odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Sunday, 11th October 2026, ১১th October ২০২৬
উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় এবং দায়িত্ব পালনে আন্তরিক হতে সরকারি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

জনগণের অর্থের প্রতিটি পয়সা দেশের কল্যাণে ব্যয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

odhikarpatra | প্রকাশিত: ১১ October ২০২৬ ২০:৫৭

odhikarpatra
প্রকাশিত: ১১ October ২০২৬ ২০:৫৭

নিজস্ব প্রতিবেদক | অধিকারপত্র ডটকম

উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ করা জনগণের অর্থের প্রতিটি পয়সা দেশের স্বার্থে ও মানুষের কল্যাণে ব্যয় নিশ্চিত করতে সরকারি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে সরকারি দায়িত্বকে দেশের মানুষের সেবা করার বিশেষ সুযোগ হিসেবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (১১ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু সভার বিষয়ে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

সভায় মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রম, গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্প, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা এবং নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

 জনগণের অর্থ ব্যয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্প ও লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে সরকার বাজেট বরাদ্দ দেবে। তবে এই অর্থ জনগণের। তাই বরাদ্দের প্রতিটি পয়সা যেন যথাযথভাবে দেশের স্বার্থে ও মানুষের কল্যাণে ব্যয় হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে মনোযোগী হতে হবে।

তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা অনেকগুলো প্রকল্প নিয়েছেন, অনেক টার্গেট ঠিক করেছেন। সেই লক্ষ্য অর্জনে সরকার বাজেট বরাদ্দ দেবে। কিন্তু এটা জনগণের অর্থ। আমি আশা করব, এই অর্থের প্রতিটি পয়সা যেন সঠিকভাবে দেশের স্বার্থে ও মানুষের কল্যাণে ব্যয় হয়।’

উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের পাশাপাশি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করাও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

সরকারি দায়িত্বকে জনসেবার সুযোগ হিসেবে দেখার আহ্বান

সরকারি দায়িত্ব পালনের সুযোগকে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার তুলনায় সরকারি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা বিশেষ সুযোগপ্রাপ্ত অবস্থানে রয়েছেন। এই সুযোগকে ব্যক্তিগত সুবিধার পরিবর্তে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানো উচিত।

তিনি বলেন, ‘আমরা যারা এখানে আছি, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার তুলনায় আমরা সবাই সুবিধাপ্রাপ্ত। আল্লাহ তা’আলা আমাদের দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করার একটা সুযোগ দিয়েছেন। যার যতটুকু কাজ করার সুযোগ আছে, আমরা যেন তা আন্তরিকভাবে করতে পারি।’

দায়িত্ব পালনের সুযোগ সব সময় এক রকম থাকে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যিনি যখন যে দায়িত্বে থাকবেন, তাঁর উচিত সেই সময় ও সুযোগকে দেশের মানুষের কল্যাণে যথাযথভাবে কাজে লাগানো।

সভা শেষে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে যার হাতে যত দিন দায়িত্ব পালনের সুযোগ রয়েছে, তত দিন সেই সুযোগকে দেশের স্বার্থে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

 সিদ্ধান্ত গ্রহণে মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর নির্দেশ

সভায় কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয়ভাবে মতামত দেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা, পর্যবেক্ষণ ও বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা সরকারের নীতিনির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে ভবিষ্যতেও পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, পরবর্তী বৈঠকগুলোতে কর্মকর্তারা তাঁদের অভিজ্ঞতা, পর্যবেক্ষণ ও মতামত আরও খোলামেলাভাবে তুলে ধরবেন।

 সভায় উপস্থিত ছিলেন যারা

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম ও উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মন্ত্রণালয়ের সচিব দেলোয়ার হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।