odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Saturday, 17th October 2026, ১৭th October ২০২৬
জাতীয় স্বার্থের কথা বলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন মার্কিন আইনের একাধিক নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক মওকুফ; ইউক্রেনকে সহায়তা ও রুশ ডিজেল আমদানি নিয়ে ওয়াশিংটন-কিয়েভ সম্পর্কে উত্তেজনা।

রাশিয়ার নিষেধাজ্ঞা মওকুফ করলেন ট্রাম্প, জেলেনস্কির সঙ্গে বাড়ছে বিরোধ

odhikarpatra | প্রকাশিত: ১৭ October ২০২৬ ১৩:৫৯

odhikarpatra
প্রকাশিত: ১৭ October ২০২৬ ১৩:৫৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক  /অধিকারপত্র ডটকম :

আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক | আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন আইনে নির্ধারিত একাধিক নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক কার্যকর না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) জারি করা নির্বাহী আদেশে তিনি বলেছেন, এসব ব্যবস্থা থেকে অব্যাহতি দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) প্রকাশিত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিদ্ধান্তটি এমন সময়ে এলো, যখন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের বিরোধ আরও তীব্র হচ্ছে।

রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আইনে কী ছিল?

গত সেপ্টেম্বরে মার্কিন কংগ্রেসে পাস হওয়া এবং ট্রাম্পের স্বাক্ষর পাওয়া ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট, ২০২৬’-এর লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য রাশিয়ার অর্থনৈতিক সক্ষমতা সীমিত করা।

আইনটিতে রাশিয়ার জ্বালানি কেনা দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপ, রুশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা এবং দেশটির আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহনে ব্যবহৃত তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান ছিল। রুশ জ্বালানি আমদানিকারক শীর্ষ পাঁচ দেশের পণ্যে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছিল।

তবে ১৬ অক্টোবরের নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প আইনের একাধিক ধারার প্রয়োগ স্থগিত বা মওকুফ করেছেন। আদেশে কংগ্রেসকে এ সিদ্ধান্তের পক্ষে জাতীয় স্বার্থের ব্যাখ্যা দেওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে।

 ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে মার্কিন কংগ্রেসে সমালোচনা

ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন মার্কিন আইনপ্রণেতাদের একাংশ। ভার্জিনিয়ার ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান ডন বেয়ার অভিযোগ করেছেন, এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ট্রাম্প মস্কোর কাছে নতি স্বীকার করছেন এবং ইউক্রেনের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে পিছিয়ে যাচ্ছেন।

বেয়ারের বক্তব্য অনুযায়ী, রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টি করতে কংগ্রেস যে আইন করেছে, নিষেধাজ্ঞা মওকুফের সিদ্ধান্ত তার উদ্দেশ্যকে দুর্বল করছে।

রুশ ডিজেল আমদানি ঘিরে ওয়াশিংটন-কিয়েভ বিরোধ

যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার ডিজেল আমদানির বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগ দুই দেশের বিরোধ আরও বাড়িয়েছে। ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের কারণে জ্বালানির বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির দাম ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

জেলেনস্কির অভিযোগ, রাশিয়ার জ্বালানি আমদানির মাধ্যমে মস্কোর যুদ্ধ পরিচালনার জন্য অর্থের জোগান অব্যাহত রাখার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান হলো—জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ।

‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’ নিয়েও মতবিরোধ

ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেন জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বন্ধের বিষয়ে সম্মত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে দুই দেশের অবস্থান ও বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

জেলেনস্কি বলেছিলেন, রাশিয়া হামলা বন্ধ করলে ইউক্রেনও একই পদক্ষেপ নেবে। কিন্তু রাশিয়ার নতুন হামলার অভিযোগ সামনে আসার পর ইউক্রেন আবার রুশ তেল শোধনাগারে হামলা শুরু করে। ট্রাম্প এ পদক্ষেপের সমালোচনা করে একে ‘লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেন। জেলেনস্কি পাল্টা বলেন, তিনি ইউক্রেনের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছেন।

স্টারলিংক ও গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে নতুন অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউক্রেনের বিরোধ শুধু নিষেধাজ্ঞা বা জ্বালানি আমদানিতে সীমাবদ্ধ নেই। জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সংযোগের গতি ইচ্ছাকৃতভাবে কমানো হয়েছে এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়েও বাধা দেওয়া হয়েছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের দাবি, সংযোগে সমস্যা চলাকালে রাশিয়া ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থানে প্রাণঘাতী হামলা চালায়। তবে ট্রাম্প ইউক্রেনের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় বন্ধ করা কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে স্টারলিংক সংযোগ ধীর করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

 ইউক্রেনের জন্য কী অর্থ বহন করছে এ সিদ্ধান্ত?

রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বজায় রাখা ইউক্রেনের যুদ্ধকৌশলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানি ও সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কার্যক্রমের ওপর চাপ কমতে পারে—এমন আশঙ্কা কিয়েভের। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের যুক্তি হলো, জাতীয় স্বার্থ ও জ্বালানির বাজারের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিষেধাজ্ঞার প্রয়োগে ছাড় দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্র-ইউক্রেন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ, রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমা দেশগুলোর ঐক্য এবং যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে এই পদক্ষেপের কারণে যুদ্ধের গতিপথ কীভাবে বদলাবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

সূত্র: হোয়াইট হাউসের নির্বাহী আদেশ, রয়টার্স, বিবিসি ও আল জাজিরার প্রতিবেদন।