অধিকার পত্র ডটকম আন্তর্জাতিক ডেস্ক: প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর২০২৬,
মূল প্রতিবেদন
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা বাড়লেও কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও হুমকির সমালোচনা করেছেন, অন্যদিকে আলোচনার সুযোগ খোলা রাখার বার্তা দিয়েছেন।
পেজেশকিয়ান এর আগে জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, ইরান চাপ ও হুমকির কাছে মাথা নত করবে না। তবে একই সঙ্গে তিনি বিশ্বের সঙ্গে সহযোগিতা ও আলোচনার জন্য ইরানের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
এদিকে জাতিসংঘের অধিবেশনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের সামরিক বাহিনীকে ‘গুঁড়িয়ে দিয়েছে’। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনের জন্যও তাকে ধন্যবাদ জানান। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুর বক্তব্যের সময় জাতিসংঘ ভবনের বাইরে বিক্ষোভকারীরাও প্রতিবাদ করেন।
এর আগে পেজেশকিয়ানের বক্তব্যে ইরানের অবস্থান ছিল—চাপ, নিষেধাজ্ঞা বা সামরিক হুমকির মাধ্যমে তেহরানকে নত করা যাবে না। একই সঙ্গে তিনি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সংঘাত নিরসনে সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
সংঘাতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। ইরান জানিয়েছে, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথকে নিজেদের বিরুদ্ধে চাপ বা নিরাপত্তাহীনতা তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হলে তারা তা মেনে নেবে না। ফলে যুদ্ধের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলও সম্ভাব্য আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।
এদিকে আল জাজিরার ২৪ সেপ্টেম্বরের লাইভ আপডেটে জানানো হয়েছে, জাতিসংঘে নেতানিয়াহু ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে কঠোর দাবি তুলেছেন এবং ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। একই দিনে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসও জাতিসংঘে বক্তব্য দেন।
ফলে একদিকে সামরিক সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি হুমকি অব্যাহত থাকলেও অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকে আলোচনার দরজা খোলা রাখার বার্তা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটে কূটনৈতিক উদ্যোগের সম্ভাবনাকে আলোচনায় রেখেছে।
ইরানকে ‘বুলিং’ করে আলোচনায় বসানো যাবে না, কূটনীতির দরজা খোলা: তেহরান
#ইরান #যুক্তরাষ্ট্র #ইসরায়েল #হরমুজপ্রণালি
