অধিকার পত্র ডটকম: ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের বিদায়ী হাইকমিশনার মো. রিয়াজ হামিদুল্লাহ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বিদায়ী সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
রোববার (৪ অক্টোবর) নয়াদিল্লিতে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় এস জয়শঙ্কর বলেন, নয়াদিল্লিতে বিদায়ী সৌজন্য সাক্ষাতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে গ্রহণ করতে পেরে তিনি আনন্দিত। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে তাঁর অবদানের প্রশংসা করে ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য শুভকামনাও জানান ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সাক্ষাতে ঢাকা-নয়াদিল্লির দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। ভারতে দায়িত্ব পালনকালে দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগ সচল রাখতে ভূমিকা রাখায় রিয়াজ হামিদুল্লাহকে ধন্যবাদ জানান জয়শঙ্কর।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কে নানা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ ও আলোচনার মাধ্যমে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
বাংলাদেশের কূটনৈতিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পেশাদার কূটনীতিক রিয়াজ হামিদুল্লাহ ভারতে তাঁর দায়িত্ব শেষ করছেন। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে নতুন হাইকমিশনার শিগগিরই দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
বিদায়ী সাক্ষাৎটি এমন এক সময়ে হলো, যখন ঢাকা ও নয়াদিল্লির সম্পর্ককে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার বিষয়ে দুই দেশই কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখছে।
জয়শঙ্করের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ
SEO Keywords
রিয়াজ হামিদুল্লাহ, এস জয়শঙ্কর, বাংলাদেশ হাইকমিশনার, ভারত বাংলাদেশ সম্পর্ক, বাংলাদেশ-ভারত কূটনৈতিক সম্পর্ক, নয়াদিল্লি, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাংলাদেশের হাইকমিশনার, ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী
Hashtags
#রিয়াজহামিদুল্লাহ #এসজয়শঙ্কর #বাংলাদেশভারত #কূটনীতি #ভারত #বাংলাদেশ #নয়াদিল্লি #দ্বিপক্ষীয়সম্পর্ক #অধিকারপত্র
অধিকার পত্র ডটকম: ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রেখে উদার, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে বঙ্গভবনে শ্রী শ্রী হরি-গুরুচাঁদ মতুয়া মিশন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শ্রী পদ্মনাভ ঠাকুরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বাসসকে এ তথ্য জানান।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ নিয়েছেন। সবার সম্মিলিত ঐক্যের ফলেই স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জিত হয়েছে। তাই এই ঐক্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার যেকোনো প্রচেষ্টা শক্তভাবে প্রতিহত করতে হবে।
তিনি বলেন, দেশের হিন্দু-মুসলমানদের মধ্যে দীর্ঘদিনের সামাজিক বন্ধন রয়েছে। এই সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখতে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
মতুয়া সম্প্রদায়ের উন্নয়ন ও কল্যাণের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি পিছিয়ে থাকা এই সম্প্রদায়ের উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি ও সুনির্দিষ্ট উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। এ ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র সাত মাসের মধ্যে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা এবং এ বিষয়ে নেতিবাচক প্রচারণা চালানোর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। এ ধরনের প্রচেষ্টা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনৈতিক কাঠামো পুনর্গঠন করে দেশকে এগিয়ে নেওয়া কঠিন। তবে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ ও পরিকল্পনা নিয়ে নিরলসভাবে এ লক্ষ্য অর্জনে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, দেশে উদার ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা কেউ যেন নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
রাষ্ট্রপতি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে সব সম্প্রদায়ের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতিকে মতুয়া সম্প্রদায়ের অন্যতম তীর্থস্থান শ্রীধাম ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ি পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানায়। জবাবে রাষ্ট্রপতি সেখানে যাওয়ার আশ্বাস দেন।
প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন শ্রী শ্রী হরি-গুরুচাঁদ মতুয়া মিশন কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সভাপতি ও জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য সুবর্ণা সিকদার (ঠাকুর), কমিটির উপদেষ্টা আহসান হাবিব অপু ও সমেন কুমার সাহা, সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ বিশ্বাস এবং শ্রী শ্রী হরি-গুরুচাঁদ মতুয়া মিশন খুলনা জেলা কমিটির সভাপতি নিত্যানন্দ মণ্ডলসহ মতুয়া সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ।
এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।
‘সম্প্রীতি নষ্টের যেকোনো চেষ্টা শক্তভাবে প্রতিহত করতে হবে’: রাষ্ট্রপতি
#মির্জাফখরুলইসলামআলমগীর #রাষ্ট্রপতি #সাম্প্রদায়িকসম্প্রীতি #গণতন্ত্র #মতুয়াসম্প্রদায় #বঙ্গভবন #ওড়াকান্দি #বাংলাদেশ #অধিকারপত্র
