odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Monday, 7th September 2026, ৭th September ২০২৬
হাসতে হাসতে নিজের দিকে তাকানোর ১৫টি গান: কখনো আমরা গোয়েন্দা, কখনো রাজা, কখনো বিচারক—কিন্তু শেষ পর্যন্ত মানুষ কতটা?

আমরা কি আমাদের চিনি? বহুরূপী মানুষের মাঝে আমরা কেমন আছি

odhikarpatra | প্রকাশিত: ৭ September ২০২৬ ১৭:৫৫

odhikarpatra
প্রকাশিত: ৭ September ২০২৬ ১৭:৫৫

অধিকারপত্র বিশেষ সম্পাদকীয় ফিচার দেশ চিন্তা

জীবন, বন্ধুত্ব, বিশ্বাসঘাতকতা, বহুরূপিতা, ক্ষমতার দম্ভ, সময়ের বিচার, ধর্মীয় মানবতা, ভালোবাসা ও আত্মসমালোচনার পনেরোটি সংগীত-আয়নায় আমাদেরই মুখ

মানুষের একটি বিরল প্রতিভা আছেঅন্যের ভুল সে দূরবীন ছাড়াই দেখতে পারে, অথচ নিজের ভুল দেখতে গেলে চশমা, আলো, সময়সবকিছুরই অভাব হয় অন্যের অহংকার আমাদের চোখেইগো’, নিজেরটাআত্মসম্মান’; অন্যের মত বদলডিগবাজি’, নিজেরটাপরিবর্তিত বাস্তবতায় নতুন উপলব্ধি ক্ষমতার চেয়ার পেলে কেউ কেউ এমন ভঙ্গিতে বসেন, যেন চেয়ারটির সঙ্গে তাঁর ৯৯ বছরের লিজ চুক্তি হয়েছে অথচ সময় নামের বাড়িওয়ালা কোনো নোটিশ ছাড়াই ভাড়াটে বদলে দেয় বাংলা, ইংরেজি, হিন্দি উর্দুর মিশেলে নির্মিত ১৫টি জীবনঘনিষ্ঠ, দার্শনিক, ফোক, সুফি হাস্য-ব্যঙ্গাত্মক গান এই চেনা মানুষগুলোকেই সামনে আনে কিন্তু একটু বিপদ আছেগানগুলো শুনতে শুনতে একসময় বোঝা যায়, আমরা যাদের নিয়ে এতক্ষণ হাসছিলাম, তাদের কেউ কেউ আসলে আয়নার ওপাশে নয়; আয়নার পাশেও আছেন

আমরা সত্য ভালোবাসি—শর্ত প্রযোজ্য

মানবচরিত্রের সবচেয়ে মজার বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি হলো self-serving logic। আমরা সত্য চাই। তবে সত্যটি যদি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে যায়, বলি—“দেখলেন! সত্য বের হয়ে এসেছে।”

সত্যটি নিজের বিরুদ্ধে গেলে—“বিষয়টি এত সরল নয়।”

আমরা ন্যায় চাই। তবে মনে মনে একটি ছোট footnote থাকে—প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আমার স্বার্থ বিবেচনাযোগ্য

আমরা পরিবর্তন চাই। প্রথম পরিবর্তনটি অবশ্য পাশের মানুষটির মধ্যে হওয়া উচিত। আমরা অন্যের ego চিহ্নিত করতে দশ সেকেন্ড নিই।

নিজের ego-কে বলি personality। অন্যের জেদ—stubbornness।

নিজের জেদ—principle। অন্যের নীরবতা—cowardice।

নিজের নীরবতা—strategy। অন্যের compromise—দুর্বলতা।

নিজের compromise—maturity। মানুষের ভাষাগত সৃজনশীলতাকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই।

নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে আমরা অসাধারণ vocabulary তৈরি করেছি।

আয়না যদি হঠাৎ কথা বলে

সকালবেলা একজন মানুষ আয়নার সামনে দাঁড়িয়েছেন।

চুল আঁচড়ালেন। জামার কলার ঠিক করলেন। মুখটা একটু ডানে ঘোরালেন, তারপর বাঁয়ে। চোখের নিচে নতুন কোনো রেখা পড়েছে কি না দেখলেন। দাড়িটা ঠিক আছে। চুলের সাদা অংশটুকু আলোয় বেশি দেখা যাচ্ছে কি না, সেটাও পরীক্ষা হলো।

সব মিলিয়ে সন্তুষ্ট।

বেরিয়ে যাবেন।

ঠিক তখনই যদি আয়নাটি বলে ওঠে—“চেহারা তো দেখলেন মশাই, এবার মানুষটাকে একটু দেখবেন?”

ব্যাপারটা অস্বস্তিকর হয়ে যাবে।

আয়না যতক্ষণ বাহ্যিক চেহারা দেখায়, ততক্ষণ সে আমাদের প্রিয়। কিন্তু আয়না যদি চরিত্র দেখাতে শুরু করে, তাহলে সেটি আর ড্রেসিং টেবিলের নিরীহ আসবাব থাকে না—হয়ে ওঠে সাক্ষী, কখনো জেরা কর্মকর্তা, কখনো বিচারক।

আমাদের সমাজেও আয়না আছে অনেক।

Facebook আছে।

অফিস আছে।

চায়ের টেবিল আছে।

রাজনীতি আছে।

বন্ধুত্ব আছে।

বিপদ আছে।

ক্ষমতার চেয়ার আছে।

এবং সবচেয়ে বড় আয়নাটির নাম—সময়।

কিন্তু আমরা বেশির ভাগ সময় আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের বদলে পাশের মানুষের মুখ খুঁজি।

কে ভুল করেছে?

কে বদলে গেছে?

কে সুবিধাবাদী?

কার মধ্যে অহংকার?

কে ক্ষমতা পেয়ে মানুষ চিনতে ভুলেছে?

এই জায়গা থেকেই পনেরোটি গানের যাত্রা শুরু।

জীবন প্রথমেই বলে দেয়—আমার সঙ্গে চুক্তি করে আসেননি

‘জীবনঘনিষ্ঠ গান—জীবনের গল্প, জীবনেরই সুর’ যেন এই পুরো সংগীতযাত্রার শুরুতেই জীবন মহাশয়ের পক্ষ থেকে একটি ছোট্ট আইনি নোটিশ—“দয়া করে মনে রাখবেন, আপনার সঙ্গে আমার কোনো লিখিত চুক্তি নেই।” আমরা অবশ্য জন্মের পর থেকেই মনে মনে এমনভাবে শর্ত বানিয়ে ফেলি, যেন জীবন আমাদের ব্যক্তিগত সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান। আমি ভালো থাকব, মানুষ আমাকে বুঝবে, যাকে বিশ্বাস করব সে কোনো দিন বিশ্বাসঘাতকতা করবে না, পরিশ্রম করলে ফল পাব, সত্য বললে বাহবা মিলবে, আর ভালো মানুষ হলে পৃথিবীর সবাই পাল্টা ভালো মানুষ হয়ে যাবে। সমস্যা একটাই—এই চুক্তিপত্রে আমাদের স্বাক্ষর আছে, জীবনের নেই।

জীবন বরং নিজের নিয়মে চলে। আজ রোদ দেবে, কাল বৃষ্টি। আজ ছাতা দেবে, পরশু এমন বাতাস দেবে যে ছাতা উল্টে গিয়ে আপনাকেই দর্শন করাবে। কখনো খুব কাছের মানুষ হঠাৎ দূরের গ্রহের বাসিন্দা হয়ে যায়, আবার কখনো সম্পূর্ণ অচেনা কেউ এমন সময়ে পাশে এসে দাঁড়ায় যে মনে হয়—আরে, এ মানুষটাকে এত দিন কোথায় লুকিয়ে রেখেছিল জীবন? জীবন তাই খুবই অদ্ভুত চরিত্রের নাট্যকার; script আমাদের হাতে দেয় না, rehearsal-এর সুযোগও কম, কিন্তু stage-এ ঠেলে দিয়ে বলে—“এবার অভিনয় করুন।”

“আমি কিন্তু আগেই বলেছিলাম, আমার সঙ্গে কোনো গ্যারান্টি কার্ড দেওয়া হয়নি!”

জীবনের সবচেয়ে অপছন্দের শিক্ষকটির নাম ‘ব্যর্থতা’

আমরা সফলতার গল্প বলতে ভারি ভালোবাসি। কীভাবে জিতলাম, কোথা থেকে কোথায় উঠলাম, কত বাধা ডিঙিয়ে এলাম, কে কে হাততালি দিল—এসব গল্প বলতে দিলে আমাদের অনেকেরই microphone নামাতে ইচ্ছা করে না। বিজয়ের গল্পে আমরা নিজেরাই নায়ক, পরিচালক, চিত্রনাট্যকার; প্রয়োজন হলে background music-ও মনে মনে বাজিয়ে নিই। কিন্তু গল্পটা যদি হয়—“কীভাবে হেরেছিলেন?”—তখন হঠাৎ গলা একটু শুকিয়ে আসে। কেউ পানির গ্লাস খোঁজেন, কেউ বলেন, “আসলে বিষয়টা একটু complicated।”

অথচ একজন মানুষকে সত্যিকার অর্থে চিনতে চাইলে শুধু তার trophy cabinet দেখলে হবে না; মাঝে মাঝে তার ভাঙা কাপগুলোও দেখতে হয়। মানুষ কীভাবে জিতেছে, তা তার যোগ্যতার কথা বলতে পারে; কিন্তু সে কীভাবে হেরেছে, সেটি অনেক সময় তার চরিত্রের কথা বলে। জয়ের পর মানুষ হাসবে—এ আর এমন কী! আসল পরীক্ষা হলো, হারের পর সে কী করে। অন্যকে দোষ দেয়? ষড়যন্ত্র খোঁজে? নিজের ভুল ঢাকতে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি বসায়? নাকি একদিন চুপচাপ আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বলে—“আচ্ছা, এখানে আমারও কিছু ভুল ছিল না তো?”

ব্যর্থতা স্যার তখনই একটু সন্তুষ্ট হন। তিনি হয়তো খাতার পাশে ছোট্ট করে লিখে দেন—“এবার কিছু শিখেছেন। আবার চেষ্টা করুন।” —আর সম্ভবত জীবনে এটিই তাঁর দেওয়া সর্বোচ্চ নম্বর।

সুখের দিনে বন্ধু হাজার, দুঃখে ‘নেটওয়ার্কের বাইরে’

এরপর ভাটিয়ালির সুরে শুরু হয় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক গবেষণা—বন্ধুত্বের field study। গবেষণাপত্রটির নাম হতে পারত ‘সুখ ও দুঃসময়ে বন্ধুর উপস্থিতির তুলনামূলক বিশ্লেষণ’; কিন্তু গান সেটিকে অনেক সহজ করে দিয়েছে—‘বুঝেছি বুঝেছি—তোরা বন্ধু ছিলি না।’

গানের মানুষটি দুঃখ পেয়েছেন ঠিকই, কিন্তু কাঁদতে কাঁদতেও বেশ গুরুত্বপূর্ণ data collection করে ফেলেছেন। তাঁর গবেষণার preliminary finding ভয়াবহ: সুখের দিনে বন্ধুর সংখ্যা গুনতে calculator লাগতে পারে, কিন্তু দুঃসময়ে অনেক ক্ষেত্রেই এক হাতের পাঁচটি আঙুলের সবগুলোও কাজে লাগে না। কখনো বৃদ্ধাঙ্গুলিই যথেষ্ট।

সুসময়ের বন্ধুত্ব অবশ্য দেখতে খুব সুন্দর। Birthday cake আছে, selfie আছে, tag আছে, heart emoji আছে। Restaurant table-এ চেয়ার কম পড়ে। Facebook-এ caption—“Brothers forever!” কেউ বলে, “ভাই, তুই শুধু একবার ডাক দিবি।” আরেকজন আরও এক ধাপ এগিয়ে—“তোর জন্য জীবন দিয়ে দেব!” শুনে মনে হয় বন্ধুত্বের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচিত হচ্ছে।

সমস্যা শুরু হয় যেদিন আপনি সত্যি সত্যি ডাক দেন, “ভাই, একটু বিপদে পড়েছি…”

প্রথম ফোন—ringing।

দ্বিতীয় ফোন—ringing।

তৃতীয় ফোনে পরিচিত যান্ত্রিক কণ্ঠ:“আপনি যাকে কল করেছেন, তিনি এই মুহূর্তে…”

Attic Detective: পৃথিবীর অপরাধ ধরতে গিয়ে নিজের ঘরেই আসামি

এরপর মঞ্চে ঢোকেন এক অসাধারণ চরিত্র—Attic Detective। হাতে magnifying glass, চোখে সন্দেহ, মনে দৃঢ় প্রত্যয়—পৃথিবীর কোনো অপরাধ তাঁর চোখ এড়িয়ে যাবে না। প্রতিবেশীর গেট কেন শব্দ করছে, পাশের বাড়ির প্লেট কেন অগোছালো, কে রুটি পুড়িয়েছে, কার বারান্দায় ধুলো, কে কী ভুল বলেছে—সবকিছুর তদন্ত হবে। পৃথিবী নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারে; Detective সাহেব জেগে আছেন।

তিনি এমন মানুষ, যিনি পাশের বাড়ির জানালার পর্দা একটু বাঁকা দেখেও national emergency অনুভব করেন। চায়ের দোকানে বসে দেশের অর্থনীতি থেকে পাশের বাসার জামাই পর্যন্ত সবার performance review শেষ করে ফেলেন। কার ছেলে ঠিকমতো পড়ছে না, কার মেয়ে ভুল মানুষকে বিয়ে করেছে, কার অফিসে management দুর্বল, কোন রাজনীতিবিদ কী করা উচিত, কোন শিক্ষক কীভাবে পড়াবেন—সব প্রশ্নের উত্তর তাঁর কাছে ready। শুধু নিজের জীবনের FAQ section-টি এখনও under construction।

Detective সাহেবের হাতে magnifying glass আছে, কিন্তু সেটির একটি technical limitation রয়েছে—যন্ত্রটি শুধু অন্যের দিকে কাজ করে। নিজের দিকে ঘোরালেই lens-এ কুয়াশা জমে।

অন্যের ভুল? —Ultra HD. আর নিজের ভুল? —Image not found.

অন্যের রাগ—অসভ্যতা। আর নিজের রাগ—ন্যায্য ক্ষোভ।

অন্যের অহংকার—ego। আর নিজের অহংকার—self-respect।

কাঠের বাক্সে পুরোনো খাতা: যে মানুষটি হতে চেয়েছিলাম, সে কোথায়?

এবার সুর একটু ধীরে আসে। হাসির শব্দ কমে। আলো যেন খানিকটা নরম হয়। ‘নিজের মুখোমুখি’-র ত্রিভাষিক power ballad আমাদের একটি পুরোনো কাঠের বাক্সের সামনে নিয়ে দাঁড় করায়। বাক্সটি খুলতেই পাওয়া যায় ধুলো জমা একটি খাতা। খাতার পাতায় পুরোনো হাতের লেখা, অসমাপ্ত স্বপ্ন, নিজের কাছে দেওয়া কিছু প্রতিশ্রুতি—আর এমন একজন মানুষের ছায়া, যাকে আমরা একসময় ভবিষ্যতের ‘আমি’ বলে কল্পনা করেছিলাম।

পুরোনো খাতা ভয়ংকর জিনিস। পুরোনো ছবি দেখলে আমরা বলি—“ইশ, তখন কত চিকন ছিলাম!” পুরোনো খাতা খুললে প্রশ্নটা একটু কঠিন—“তখন আমি কী হতে চেয়েছিলাম?”

শৈশবের প্রশ্ন খুব সরল ছিল, “বড় হয়ে কী হবে?” —ডাক্তার। শিক্ষক। বিজ্ঞানী। লেখক। পাইলট।বড় অফিসার।—কেউ একটু দার্শনিক হলে বলত—“ভালো মানুষ হব।”

এই শেষ উত্তরটি সবচেয়ে সহজ শোনালেও syllabus সম্ভবত সবচেয়ে কঠিন ছিল।

তার পাশে আরেকটি প্রশ্নও রাখা যায়—“ফিরে যাওয়ার পথ কি এখনও আছে?” —অপরদিকে জীবন বেশির ভাগ সময় উত্তর দেয়—“আছে। তবে হাঁটতে হবে আপনাকেই।”

অন্যের জীবন Thesis, নিজের খাতা এখনও জমাইনি

আত্মসমালোচনার এই গুরুগম্ভীর জায়গায় একটু হাসি দরকার। কারণ মানুষের একটি অসাধারণ academic talent আছে—অন্যের জীবন নিয়ে thesis লেখা।

আপনার পরিচিত একজনের চাকরি গেল? আর এত যেনো আমরা methodology-সহ বিশ্লেষণ প্রস্তুত।—“আমি আগেই বুঝেছিলাম ওর problem কোথায়।” আবার কারও বিবাহ ভেঙেছে? এক্ষেত্রেও Case study ready, “দেখেন, শুরু থেকেই mismatch ছিল।” অন্যদিকে কেউ সফল হয়েছে? সেখানেও আছে, Literature review: “আসলে এর পেছনে অন্য connection আছে।” যখন দেখা গেলো, কেউ রাজনৈতিক অবস্থান বদলেছে? হয়ে গেলো Historical analysis। আবার যদি কেউ চুপ থেকেছে? তখন হয়ে যায়, Psychological interpretation। অপরদিকে কেউ কথা বলেছে? তাহ্যেল করে ফেলো Motive analysis।—এভাবে আমরা অন্যের জীবনের এমন external examiner যে thesis না পড়েও viva নিতে পারি।

বহুরূপী মানুষ: সকাল, দুপুর, সন্ধ্যায় তিন সংস্করণ

এরপর মঞ্চে প্রবেশ করেন playlist-এর সবচেয়ে ব্যস্ত অভিনেতাদের একজন—‘বহুরূপী মানুষ’। তাঁর costume department অত্যন্ত শক্তিশালী। সকালবেলা এক চরিত্র, দুপুরে আরেক, সন্ধ্যায় তৃতীয়। রাত বাড়লে special edition-ও বের হতে পারে।

সামনে দেখা হলে কী সুন্দর হাসি! “ভাই! কী খবর? অনেক দিন দেখি না!”

এমন আন্তরিকতা যে মনে হবে হারানো দুই ভাই বহু বছর পর সীমান্তে মিলেছে। আপনি ঘুরে দাঁড়ালেন। পেছনে dialogue—“এই লোকটার ব্যাপারে কিন্তু সাবধান।”

মানুষের ঘাড় সম্ভবত পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সীমানা। সামনে এক foreign policy, পেছনে আরেক।

চায়ের টেবিলে তিনি বন্ধু। Selfie-তে ভাই। Caption :“বন্ধুত্ব আজীবনের।”

কাজের সময় ফোন? তখন Unavailable। আবার কখনো network নেই। কখনো meeting। কখনো mobile silent। কখনো তিনি এমন জায়গায় আছেন, যেখানে মানুষের কোনো communication technology কাজ করে না।

পরদিন আবার দেখা—“ভাই! ফোন দিছিলা নাকি?” —এই নিষ্পাপ বিস্ময়ের অভিনয়ের জন্য আলাদা জাতীয় পুরস্কার চালু করা যেতে পারে।

বহুরূপী মানুষের সবচেয়ে বড় যোগ্যতা adaptability। Darwin সাহেব evolution নিয়ে যা বলেছেন, তাঁরা সম্ভবত social survival-এ তার advanced course করেছেন। কাল এক পক্ষের সঙ্গে ছিলেন—আজ অন্য পাশে। আগামীকাল কোথায় থাকবেন?

চাচা প্রেসিডেন্ট: গলির ক্ষমতাও মাথা ঘুরিয়ে দিতে পারে

আমাদের একটি অদ্ভুত ধারণা আছে—ক্ষমতার অহংকার বুঝি শুধু বড় বড় জায়গায় জন্মায়। রাষ্ট্রক্ষমতা লাগবে, বড় মন্ত্রণালয় লাগবে, বিশাল office লাগবে, গাড়ির সামনে পতাকা লাগবে—তবেই মানুষ বদলাবে।

‘Chacha President’ গানটি এসে এই ধারণার কপালে হালকা টোকা দেয়।

না মশাই।

গলি ক্রিকেট কমিটিও যথেষ্ট।

চাচা President হয়েছেন।

ব্যস।

পৃথিবী বদলে গেছে।

অন্তত চাচার চোখে।

কাল পর্যন্ত যাঁর সঙ্গে চায়ের দোকানে plastic chair-এ বসে আড্ডা হতো, আজ তিনি একটু দূর থেকে হাঁটেন। চশমায় নতুন seriousness। হাঁটার মধ্যে protocol। কথা বলার গতি ধীর—কারণ গুরুত্বপূর্ণ মানুষ দ্রুত কথা বলেন না, এমন একটা ধারণা হয়তো তৈরি হয়েছে।

আগে সবাই তাঁকে ডাকত—“চাচা!”

এখন তিনি হয়তো মনে মনে শুনছেন—“Mr. President.”

ক্রিকেট মাঠে তাঁর status আরও স্পষ্ট। ব্যাটিং করবেন প্রথমে। কারণ President। কে bowl করবে, কে field করবে, কে water break নেবে—সব বিষয়ে তাঁর strategic vision আছে। অন্য কেউ বললে তিনি মাথা নাড়িয়ে বলেন—“তোমরা বুঝবা না।”

সময় পাশে দাঁড়িয়ে বলে—“খেলা শেষ হোক, তারপর কথা হবে।”

গায়ের জোর কতদিন? চেয়ারটা কারও বাপের সম্পত্তি নয়

‘গায়ের জোর কতদিন?’ গানটি ক্ষমতার এই temporary nature-কে আরেকটু সরাসরি ভাষায় বলে। এখানে metaphor কম, warning বেশি।

আজ হাঁকডাক আছে।

আজ decision আপনার।

আজ কারও file আটকে দিতে পারেন।

আজ কাউকে সুযোগ দিতে পারেন, কাউকে বঞ্চিত করতে পারেন।

আজ ফোন করলে মানুষ ধরে।

Message দিলে reply আসে।

Meeting-এ ঢুকলে চেয়ার ছেড়ে দেওয়া হয়।

আপনার joke-এ মানুষ হাসে।

কেউ কেউ joke শেষ হওয়ার আগেই হাসে—সতর্কতা হিসেবে।

সব মিলিয়ে জীবন বেশ সুন্দর।

তারপর প্রশ্ন—কাল?

কাল নিয়ে ক্ষমতাবানরা সাধারণত বেশি ভাবতে পছন্দ করেন না। কারণ আজকের chair খুব comfortable।

আমরা সবাই জানি—কোনো চেয়ার permanent নয়। আজ একজন বসে, কাল আরেকজন। কথাটা এত পুরোনো যে wall calendar-এ ছাপা motivational line বলেও চালানো যায়।

কিন্তু আশ্চর্য ব্যাপার, চেয়ার পাওয়ার পর এই সাধারণ জ্ঞানটি হঠাৎ memory loss-এর শিকার হয়।

সময় আবার original size-এ ফিরিয়ে দেয়।

ক্ষমতার আসল পরীক্ষা কোথায়?

ক্ষমতা মানুষকে বড় করে—এই কথাটি পুরো সত্য নয়। বরং ক্ষমতা অনেক সময় মানুষটির ভেতরে যা আগে থেকেই ছিল, সেটিকে magnify করে।

যার ভেতরে দয়া আছে, ক্ষমতা তার দয়ার পরিধি বাড়াতে পারে।

যার ভেতরে ন্যায়বোধ আছে, authority তাকে ন্যায় প্রতিষ্ঠার সুযোগ দেয়।

যার ভেতরে দায়িত্ববোধ আছে, পদ তাকে আরও বেশি মানুষের জন্য কাজ করার ক্ষমতা দেয়।

কিন্তু যার ভেতরে insecurity আছে?

ক্ষমতা তাকে সন্দেহপ্রবণ করতে পারে।

যার ভেতরে প্রতিহিংসা আছে?

ক্ষমতা তাকে প্রতিশোধের machinery দিয়ে দেয়।

যার ভেতরে অহংকার আছে?

চেয়ার শুধু সেটিতে loudspeaker লাগিয়ে দেয়।

আগে তিনি মনে মনে ভাবতেন—“আমি অনেক গুরুত্বপূর্ণ।”

পদ পাওয়ার পর announcement system চালু হয়—“আপনারা জানেন তো, আমি কে?”

এই প্রশ্নটি ক্ষমতার ইতিহাসে বহুবার উচ্চারিত হয়েছে।

এবং সময় সাধারণত পরে উত্তর দিয়েছে—“জানতাম। এখন আর খুব একটা মনে নেই।”

দুর্বলকে সম্মান করা—চরিত্র।

আজ তোমাদের দিন, কাল আমাদের দিন—কিন্তু তারপর?

‘আজ তোমাদের দিন, কাল আমাদের দিন’ গানটি জীবনকে লুডুর বোর্ড বানিয়ে দেয়। আজ ছক্কা। কাল সাপ। আবার আজ রাজসিংহাসন। কাল ভাঙা টুল। অপরদিকে আজ VIP chair। কাল দাঁড়িয়ে অপেক্ষা। আজ microphone আপনার। কাল microphone অন্য কারও হাতে।

বাংলা, English, Hindi—তিন ভাষায় একই message ঘুরে ফিরে আসে। Today is your day. Tomorrow may turn our way.

ভাষা বদলায়। ভাগ্যের wheel বদলায় না। গানটির মূল হাস্যরস প্রতিশোধে নয়। এটি বলে—আজ তুমি হাসো। কাল আমি হাসলে এসো।

কারণ শেষ পর্যন্ত জীবন কারও permanent property নয়। মূল গানের grand finale-তেও ক্ষমতার অস্থায়িত্বের সঙ্গে “No one’s forever at the front of the line” এবং হাসি, শেখা ও মানুষ হয়ে থাকার কথাই পাশাপাশি এসেছে।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক প্রশ্ন আছে।

আজ যারা ক্ষমতাবান, কাল তারা নাও থাকতে পারে—এ কথা বলা সহজ। কিন্তু যারা আজ নিপীড়িত, তারা কাল ক্ষমতা পেলে কী করবে?

সময়কে সময় দেওয়া: প্রতিশোধ থেকে ন্যায়ের দিকে

এখানে playlist-এর সুর ধীরে বদলে যায়। হাসির জায়গায় আসে অপেক্ষা। ঢোলের জায়গায় বাঁশি। ব্যঙ্গের জায়গায় গভীরতা। ‘সময়কে সময় দাও’ গানে একটি অসাধারণ প্রার্থনা আছে— অন্যায়ের শিকার হয়েও যেন আমি অন্যায়কারী না হয়ে যাই।—এই একটি ধারণার মধ্যে মানবসভ্যতার অন্যতম বড় নৈতিক পরীক্ষা লুকানো। অন্যায় সহ্য করা কঠিন। কিন্তু অন্যায়ের শিকার হওয়ার পর ক্ষমতা হাতে এলে একই অন্যায় না করা আরও কঠিন।

কৃষ্ণের বাঁশি: ভেদাভেদের ভিড়ে ভালোবাসার ডাক

‘শুভ জন্মাষ্টমী—Let Love Lead the Way’ এই জায়গায় শুধু উৎসবের গান নয়।

এখানে কৃষ্ণের বাঁশি প্রেম, harmony, kindness, compassion ও unity-এর প্রতীক।

বাঁশির ডাক যেন প্রশ্ন করে—

সব যুদ্ধ জিতে কী হবে, যদি হৃদয় হেরে যায়?

সব মতবাদ রক্ষা করে কী হবে, যদি মানুষ হারিয়ে যায়?

সব পরিচয় বজায় রেখে কী হবে, যদি পরিচয়ের কারণে আমরা একে অপরকে ঘৃণা করি?

গানের বাণীতে করুণা, kindness ও love-কে শক্তির উৎস হিসেবে দেখা হয়েছে এবং ভেদাভেদ ভেঙে মানুষের মিলনের আহ্বান এসেছে।

এই জায়গায় পুরো playlist-এর philosophical balance তৈরি হয়।

মানুষ শুধু ভণ্ড নয়।

মানুষ শুধু ক্ষমতালোভী নয়।

মানুষ শুধু বিশ্বাসঘাতক নয়।

মানুষের ভেতরে আরেকটি সম্ভাবনাও আছে।

সে ভালোবাসতে পারে।

সে ক্ষমা করতে পারে।

সে অপরের দুঃখে দাঁড়াতে পারে।

ঘৃণায় অভ্যস্ত সমাজে ভালোবাসা অনেক সময় সাহসের কাজ।

নবীপ্রেমের প্রশ্ন: উচ্চারণের বাইরে চরিত্রে কতটা?

এরপর ‘আসসালামু আলাইকা ইয়া নবী—রহমতের আলো’ এসে সংগীতযাত্রার সামনে আরেক ধরনের আয়না তুলে ধরে। এই আয়নাটি আবেগকে ছোট করে না; বরং আবেগকে আরেকটু দূর পর্যন্ত হাঁটতে বলে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ ﷺ-এর প্রতি ভালোবাসা এখানে শুধু শ্রদ্ধার উচ্চারণ, সালাম কিংবা আবেগময় স্মরণে থেমে থাকে না। ভালোবাসা থেকে শিক্ষা, শিক্ষা থেকে চরিত্র, চরিত্র থেকে মানুষের প্রতি দায়িত্ব—গানটির ভেতরে যেন এই সিঁড়িটি ধাপে ধাপে উঠে গেছে।

কারণ কাউকে ভালোবাসার সবচেয়ে সহজ অংশ তাঁর নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারণ করা; সবচেয়ে কঠিন অংশ হলো তাঁর শিক্ষা নিজের আচরণে বহন করা। মুখে দয়া বলা সহজ, রাগের সময় দয়া দেখানো কঠিন। ন্যায়ের কথা বলা সহজ, বিচারটি নিজের বিপক্ষে গেলে ন্যায় মেনে নেওয়া কঠিন। ক্ষমার মাহাত্ম্য নিয়ে দীর্ঘ বক্তৃতা দেওয়া সহজ, কিন্তু যে মানুষটি সত্যিই আমাকে কষ্ট দিয়েছে তাকে ক্ষমা করার জায়গায় পৌঁছানো বেশ কঠিন। দুর্বলের অধিকার নিয়ে seminar করা যায়; কিন্তু নিজের সামনে দুর্বল একজন মানুষ দাঁড়ালে তাকে মর্যাদা দেওয়া—সেখানেই seminar-এর practical examination।

আমাদের ধর্মীয় জীবনের একটি মজার বৈপরীত্যও এখানে ধরা পড়ে। আমরা অনেক সময় ধর্মের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশে অত্যন্ত আবেগী, কিন্তু ধর্মের নৈতিক দাবিগুলোর সামনে এসে একটু administrative delay চাই। সত্য বলব—অবশ্যই, তবে পরিস্থিতি অনুকূল হলে। অন্যায় করব না—নিশ্চয়ই, তবে নিজের লোকের ব্যাপার হলে একটু context দেখতে হবে। ক্ষমা করব—ইনশাআল্লাহ, তবে আগে সে প্রকাশ্যে স্বীকার করুক যে আমি শতভাগ ঠিক ছিলাম। মানুষের মর্যাদা রক্ষা করব—অবশ্যই, তবে মানুষটি আমার মতের হলে সুবিধা হয়।

অর্থাৎ নৈতিকতার ক্ষেত্রেও আমরা মাঝে মাঝে terms and conditions apply বসিয়ে দিই।

কিন্তু মহানবী ﷺ-এর জীবন ও শিক্ষার দিকে তাকালে ভালোবাসা আর চরিত্রকে আলাদা কক্ষে রাখা কঠিন হয়ে যায়। সত্য, দয়া, ন্যায়, ক্ষমা, জ্ঞান, বিবেক, দুর্বল মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং মানুষের মর্যাদা—এসব কোনো decorative vocabulary নয়; এগুলো জীবনচর্চার বিষয়। ভালোবাসা যদি আচরণে কোনো পরিবর্তনই না আনে, তবে ভালোবাসার দাবিটি অন্তত নিজের কাছেই একদিন প্রশ্নের মুখে পড়ে।

বরং হয়তো সেখানেই ভালোবাসা আবেগ থেকে চরিত্রে পরিণত হয়।

দুই ধর্মীয় গান, কিন্তু একটি মানবিক সেতু

এই সংগীতযাত্রায় একটি জায়গায় এসে পাশাপাশি দাঁড়ায় দুটি ভিন্ন ধর্মীয় ঐতিহ্যের গান। একদিকে কৃষ্ণপ্রেম, জন্মাষ্টমীর আনন্দ, বাঁশির সুর এবং ভালোবাসার আহ্বান; অন্যদিকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ ﷺ-এর প্রতি শ্রদ্ধা, রহমত, নৈতিকতা ও তাঁর শিক্ষাকে চরিত্রে ধারণ করার আকাঙ্ক্ষা। ধর্মীয় ঐতিহ্য আলাদা, ইতিহাস আলাদা, প্রতীক আলাদা, উপাসনার ভাষা ও পদ্ধতিও আলাদা। সেই স্বাতন্ত্র্যকে মুছে দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই; বরং পার্থক্যকে সম্মান করেই মানুষ মানুষের সঙ্গে মিলতে পারে।

কিন্তু playlist-এর বৃহত্তর মানবিক গল্পে দুটি গান পাশাপাশি রাখলে একটি চমৎকার বিষয় চোখে পড়ে। দুই পথের ধর্মতাত্ত্বিক পরিচয় আলাদা হলেও মানুষের সঙ্গে মানুষের আচরণের কিছু মৌলিক প্রশ্ন বারবার ফিরে আসে—ভালোবাসা, দয়া, সত্য, ন্যায়, সহমর্মিতা, জ্ঞান, মানুষের মর্যাদা এবং অন্যের প্রতি দায়িত্ব।

অর্থাৎ ভাষা বদলায়।

প্রতীক বদলায়।

সুর বদলায়।

কিন্তু অসহায় মানুষের কান্নার ভাষা খুব একটা বদলায় না।

ক্ষুধার ধর্মীয় পরিচয় নেই। অপমানেরও নেই। সন্তানের জন্য মায়ের উদ্বেগ কোনো বিশেষ ধর্মগ্রন্থ দেখে আসে না। অন্যায়ভাবে আহত একজন মানুষ প্রথমে মানুষ হিসেবেই ব্যথা পায়; পরে তার আরও অনেক পরিচয় আছে। এই সহজ সত্যটি আমরা সভা-সেমিনারে খুব সহজে বলি, বাস্তবে প্রয়োগের সময়ই আমাদের calculator বের করতে হয়।

আমরা ভালোবাসা নিয়ে গান গাইতে পছন্দ করি। সমস্যা শুরু হয় যখন ভালোবাসতে হবে এমন কাউকে, যিনি আমাদের মতো নন।

“সব মানুষকে ভালোবাসি।”

চমৎকার।

“যে আমার সঙ্গে দ্বিমত করে?”

“আচ্ছা, ওইটা একটু আলাদা case।”

“অন্য ধর্মের মানুষ?”

“না না, আমি সবাইকে সম্মান করি, কিন্তু…”

আশ্চর্যভাবে খুব বেশি আলাদা নয়।

ভাষা চারটি, অহংকার একই

এই পনেরোটি গানের আরেকটি আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য হলো তাদের বহুভাষিক চরিত্র। বাংলা আছে, English আছে, Hindi আছে, Urdu আছে; কখনো একই গানের ভেতরই ভাষাগুলো পাশাপাশি হাঁটে। প্রথম শুনলে মনে হতে পারে—এ তো modern musical styling, একটু flavour বাড়ানো, একটু urban touch, একটু audience diversity। কিন্তু একটু গভীরভাবে শুনলে বোঝা যায়, ভাষার এই যাতায়াত শুধু সাজসজ্জা নয়; এটি মানুষের অভিজ্ঞতারও একটি ছোট সাংস্কৃতিক মানচিত্র।

এক ভাষায় বলা যায়—“আজ তোমার দিন, কাল আমার।” আরেক ভাষায়—“Today is yours, tomorrow may be mine.” আবার অন্য ভাষায়—“Aaj tumhari baari, kal hamari baari.” তিনটি বাক্যের পোশাক আলাদা, উচ্চারণ আলাদা, সুর আলাদা; কিন্তু জীবনের নিয়মটি একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। সময় passport দেখে পালা বদলায় না। আজ যার সামনে spotlight, কাল তাকে audience-এ বসতে হতে পারে; ভাষা বদলালেও chair-এর expiry date বাড়ে না।

জীবনও সম্ভবত তখন মুচকি হেসে বলে—ভাষা চারটি হতে পারে, কিন্তু মানুষ হওয়ার পরীক্ষা একটাই।

এবার শেষ গোয়েন্দাগিরি: ‘এটা কী মুখোমুখি?’

পনেরো গানের দীর্ঘ যাত্রা যখন শেষের দিকে আসে, তখন ‘এটা কী মুখোমুখি?’ যেন হাতে একটি মোটা audit file নিয়ে দরজায় দাঁড়ায়। এতক্ষণ আমরা বন্ধু দেখেছি, বহুরূপী মানুষ দেখেছি, ক্ষমতার দম্ভ দেখেছি, চাচা President দেখেছি, Facebook professor দেখেছি, Attic Detective-কে magnifying glass হাতে ঘুরতে দেখেছি। এবার গানটি বলে—“সবাইকে অনেক দেখলেন। একটু বসবেন? আপনার file-টাও আছে।”

শুরুর ঘোষণাটিই যথেষ্ট নির্মম এবং যথেষ্ট মজার—মানুষ নাকি দুইটি জিনিস খুব ভালো বোঝে: নিজের সাফল্য এবং অন্যের ভুল। নিজের ভুলের প্রসঙ্গ উঠতেই collective silence। যেন meeting-এর agenda-তে এমন কোনো item ছিল না।

নিজের সাফল্যের হিসাব আমরা অসাধারণভাবে সংরক্ষণ করি। দশ বছর আগে কোথায় প্রশংসা পেয়েছিলাম, কে কী বলেছিল, কোন certificate পেয়েছিলাম—সব archive-এ আছে। কিন্তু নিজের ভুলের file কোথায়? “সম্ভবত shifting-এর সময় হারিয়ে গেছে।” স্মৃতিরও বোধহয় selective storage policy আছে।

“অন্যের হিসাব যথেষ্ট হয়েছে। এবার নিজের খাতাটা খুলুন।”

‘আমারও’—সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শব্দ

এই পুরো সংগীতযাত্রার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শব্দটি হয়তো ‘আমি’ নয়, ‘তুমি’ও নয়। শব্দটি খুব ছোট—‘আমারও’। কিন্তু এই একটি শব্দ মানুষের আত্মসমালোচনার দরজায় এমন চাবি ঘোরায়, যা অনেক বড় বক্তৃতাও পারে না।

আমরা সাধারণত সমাজের সমস্যা নিয়ে কথা বলি বহুবচনে। “মানুষ খুব স্বার্থপর হয়ে গেছে”, “সবাই সুবিধাবাদী”, “কেউ সত্য বলে না”, “মানুষ এখন ক্ষমতার পেছনে দৌড়ায়”, “বন্ধুত্ব আর আগের মতো নেই”—এসব বলার সময় বক্তা নিজে রহস্যজনকভাবে sample-এর বাইরে থাকেন। সমাজে কোটি মানুষ আছে; সমস্যা সবার। শুধু আমি যেন গবেষণার control group।

এখানেই ‘আমারও’ এসে বিপত্তি ঘটায়।

অন্যের ভুল আছে—আমারও।

অন্যের ego আছে—আমারও থাকতে পারে।

অন্য মানুষ সুবিধা বুঝে অবস্থান বদলায়—আমি কি কখনো বদলাইনি?

অন্যের কাছে ক্ষমতা বিপজ্জনক—আমি সামান্য authority পেলে কী করি?

বন্ধু আমার ফোন ধরেনি—আমার বন্ধুর বিপদের ফোন আমি ধরেছিলাম তো?

এই ‘আমারও’ শব্দটি blame-এর তীরটাকে একবার ঘুরিয়ে দেয়। এতক্ষণ তীর ছিল বাইরের দিকে; এবার এক মুহূর্ত নিজের দিকে আসে। আর মানুষ এখানেই একটু অস্বস্তি অনুভব করে।

“কখনো কখনো আমিও।”

বিচারক হওয়ার আগে সাক্ষী হওয়া দরকার

আমাদের সময়ের একটি বড় সামাজিক সমস্যা হলো সবাই বিচারক হতে চায়।

শুনলাম।

দেখলাম।

Post পড়লাম।

Screenshot পেলাম।

Verdict দিলাম।

মানুষের চরিত্র নির্ধারণ শেষ।

কিন্তু বিচারকের আগে সাক্ষী হওয়া দরকার।

আর সাক্ষীর আগে সত্য জানার চেষ্টা।

১৫টি গান বারবার অন্যের দিকে নির্দেশিত আঙুলটি ঘুরিয়ে নিজের দিকে নিয়ে আসে।

আমরা কারও আচরণ নিয়ে মন্তব্য করার আগে কী জানি?

কারও ব্যর্থতা দেখে হাসার আগে তার গল্প জানি?

কারও নীরবতার পেছনে ভয় আছে কি না?

কারও অবস্থান বদলের পেছনে সুবিধাবাদ, না সত্যিকার পরিবর্তন?

সব ক্ষেত্রে উত্তর সহজ নয়।

অন্যের বিচারেও সতর্ক করে।

সবচেয়ে বড় আদালতটি ভবনের ভেতরে নয়

আদালত বললে আমাদের চোখে ভবন আসে।

বিচারক।

আইনজীবী।

সাক্ষী।

নথি।

কিন্তু মানুষের জীবনে আরেকটি আদালত আছে।

সেখানে আইনজীবী নিয়োগ করা যায় না।

সাক্ষীকে প্রভাবিত করাও কঠিন।

তার নাম—

বিবেক।

সেখানে বিচারকও কোনো অর্থে আপনি।

অভিযুক্তও আপনি।

সাক্ষীও আপনি।

প্রমাণের বড় অংশ আপনার স্মৃতি।

বাইরের আদালতে প্রমাণের অভাবে মানুষ খালাস পেতে পারে।

বিবেকের আদালতে কিছু মামলা দীর্ঘদিন suspended থাকে, dismiss হয় না।

একদিন রাতে।

কোনো পুরোনো গান শুনে।

কোনো পরিচিত মুখ দেখে।

পুরোনো একটি message খুলে।

কোনো হারানো বন্ধুর কথা মনে পড়ে।

File আবার open।

সেখানে প্রশ্ন আসে—

ক্ষমতা থাকতে কী করেছিলাম?

দুর্বল মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম?

সত্য জানার পরও সুবিধার কারণে নীরব ছিলাম?

যে বন্ধু বিপদে ফোন করেছিল—ধরেছিলাম?

যাকে অন্যায়ভাবে বিচার করেছিলাম—কখনো ক্ষমা চেয়েছি?

কিন্তু মানুষ জানে।

Playlist নয়—মানবচরিত্রের নাট্যমঞ্চ

এই ১৫টি গানকে আলাদা আলাদা গান হিসেবে শুনলে মজা পাওয়া যায়।

একসঙ্গে রাখলে আরেকটি architecture দেখা যায়।

প্রথমে জীবন।

তারপর দুঃখ।

তারপর বন্ধুত্ব।

তারপর অন্যের ভুল।

তারপর নিজের ভুল।

তারপর মুখোশ।

তারপর ক্ষমতা।

তারপর ক্ষমতার পতন।

তারপর সময়।

তারপর ন্যায়।

তারপর ইতিহাস।

তারপর প্রেম।

তারপর ধর্মীয় মানবতা।

তারপর আবার—

নিজে।

অর্থাৎ যাত্রাটি যেন:

অন্যকে দেখা → সমাজকে দেখা → মুখোশ দেখা → ক্ষমতাকে দেখা → সময়কে দেখা → অন্যায়কে দেখা → ভালোবাসার সম্ভাবনা দেখা → নিজের দিকে তাকানো।

আর আবেগের dramaturgy: হাসি → ব্যঙ্গ → অস্বস্তি → ক্ষত → উপলব্ধি → আত্মসমালোচনা → মানবিকতা → আশা।

এই কারণেই playlist-টি কেবল entertainment নয়।

হাসি এখানে দরজা।

দরজা খুললে ভেতরে দর্শন বসে আছে।

মূল পরিকল্পনাতেও playlist-টিকে মানুষের প্রকৃতির মধ্য দিয়ে একটি musical journey হিসেবে সাজানোর কথা বলা হয়েছিল—অন্যকে দেখা থেকে শেষে নিজের দিকে ফিরে আসা; হাসি থেকে ব্যঙ্গ, অস্বস্তি, উপলব্ধি, আত্মসমালোচনা ও আশার দিকে যাত্রা।

মানুষ নিখুঁত নয়—এটাই আশার জায়গা

এই লেখার সবচেয়ে বড় ভুল হবে যদি আমরা শেষে সিদ্ধান্ত নিই—

“সব মানুষ খারাপ।”

না।

মানুষ contradictory।

সে একই সঙ্গে ভালোবাসতে পারে এবং ঈর্ষা করতে পারে।

সাহসী হতে পারে, আবার ভয়ও পেতে পারে।

সত্যবাদী হতে চায়, আবার সুবিধামতো চুপও থাকে।

বন্ধুকে ভালোবাসে, আবার নিজের স্বার্থও দেখে।

ধর্মের কথা বলে, কিন্তু কখনো ধর্মের নৈতিকতা ভুলে যায়।

ন্যায়বিচার চায়, কিন্তু নিজের লোকের প্রশ্নে দ্বিধায় পড়ে।

এই contradiction-ই মানুষকে সাহিত্যিকভাবে আকর্ষণীয় এবং নৈতিকভাবে জটিল করে।

পনেরোটি গান নিখুঁত মানুষের সন্ধান করছে না।

নিখুঁত মানুষ পাওয়া গেলে পৃথিবীর অর্ধেক সাহিত্য বন্ধ হয়ে যেত।

Facebook comment section সম্ভবত পুরোপুরিই।

প্রশ্ন হলো—ভুলের পর আমরা কী করি?

ভুল স্বীকার?

নাকি defend করতে আরও দশটি ভুল?

ক্ষমা চাই?

নাকি ইতিহাস rewrite?

শিখি?

নাকি একই কাজ নতুন যুক্তিতে আবার করি?

নিজের ভুল দেখে হাসতে পারা বুদ্ধিমত্তা।

ভুল স্বীকার সাহস।

আর অন্যের ভুল দেখেও তাকে মানুষ হিসেবে মর্যাদা দেওয়া—সভ্যতা।

আর আমাদের সবার জন্য প্রশ্ন

অন্যের বিচার অনেক হলো।

এবার নিজের খাতা?

আমরা কতবার বলেছি—“আমারও ভুল ছিল”?

সম্ভবত মানবিক সম্পর্কের সবচেয়ে healing বাক্যগুলোর একটি এটি।

আমি পুরোপুরি নির্দোষ নই।

তুমিও পুরোপুরি দোষী নও।

ঘটনা জটিল হতে পারে।

মানুষও।

নিজের অংশের দায় স্বীকার করার মধ্যেই reconciliation-এর দরজা খুলে।

সেই অর্থে ‘নিজের মুখোমুখি’ কোনো melancholy slogan নয়।

এটি social reform-এর micro-foundation।

কারণ সমাজ নামের বড় entity-টি শেষ পর্যন্ত কোটি কোটি ‘আমি’ দিয়ে তৈরি।

সবাই যদি বলে—“প্রথমে অন্যজন বদলাক”—

তাহলে পরিবর্তন waiting room-এ বসে থাকবে।

কেউ একজন বলতে হবে—“শুরুটা আমি করি।”

শেষ আয়না

সকালবেলার সেই মানুষটির কাছে আবার ফিরে যাই।

এখন রাত।

তিনি আয়নার সামনে দাঁড়িয়েছেন।

সকালে চুল ঠিক করেছিলেন।

জামার কলার ঠিক করেছিলেন।

চেহারা দেখে সন্তুষ্ট হয়ে বেরিয়েছিলেন।

সারাদিন অনেক ঘটনা ঘটেছে।

কেউ প্রশংসা করেছে।

কেউ উপেক্ষা করেছে।

কারও আচরণে রাগ হয়েছে।

কারও কথায় কষ্ট।

কারও সাফল্যে ঈর্ষা হয়তো একটু এসেছে।

নিজের কোনো সাফল্যে অহংকারও।

কোনো বন্ধুর ফোন ধরেননি হয়তো।

কাউকে নিয়ে পেছনে কথা বলেছেন।

কোথাও সত্য বলার সুযোগ ছিল, বলেননি।

আবার কোথাও ভালো কাজও করেছেন।

কারও পাশে দাঁড়িয়েছেন।

কারও কষ্ট শুনেছেন।

কাউকে ক্ষমা করেছেন।

নিজেও হয়তো ক্ষমা চেয়েছেন।

মানুষ তো এমনই।

আলো আর ছায়া একসঙ্গে বহন করে।

এবার তিনি আয়নায় তাকান।

চুল আর ঠিক করেন না।

কলারও নয়।

মনে পড়ে—

জীবনের সুর।

দুধের মাছি।

Attic Detective।

পুরোনো খাতা।

বহুরূপী মানুষ।

Chacha President।

গায়ের জোর।

আজ তোমার দিন, কাল আমার।

সময়কে সময় দেওয়া।

সময় যে লিখে রাখে।

প্রেমের বাঁশি।

রহমত ও সত্যের শিক্ষা।

আর সবশেষে—

“অন্যের হিসাব পরে হবে—আগে নিজের খাতাটা খোলো।”

আয়না কিছু বলে না।

এবার আর তার বলার দরকারও নেই।

কারণ মানুষটি বুঝেছেন—

প্রশ্নটা আয়নার নয়।

তাঁর নিজের।

তিনি কিছুক্ষণ নিজের চোখের দিকে তাকিয়ে থাকেন।

তারপর হয়তো খুব ধীরে জিজ্ঞেস করেন—

আমি আসলে কেমন মানুষ?

কেউ উত্তর দেয় না।

দোতারার শেষ টুং থেমে যায়।

বাঁশির দীর্ঘ টান মিলিয়ে যায়।

ঢোল চুপ করে।

গানের শেষ chorus শেষ হয়।

YouTube-এর progress bar ডান প্রান্তে পৌঁছে যায়।

পনেরোটি গান শেষ।

কিন্তু সম্ভবত আসল গান তখনই শুরু।

সে গানে কোনো playback singer নেই।

নিজেকেই গাইতে হয়।

তার lyrics আগে থেকে লেখা নেই।

প্রতিদিন কাজ দিয়ে লিখতে হয়।

কখনো ভুল হবে।

কখনো সুর কেটে যাবে।

কখনো তাল হারাব।

কখনো কাঁদব।

কখনো হাসব।

কখনো অন্যায় করব এবং বুঝে ক্ষমা চাইব।

কখনো অন্যায়ের শিকার হব, কিন্তু চেষ্টা করব নিজে জালিম না হতে।

কখনো মানুষ আমাদের ছেড়ে যাবে।

কেউ থেকে যাবে।

কখনো ক্ষমতা আসবে।

আবার যাবে।

কখনো আমরা সামনে থাকব।

কখনো পেছনে।

কখনো জয়।

কখনো পরাজয়।

কিন্তু প্রতিটি নতুন সকাল আমাদের একটি নতুন verse লেখার সুযোগ দেবে।

আমরা নিখুঁত নই।

নিখুঁত হওয়ার দাবিও নেই।

শুধু একটি চেষ্টা থাকতে পারে—

গতকালের চেয়ে আজ একটু কম অহংকারী।

একটু কম বিচারপ্রবণ।

একটু কম বহুরূপী।

একটু বেশি ন্যায়বান।

একটু বেশি সহমর্মী।

একটু বেশি সত্যবাদী।

একটু বেশি মানুষ।

সেটুকুই হয়তো যথেষ্ট।

কারণ অন্যকে নিয়ে আমরা অনেক কথা বলেছি।

অন্যের ভুল নিয়ে সভা করেছি।

অন্যের চরিত্রের রিপোর্ট লিখেছি।

অন্যের জীবন নিয়ে thesis করেছি।

অন্যের মুখোশ গুনেছি।

অন্যের ক্ষমতার মেয়াদ হিসাব করেছি।

এবার সামান্য সময় নিজের জন্য রাখা যাক।

একবার আয়নার সামনে দাঁড়ানো যাক।

শুধু মুখ দেখতে নয়।

মানুষটাকে দেখতে।

পনেরোটি গান শেষ হয়।

কিন্তু আয়নাটি থেকে যায়।

প্রশ্নটিও।

সেই গানের নাম—অন্যকে নিয়ে আমরা অনেক কথা বলেছিএবার একটু নিজের সঙ্গে কথা বলা যাক

লেখক: অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান লিটু, উপদেষ্টা, অধিকারপত্র (odhikarpatranews@gmail.com)

 একনজরে ১৫টি গানের লিংক

প্লেলিস্ট: জীবনঘনিষ্ঠ গান ❤️ জীবনের গল্প, জীবনেরই সুর | Songs of Life — Listen • Feel • Reflect • Rethink Life

লিংক https://youtube.com/playlist?list=PLedt0gwThfwA&si=Qy49VT-wAeLKjmxa

  • Song-1: জীবনঘনিষ্ঠ গান — জীবনের গল্প, জীবনেরই সুর ❤️ | Jibon Ghonishtho Gaan | Cinematic Epic Bangla Song   https://youtu.be/XWjzi7qlB_Q?si=9PrQsMIR_rmRe3F0
  • Song-2: বুঝেছি বুঝেছি—তোরা বন্ধু ছিলি না! 😅 | দুধের মাছি | Dotara Bhatiali Parody Song | জীবনঘনিষ্ঠ গান| https://youtu.be/NRTELmdBMw4?si=2bDoMAjKBm5cv8-D
  • Song-3: Attic Detective 🕵️😂 | Duniya Ke Chor Pakde, Apna Kachra Bhool Gaya! | Hindi-English Parody Song https://youtu.be/sIg_LHjLnao?si=dB-Qva91SjE8a5gp
  • Song-4: নিজের মুখোমুখি | Nijer Mukhomukhi | ख़ुद से सामना ❤️ Who Am I Today? | Trilingual Power Ballad https://youtu.be/g3cEkFJnZAo?si=bwVnKYjxXzfXzEuY
  • Song-5: নিজের জীবন অসমাপ্ত, অন্যের জীবন Thesis! 😂 | নিজের মুখোমুখি | বাংলা হাস্যরসাত্মক প্যারোডি গান https://youtu.be/lvmRoPX937o?si=9rAvc8HaFJ-iVVtI
  • Song-6: Chacha President 😂 | Kursi To Chaar Din Ki Hai! | Urdu Parody Song | Gully Cricket Comedy https://youtu.be/QruKA0XLUCo?si=VaQOMpQnZkfdT-05
  • Song-7: গায়ের জোর কতদিন? 😂 | ক্ষমতার চেয়ার আজ আছে—কাল নেই! | Bangla Comedy Parody Song | Folk-Pop https://youtu.be/gCOhc7ewWLQ?si=5oxCsenZuOEx4FXe
  • Song-8: বহুরূপী মানুষ 🎭😂 | সামনে হাসে, পেছনে অন্য কাজ! | Bangla Folk Satire | Comedy Parody Song https://youtu.be/DL4Vj4ighf0?si=C6J7Nv2_mb1u-T2c
  • Song-9: জীবনের সুর — জীবনঘনিষ্ঠ গান ❤️🎶 | গান শুনুন, নিজেকে শুনুন | Bangla Philosophical Folk Song https://youtu.be/xHekZ9WsolA?si=k5Pph-WZkLzUPpNv
  • Song-10: আজ তোমাদের দিন, কাল আমাদের দিন 😂🎭 | Aaj Tumhara Din, Kal Hamara Din | Trilingual Folk-Parody https://youtu.be/haotSyBSz6M?si=LQUCya0mUX35yGJq
  • Song-11: সময়কে সময় দাও ⏳ | প্রতিশোধ নয়—বিচার চাই | শেষ বিচার আল্লাহর 🤲 | Bangla Sufi Folk Song https://youtu.be/RAtQ8SUfzkU?si=ykcaLsKBkjUXqnYe
  • Song-12: সময় লিখে রাখে | কে ছিল জুলুমের পাশে, কে ছিল সত্যের সাথে? | Bangla Sufi Folk Song  https://youtu.be/2_Rnpyv-YLE?si=ovgXkHg4TCtDHWA5
  • Song-13: শুভ জন্মাষ্টমী 🌸 Happy Janmashtami | Let Love Lead the Way | Bangla-English Krishna Song https://youtu.be/sf2ER1M_hms?si=PswJ4aFvztGdPOY9
  • Song-14: আসসালামু আলাইকা ইয়া নবী ﷺ 🌙 | রবিউল আউয়ালের চাঁদ—রহমতের আলো | ঈদে মিলাদুন্নবী বিশেষ গান Video link https://youtu.be/_iRzlPBMZu0
  • Song-15: এটা কী মুখোমুখি? 😂🪞 | অন্যের দোষ দেখি, নিজেরটা দেখি না! | Bangla Folk Parody Song https://youtu.be/Sw5Xd_WrM5w

 



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: