odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Saturday, 24th October 2026, ২৪th October ২০২৬
দ্য ওয়ালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেছেন, তার অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন দলের জ্যেষ্ঠ প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ সেলিম।

২৫ বছর পরও ব্রিটনি স্পিয়ার্সের সেই সাপ হাতে নাচের পরিবেশনা মুগ্ধ করে

odhikarpatra | প্রকাশিত: ৯ September ২০২৬ ০০:৩৮

odhikarpatra
প্রকাশিত: ৯ September ২০২৬ ০০:৩৮

 

অধিকার পত্র ডেস্ক: ২০০১ সালের MTV Video Music Awards (VMAs)-এর মঞ্চে ব্রিটনি স্পিয়ার্সের সেই ঐতিহাসিক পরিবেশনার ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। সময় পেরিয়ে গেলেও সাদা বাঘ, বিশাল অ্যালবিনো বার্মিজ অজগর আর চোখধাঁধানো পোশাকে ‘I’m a Slave 4 U’ গানের সেই পরিবেশনা এখনো পপ সংস্কৃতির অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে আলোচিত।

২০০১ সালে ব্রিটনি স্পিয়ার্স ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় পপ তারকাদের একজন। তাঁর দ্বিতীয় স্টুডিও অ্যালবাম ‘Oops!... I Did It Again’ ব্যাপক সাফল্য পাওয়ার পর নতুন গান প্রকাশের আগে ভক্তদের সামনে বড় কিছু উপস্থাপনের প্রত্যাশা ছিল।

সেই প্রত্যাশার চেয়েও বড় আয়োজন নিয়ে হাজির হন ১৯ বছর বয়সী ব্রিটনি। নিউইয়র্কের মেট্রোপলিটন অপেরা হাউসে অনুষ্ঠিত MTV VMAs-এর মঞ্চে তিনি প্রথমবার সরাসরি পরিবেশন করেন নতুন গান ‘I’m a Slave 4 U’।

পরিবেশনাটির শুরুতেই ছিল চমক। সোনালি ধাতব খাঁচা থেকে বেরিয়ে আসেন ব্রিটনি। খাঁচার ভেতরে ছিল একটি সাদা বাঘ। তাঁর পরনে ছিল সবুজাভ ব্রা-ধাঁচের টপ, অ্যাকুয়ামারিন রঙের ছোট প্যান্ট এবং ঝলমলে বুট। চারপাশে ছিলেন প্রাণীর আদলে সাজানো নৃত্যশিল্পীরা।

তবে পরিবেশনার সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত আসে শেষে। প্রায় ৭ ফুট লম্বা এবং ২০ পাউন্ড ওজনের একটি অ্যালবিনো বার্মিজ পাইথন, যার নাম ছিল ‘Banana’, ব্রিটনি নিজের কাঁধে জড়িয়ে নেন। সেই দৃশ্য রাতারাতি পপ সংস্কৃতির আইকনিক ছবিতে পরিণত হয়।

পোশাকেও ছিল বিশেষ পরিকল্পনা

ব্রিটনির সেই আলোচিত পোশাক তৈরি করেছিলেন ডিজাইনার কার্ট সোয়ানসন ও বার্ট মুলার। তাঁরা পেশাগতভাবে Kurt and Bart নামে পরিচিত।

ডিজাইনারদের ভাষ্য অনুযায়ী, গানের কথা, নাচের কোরিওগ্রাফি এবং ব্রিটনির পারফরম্যান্সের শক্তি—সবকিছু মিলিয়েই পোশাকের নকশা তৈরি করা হয়েছিল। পোশাকের বিভিন্ন অংশ হাতে রং করা ও সাজানো হয়েছিল এবং এতে ব্যবহার করা হয়েছিল Swarovski ক্রিস্টাল।

নকশায় জঙ্গল, উজ্জ্বল রঙের পোকামাকড়, ফুল ও পাখির রঙ থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়া হয়েছিল। সবুজ, ফিরোজা, হলুদসহ নানা উজ্জ্বল রঙের ব্যবহার ছিল এতে। ব্রিটনির শরীরের সঙ্গে পোশাকের নড়াচড়াও কোরিওগ্রাফির অংশ হয়ে উঠেছিল।

মঞ্চে ছিল সত্যিকারের বাঘ

পরিবেশনাটির প্রস্তুতিতে আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল জীবন্ত বাঘের উপস্থিতি। পোশাক ও নৃত্যের মহড়ার সময় প্রথমদিকে প্রাণীটি ছিল না। VMAs-এর টেকনিক্যাল রিহার্সালের দিনই শিল্পী ও নির্মাণ দলের সদস্যরা প্রথম বন্য প্রাণীগুলোর সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করে নেন।

বাঘটির প্রশিক্ষক দলকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, প্রাণীটির দৃষ্টিসীমার বাইরে থাকতে এবং এমন কোনো কিছু না করতে যা তার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে। ব্রিটনির পোশাকের ঝুলন্ত কাপড় ও পালকের কারণে মঞ্চায়নেও পরিবর্তন আনতে হয়েছিল।

ব্রিটনির প্রধান কোরিওগ্রাফার ওয়েড রবসন বাঘটির অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে মঞ্চের নৃত্য পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনেন, যাতে পরিবেশনের সময় ব্রিটনি প্রাণীটির সরাসরি দৃষ্টিসীমায় না থাকেন।

সেই সময়ের প্রযুক্তিও ছিল সম্পূর্ণ আলাদা

২০০১ সালের এই পরিবেশনা বর্তমান সময়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্মার্টফোননির্ভর যুগের অনেক আগের ঘটনা। মঞ্চের নকশাকার রে উইঙ্কলার জানান, তখন আন্তর্জাতিক দলের সঙ্গে কাজ করতে ভিডিও কনফারেন্সের সুবিধা ছিল না। স্কেচ তৈরি, স্ক্যান করে পাঠানো এবং ফ্যাক্সের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে হতো।

তাঁর নেতৃত্বে খাঁচা ও প্রাণী-নির্ভর একটি মঞ্চ তৈরি করা হয়। বাঘকে রাখার জন্য খাঁচার কাঠামো যথেষ্ট শক্তিশালী কি না, সেটিও ছিল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

উইঙ্কলারের মতে, সে সময় দর্শকদের হাতে এমন মোবাইল ফোন ছিল না, যার মাধ্যমে মুহূর্তেই পরিবেশনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হতো। টেলিভিশনে প্রচারিত পরিচালকের সম্পাদিত দৃশ্যই ছিল দর্শকদের দেখার প্রধান মাধ্যম।

ব্রিটনিকে ‘পপ পাপেট’ ভাবার ধারণা নিয়ে আপত্তি

ব্রিটনির দীর্ঘদিনের কোরিওগ্রাফার ও নৃত্যশিল্পী ব্রায়ান ফ্রিডম্যান মনে করেন, ওই সময় ব্রিটনির সৃজনশীল ভূমিকা অনেক বেশি ছিল। তাঁর মতে, ব্রিটনিকে শুধু একটি তৈরি করা পপ তারকা হিসেবে দেখার ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না।

ফ্রিডম্যান জানান, ব্রিটনি নিয়মিত নাচের মহড়া করতেন এবং মঞ্চে পারফর্ম করতে তিনি উপভোগ করতেন। ‘I’m a Slave 4 U’ গানটির কোরিওগ্রাফি নিয়েও তিনি ওয়েড রবসনের সঙ্গে কাজ করেছিলেন।

ব্রিটনির ২০২৩ সালের স্মৃতিকথা ‘The Woman in Me’-তেও তাঁর ক্যারিয়ার ও পরবর্তী জীবনের নানা অভিজ্ঞতা উঠে এসেছে। দীর্ঘদিনের কনজারভেটরশিপ থেকে মুক্ত হওয়ার পর তিনি বিভিন্ন সময় জানিয়েছেন যে আবার মঞ্চে ফিরে পারফর্ম করার বিষয়ে তাঁর আগ্রহ নেই।

২৫ বছর পরও কেন আলোচিত সেই পরিবেশনা?

সংস্কৃতি বিশ্লেষকদের মতে, ২০০১ সালের পরিবেশনার সময় MTV, টেলিভিশন ও সরাসরি সম্প্রচারের সাংস্কৃতিক প্রভাব ছিল অনেক বেশি। একই সময়ে কোটি দর্শকের সামনে একটি তারকার এমন ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিকল্পিত পরিবেশনা খুব দ্রুতই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসত।

ব্রিটনির সেই পরিবেশনায় পোশাক, নৃত্য, মঞ্চসজ্জা, বাঘ ও সাপ—সবকিছু একসঙ্গে মিলে একটি ব্যতিক্রমী দৃশ্য তৈরি করেছিল। বিশেষ করে কাঁধে বিশাল অজগর জড়িয়ে ব্রিটনির নাচের দৃশ্যটি পরবর্তীকালে তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম পরিচিত মুহূর্ত হয়ে ওঠে।

২৫ বছর পরও সেই পরিবেশনা পুনরায় আলোচনায় আসার অন্যতম কারণ হলো এর ভিজ্যুয়াল প্রভাব ও সময়ের পপ সংস্কৃতিতে এর অবস্থান। ব্রিটনি বর্তমানে মঞ্চে ফিরতে চান কি না—তা নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও তাঁর ২০০১ সালের সেই পরিবেশনার সাংস্কৃতিক প্রভাব এখনো টিকে আছে।