যতার একটি প্রতিচ্ছবি।

আমরা নিজেদের সভ্য মানুষ বলে পরিচয় দিই। সভ্য সমাজের কথা বলি। কিন্তু সভ্যতার মাপকাঠি কি শুধু মানুষের জন্য আরাম-আয়েশ নিশ্চিত করা? নাকি দুর্বল, নির্বাক ও নির্ভরশীল প্রাণীর প্রতিও দায়িত্ববোধ দেখানো?

ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও পশুর প্রতি সহানুভূতি ও সদাচরণের শিক্ষা স্পষ্ট। ইসলাম প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা নিরুৎসাহিত করেছে। ক্ষুধার্ত প্রাণীকে খাবার দেওয়া, অযথা কষ্ট না দেওয়া, যত্ন নেওয়া—এসবকে মানবিক দায়িত্ব হিসেবেই দেখা হয়েছে। অথচ বাস্তবে আমরা অনেক সময় পশুকে কেবল “পণ্য” হিসেবে দেখি।

কুরবানির পশু মানেই শুধু বিক্রি বা জবাইয়ের বস্তু নয়; তারা জীবন্ত প্রাণ। তাদেরও ভয় আছে, কষ্ট আছে, ক্লান্তি আছে। বৃষ্টিতে কাঁপতে থাকা, কাদায় আটকে থাকা কিংবা ঘণ্টার পর ঘণ্টা না খেয়ে দাঁড়িয়ে থাকা একটি পশুর দৃশ্য আমাদের বিবেককে নাড়া দেওয়ার কথা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পশুর হাট ব্যবস্থাপনায় ন্যূনতম মানবিক অবকাঠামো নিশ্চিত করা জরুরি। পর্যাপ্ত ছাউনি, বিশুদ্ধ পানি, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পশুর বিশ্রামের জায়গা ও চিকিৎসা সহায়তা থাকা উচিত। স্থানীয় প্রশাসন ও হাট ইজারাদারদের এ বিষয়ে দায়িত্বশীল হতে হবে।

একই সঙ্গে সামাজিক মনোভাবেও পরিবর্তন প্রয়োজন। কুরবানি শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি ত্যাগ, সহমর্মিতা ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। সেই মানবিকতা যদি নির্বাক প্রাণীর প্রতিও না পৌঁছায়, তাহলে আমাদের সভ্যতার দাবি প্রশ্নের মুখে পড়ে।

আজ যখন বৃষ্টিভেজা হাটে মানুষ আর পশু একসঙ্গে আশ্রয় খোঁজে, তখন হয়তো সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি থেকে যায়—অধিকার কি শুধু মানুষের জন্য, নাকি পৃথিবীর সব জীবের জন্যও আমাদের কিছু দায় আছে?

#অধিকার #পশুকল্যাণ #কুরবানিরহাট #মানবিকতা #সভ্যসমাজ #প্রাণীরঅধিকার

মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান পলাশ সম্পাদক ও প্রকাশক অধিকারপত্র ডটকম এবং আমাদের অধিকারপত্র 



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: