odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Friday, 5th June 2026, ৫th June ২০২৬
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে সাইপ্রাসে ফোর্স কমান্ডারের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন বাংলাদেশি এই সেনা কর্মকর্তা

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে লে. জেনারেল মিনহাজুল আলমের সাক্ষাৎ

odhikarpatra | প্রকাশিত: ৩ June ২০২৬ ২১:৫২

odhikarpatra
প্রকাশিত: ৩ June ২০২৬ ২১:৫২

অধিকার পত্র ডটকম

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে লে. জেনারেল মিনহাজুল আলমের সাক্ষাৎ

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে সাইপ্রাসে ফোর্স কমান্ডারের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন বাংলাদেশি এই সেনা কর্মকর্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা, ৩ জুন : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ মিনহাজুল আলম। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের ফোর্স কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের উদ্দেশ্যে সাইপ্রাসে যাওয়ার আগে বুধবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইং জানায়, সাক্ষাৎকালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদান, সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্ব এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সুনাম ও মর্যাদা নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

প্রেস উইং সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৫ জুন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবেন লে. জেনারেল মিনহাজুল আলম। সেখানে প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে তিনি সাইপ্রাসে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনী (ইউএনএফআইসিওয়াইপি)-এর ২৩তম ফোর্স কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

বাংলাদেশের ইতিহাসে মিনহাজুল আলম অষ্টম সেনা কর্মকর্তা হিসেবে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে ফোর্স কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছেন। এর আগে সাতজন বাংলাদেশি সেনা কর্মকর্তা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সফলতার সঙ্গে এ দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে পশ্চিম সাহারায় মেজর জেনারেল মো. ফখরুল আহসান ফোর্স কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মিনহাজুল আলম সাইপ্রাসে যোগ দিলে একসঙ্গে দুইজন বাংলাদেশি সেনা কর্মকর্তা জাতিসংঘের ফোর্স কমান্ডার পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করবেন।

জাতিসংঘের দীর্ঘতম শান্তিরক্ষা মিশনগুলোর অন্যতম ইউএনএফআইসিওয়াইপি ১৯৬৪ সালে গ্রিক সাইপ্রিয়ট ও তুর্কি সাইপ্রিয়ট সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘাত প্রতিরোধে প্রতিষ্ঠিত হয়। মিশনের প্রধান দায়িত্ব হলো বাফার জোন বা ‘গ্রিন লাইন’ রক্ষা এবং যুদ্ধবিরতি রেখার তত্ত্বাবধান করা।

চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণকারী মিনহাজুল আলম ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি থেকে পদাতিক কোরে কমিশন লাভ করেন এবং ‘সোর্ড অব অনার’ অর্জন করেন। কর্মজীবনে তিনি অপারেশন কুয়েত পুনর্গঠন, রোহিঙ্গা ক্যাম্প নিরাপত্তা কার্যক্রম এবং সেন্ট্রাল আফ্রিকায় জাতিসংঘ মিশনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজের কমান্ড্যান্ট ও চিফ ইন্সট্রাক্টর এবং বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রিধারী এই সেনা কর্মকর্তা সর্বশেষ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের জিওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এর আগে তিনি কক্সবাজারভিত্তিক ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসির দায়িত্বও পালন করেন।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের ধারাবাহিক সাফল্যের প্রেক্ষাপটে মিনহাজুল আলমের এই নিয়োগ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে লে. জেনারেল মিনহাজুল আলমের সাক্ষাৎ

#অধিকারপত্র #মিনহাজুলআলম #জাতিসংঘ #শান্তিরক্ষামিশন #সাইপ্রাস #বাংলাদেশসেনাবাহিনী #তারেকরহমান #ইউএনএফআইসিওয়াইপি #আন্তর্জাতিক

কীওয়ার্ড: মিনহাজুল আলম, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন, ইউএনএফআইসিওয়াইপি, সাইপ্রাস, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, তারেক রহমান, ফোর্স কমান্ডার, জাতিসংঘ, শান্তিরক্ষা কার্যক্রম, আন্তর্জাতিক মর্যাদা।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: