odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Wednesday, 30th September 2026, ৩০th September ২০২৬
১ লাখ ২০ হাজার রুপিতে শিশুকে বিক্রির পর চার দফায় হাতবদল, মহারাষ্ট্র থেকে হায়দরাবাদে পৌঁছায় নবজাতক

দামি ফোন ও সোনার জন্য এক মাসের সন্তান বিক্রির অভিযোগ, মহারাষ্ট্রে গ্রেপ্তার ৭

odhikarpatra | প্রকাশিত: ৩০ September ২০২৬ ১৯:০৭

odhikarpatra
প্রকাশিত: ৩০ September ২০২৬ ১৯:০৭

অধিকারপত্র ডটকম, অনলাইন ডেক্স:

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

দামি মোবাইল ফোন ও সোনার গয়না কেনার জন্য নিজেদের এক মাস বয়সী সন্তানকে ১ লাখ ২০ হাজার রুপিতে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে ভারতের মহারাষ্ট্রের এক দম্পতির বিরুদ্ধে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর তদন্তে নেমে পুলিশ একটি আন্তঃরাজ্য শিশুপাচার চক্রের সন্ধান পেয়েছে বলে জানিয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগর এলাকায়। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, শিশুটিকে প্রথমে এক নারীর কাছে বিক্রি করা হয়। এরপর কয়েক দফায় হাতবদল হয়ে শিশুটিকে মহারাষ্ট্র থেকে তেলেঙ্গানার হায়দরাবাদে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবা-মা-সহ মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শিশুটিকে উদ্ধার করে নিরাপদ হেফাজতে রাখা হয়েছে।

১ লাখ ২০ হাজার রুপিতে শিশুকে বিক্রির অভিযোগ

পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, শিশুটির বাবা-মা এক দালালের মাধ্যমে সীমা রেশওয়াল নামে এক নারীর কাছে সন্তানকে বিক্রি করেন। এ সময় তারা ১ লাখ ২০ হাজার রুপি পান বলে অভিযোগ।

এরপর সীমা রেশওয়াল শিশুটিকে ২ লাখ ৭০ হাজার রুপিতে সঙ্গীতা আওহড় নামে এক নারীর কাছে বিক্রি করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

সঙ্গীতা শিশুটিকে নান্দেড়ে নিয়ে যান। সেখানে সুরেশ গুন্টুকা নামে এক ব্যক্তির কাছে শিশুটিকে ৩ লাখ ৫০ হাজার রুপিতে বিক্রি করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এরপর গুন্টুকা শিশুটিকে একই দামে হায়দরাবাদের উমা খটকম নামে এক নারীর কাছে হস্তান্তর করেন। অর্থাৎ শিশুটি মোট চার দফায় হাতবদল হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।

শিশুকে বিক্রির টাকা দিয়ে ফোন ও সোনা কেনার অভিযোগ

পুলিশের দাবি, শিশুটিকে বিক্রি করে পাওয়া ১ লাখ ২০ হাজার রুপির একটি অংশ দিয়ে দম্পতি দামি স্মার্টফোন এবং সোনার গয়না কেনেন।

তদন্তে এসব সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, শিশুটির বিক্রির সঙ্গে জড়িত অর্থের লেনদেন কীভাবে হয়েছে, তা নিয়েও তদন্ত করছে পুলিশ।

কীভাবে উদ্ধার হলো শিশু?

তদন্তকারীরা জানান, গোপন সূত্রে শিশুটিকে বিক্রির তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ অভিযান শুরু করে। প্রথমে সীমা রেশওয়ালকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একে একে অন্য অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের তদন্তে শিশুটির অবস্থান তেলেঙ্গানার হায়দরাবাদে শনাক্ত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা শিশুটিকে নিয়ে মহারাষ্ট্রের মুকুন্দওয়াড়ি থানায় হাজির হন এবং পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

পরে শিশুটিকে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির সামনে হাজির করা হয়। কমিটির নির্দেশে শিশুটিকে একটি অনুমোদিত শিশু পরিচর্যা প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে।

আন্তঃরাজ্য পাচারচক্রের আশঙ্কা

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে শুধু একটি শিশুকে বিক্রির ঘটনা নয়, বরং একাধিক রাজ্যে বিস্তৃত একটি শিশুপাচার নেটওয়ার্কের সম্ভাবনাও সামনে এসেছে।

তদন্তকারীরা গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না এবং অতীতে এ ধরনের আরও শিশু কেনাবেচার ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার সব অভিযুক্ত বর্তমানে হেফাজতে রয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত আছে।

ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে।

 

 

: দামি ফোন-সোনার জন্য নিজের সন্তান বিক্রি! ১ লাখ ২০ হাজার রুপিতে কেনাবেচার পর ৪ বার হাতবদল, গ্রেপ্তার ৭

#মহারাষ্ট্র #শিশুপাচার #শিশুবিক্রি #IndiaNews #MaharashtraNews #ChildTrafficking #CrimeNews #Hyderabad #ChhatrapatiSambhajinagar #odhikarpatra #অধিকারপত্র