odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Wednesday, 30th September 2026, ৩০th September ২০২৬
সম্মতি, ব্যক্তিগত সীমারেখা ও প্রত্যাখ্যানকে সম্মান করার শিক্ষা ছোটবেলা থেকেই ছেলেদের দেওয়া উচিত বলে মনে করেন বলিউড অভিনেত্রী

মেয়েদের নয়, ছেলেদের এমনভাবে বড় করুন যাতে কারও ক্ষতি না করে: দিয়া মির্জা

odhikarpatra | প্রকাশিত: ৩০ September ২০২৬ ১৯:০৭

odhikarpatra
প্রকাশিত: ৩০ September ২০২৬ ১৯:০৭

অধিকারপত্র ডটকম, অনলাইন ডেক্স। 

বিনোদন প্রতিনিধি :

মেয়েদের নিরাপত্তার জন্য কীভাবে চলতে হবে, কোথায় যেতে হবে কিংবা কীভাবে নিজেকে রক্ষা করতে হবে—ছোটবেলা থেকেই এসব নানা পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু ছেলেদের কী শেখানো হচ্ছে? নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে যখন আলোচনা চলছে, ঠিক সেই সময়ে সমাজমাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন বলিউড অভিনেত্রী দিয়া মির্জা।

দিয়ার মতে, শুধু মেয়েদের নিরাপদ থাকার শিক্ষা দিলেই হবে না; ছেলেদেরও এমন মূল্যবোধ নিয়ে বড় করতে হবে, যাতে তারা অন্য কারও ক্ষতির কারণ না হয়।

মঙ্গলবার ইনস্টাগ্রামে নিজের ভাবনা প্রকাশ করেন অভিনেত্রী। সেখানে তিনি ছেলেদের বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে সম্মতি, ব্যক্তিগত সীমারেখা, প্রত্যাখ্যানকে সম্মান করা এবং অন্যের অনুভূতি বোঝার মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন।

ছেলেদের কী শেখানো হচ্ছে?

দিয়ার বক্তব্যের মূল প্রশ্ন—মেয়েদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব শুধু তাদের ওপরই কেন থাকবে?

অভিনেত্রীর মতে, মেয়েদের বারবার সতর্ক করার পাশাপাশি ছেলেদেরও ছোটবেলা থেকেই শেখানো প্রয়োজন কীভাবে অন্য মানুষের প্রতি সম্মানজনক আচরণ করতে হয়। কারও ব্যক্তিগত পরিসরে হস্তক্ষেপ না করা, অন্যের অস্বস্তি বুঝতে পারা এবং নিজের আচরণের প্রভাব সম্পর্কে সচেতন হওয়া—এসব শিক্ষার অংশ হওয়া উচিত।

নিজের ছেলে অভিয়ান আজাদ রেখিকে বড় করার ক্ষেত্রেও এসব বিষয়কে গুরুত্ব দেন বলে জানান দিয়া।

‘সম্মতি’ নিয়ে স্পষ্ট বার্তা

ছেলেদের বড় করার ক্ষেত্রে সম্মতির বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন অভিনেত্রী।

দিয়ার মতে, কেউ সরাসরি ‘না’ বলেনি—এর অর্থ এই নয় যে সে সম্মতি দিয়েছে। কোনও সম্পর্ক, ঘনিষ্ঠতা বা ব্যক্তিগত যোগাযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির স্বতঃস্ফূর্ত ও স্বচ্ছন্দ সম্মতি থাকা প্রয়োজন।

অর্থাৎ নীরবতা কিংবা আপত্তি না জানানোকে সম্মতি হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়—এমন বার্তাই দিয়েছেন তিনি।

প্রত্যাখ্যান মেনে নেওয়াও শিক্ষার অংশ

কেউ কারও প্রতি আগ্রহ দেখাল না কিংবা কোনও প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল—এটিকে অপমান বা নিজের মর্যাদার ওপর আঘাত হিসেবে দেখা উচিত নয় বলেও মনে করেন দিয়া।

তার মতে, ছোটবেলা থেকেই ছেলেদের শেখাতে হবে যে প্রত্যেক মানুষের নিজের পছন্দ ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে। কেউ ‘না’ বললে সেই সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া এবং তাকে সম্মান করাও পরিণত হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

দিয়ার বক্তব্য অনুযায়ী, অন্যের সীমারেখাকে সম্মান করার শিক্ষা শুধু সম্পর্কের ক্ষেত্রে নয়, জীবনের প্রতিটি পর্যায়েই প্রয়োজন।

সন্তান পালনে মূল্যবোধের ওপর জোর

নিজের সন্তানকে বড় করার ক্ষেত্রে যত্ন, সম্মান, সহমর্মিতা ও সদয় আচরণকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন দিয়া। তার কাছে এগুলো শুধু মুখস্থ করানোর মতো কিছু শব্দ নয়; বরং প্রতিদিনের আচরণ ও পারিবারিক পরিবেশের মধ্য দিয়ে শেখার বিষয়।

অন্য ব্যক্তি অস্বস্তিতে পড়লে তার ইঙ্গিত বুঝতে পারা, ব্যক্তিগত পরিসরকে সম্মান করা এবং নিজের আচরণের জন্য দায়িত্বশীল হওয়া—এসব মূল্যবোধ ছোটবেলা থেকেই গড়ে তোলা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিয়ে যখন সমাজে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে, তখন দিয়া মির্জার এই বক্তব্য সন্তান প্রতিপালনে ছেলে-মেয়েদের জন্য আলাদা সামাজিক প্রত্যাশা এবং ছেলেদের মূল্যবোধের শিক্ষার বিষয়টি আবারও আলোচনায় এনেছে।