odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Wednesday, 24th June 2026, ২৪th June ২০২৬
টিআর-কাবিখা প্রকল্পে ১৫% কমিশন দাবির ভিডিও ভাইরাল; ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যোগদানের নির্দেশ দিয়ে ‘স্ট্যান্ড রিলিজ’, তদন্তে নামছে উচ্চপর্যায়ের দুটি কমিটি

ক্যালকুলেটরে হিসাব কষে ঘুষ: দেবীগঞ্জের পিআইও বাবুল চন্দ্র স্ট্যান্ড রিলিজ, উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু

Special Correspondent | প্রকাশিত: ২৩ June ২০২৬ ২২:৩৫

Special Correspondent
প্রকাশিত: ২৩ June ২০২৬ ২২:৩৫

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের বরাদ্দের বিপরীতে ক্যালকুলেটরে হিসাব কষে ১৫ শতাংশ হারে ঘুষ নেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর অভিযুক্ত উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) বাবুল চন্দ্র রায়কে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার (স্ট্যান্ড রিলিজ) করা হয়েছে। একই সাথে ঘটনাটি তদন্তে পৃথক দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ত্রাণ প্রশাসন শাখার উপসচিব সানজিদা ইয়াসমিন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ দেওয়া হয়।

বদলি ও স্ট্যান্ড রিলিজের নির্দেশ

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রশাসনিক কারণে পিআইও বাবুল চন্দ্র রায়কে বর্তমান কর্মস্থল থেকে বদলি করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাকে আগামীকাল বুধবার (২৪ জুন) অপরাহ্নের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় ওই দিন বিকেল থেকেই তিনি বর্তমান কর্মস্থল হতে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত বা ‘স্ট্যান্ড রিলিজড’ হিসেবে গণ্য হবেন। তবে মন্ত্রণালয়ের এই বদলির আদেশে দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়টি সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি, একে ‘প্রশাসনিক কারণ’ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

ভিডিওতে যা ছিল

গত সোমবার (২২ জুন) দুপুরে পিআইওর কার্যালয়ে বসে ঘুষ লেনদেনের ৪ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। জাতীয় সব দৈনিক ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ নিয়ে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, পিআইও বাবুল চন্দ্র রায় তার কার্যালয়ে কয়েকজন ইউপি সদস্য ও প্রকল্প সভাপতির সামনে ক্যালকুলেটর চেপে ঘুষের টাকার হিসাব করছেন। ২ লাখ ৫৬ হাজার টাকার একটি প্রকল্পের বিপরীতে ১৫ শতাংশ হারে ৩৮ হাজার টাকা ঘুষ নির্ধারণ করেন তিনি।

এ সময় একজন ইউপি সদস্য টাকা কমানোর অনুরোধ করলে পিআইও হাসতে হাসতে বলেন,মেম্বারদের কোনোদিন লাভ হয় না। আমি এতদিন পিআইও করছি, কোনো মেম্বারকে বলতে শুনিনি যে তার লাভ হয়েছে। ভিডিওর শেষ দিকে ৮ টন গমের বিপরীতে ৩৮ হাজার টাকা, ১ লাখ ৬২ হাজার টাকার বরাদ্দের বিপরীতে ২৪ হাজার টাকা এবং অন্য একটি প্রকল্পে ১৮ হাজার টাকা কমিশনের হিসাব করতে এবং ফাইলপত্রের সামনে টাকা লেনদেন করতে দেখা যায়।

পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন

ঘুষ কেলেঙ্কারির এই ঘটনা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে।

১. অধিদপ্তরের তদন্ত: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশাসন-১) তাশনূভা নাশতারান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে অধিদপ্তরের উপপরিচালক (গবেষণা) কাজী মো. বদরুজ্জামানকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বুধবারই (২৪ জুন) উচ্চপর্যায়ের এই তদন্ত কমিটির দেবীগঞ্জে সরেজমিনে আসার কথা রয়েছে।

২. উপজেলা প্রশাসনের তদন্ত: দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন থেকেও একটি স্থানীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যদের লিখিত বক্তব্য নেওয়া হয়েছে এবং অভিযুক্ত পিআইওকে তলব করা হয়েছে।

দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইন্দ্রজীত সাহা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ভিডিওটি সামনে আসার পরপরই আমরা ঊর্ধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে জানাই। অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে বদলি করে অধিদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনের পৃথক দুটি কমিটি বিষয়টি তদন্ত করছে। খুব দ্রুতই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া

দফতরে বসে প্রকাশ্যে এমন কমিশন বাণিজ্যের প্রমাণের মুখে এই কর্মকর্তার প্রত্যাহারের খবরে দেবীগঞ্জের স্থানীয় সচেতন মহলে স্বস্তি ফিরলেও ক্ষোভ কমেনি। স্থানীয়দের দাবি, অপরাধের গভীরতা বিবেচনায় কেবল বদলি বা প্রত্যাহার কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা এবং দুর্নীতি মামলা দায়ের করা প্রয়োজন। এই বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত পিআইও বাবুল চন্দ্র রায়ের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: