odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Wednesday, 21st October 2026, ২১st October ২০২৬
দেশে প্রায় ৬০ লাখ মানুষ হাড় ক্ষয়জনিত এ রোগে আক্রান্ত বলে ধারণা; নিয়মিত পরীক্ষা, দ্রুত শনাক্তকরণ ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব

অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে ৬৪ জেলায় সচেতনতা ও স্ক্রিনিং কার্যক্রমের আহ্বান জুবাইদা রহমানের

odhikarpatra | প্রকাশিত: ২০ October ২০২৬ ২৩:৫০

odhikarpatra
প্রকাশিত: ২০ October ২০২৬ ২৩:৫০

নিজস্ব প্রতিবেদক | অধিকারপত্র ডটকম

হাড় ক্ষয়জনিত রোগ অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে দেশের ৬৪ জেলায় সমন্বিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি ও স্ক্রিনিং কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেছেন, রোগটি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি আক্রান্ত ব্যক্তিদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল ভবনের কনভেনশন হলে বিশ্ব অস্টিওপোরোসিস দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘অস্টিওপোরোসিস: প্রতিরোধযোগ্য মহামারি’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, অস্টিওপোরোসিস একটি নীরব রোগ। এ রোগে হাড় দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে পড়ে, ফলে সামান্য আঘাতেও হাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এতে আক্রান্ত ব্যক্তির স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয় এবং দৈনন্দিন কাজ করার সক্ষমতা কমে যেতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিপুলসংখ্যক মানুষ এ রোগের কারণে হাড় ভাঙা ও দীর্ঘমেয়াদি দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ সব এলাকার মানুষের কাছে রোগটির প্রতিরোধ, শনাক্তকরণ ও চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।

 দেশে প্রায় ৬০ লাখ আক্রান্তের আশঙ্কা

সেমিনারে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের একটি পরিসংখ্যানে বাংলাদেশে প্রায় ৬০ লাখ মানুষ অস্টিওপোরোসিসে আক্রান্ত বলে ধারণা করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে মন্তব্য করেন ডা. জুবাইদা রহমান। বয়স্ক আক্রান্তদের মধ্যে নারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য বলেও তিনি জানান।

উত্তর-মধ্য বাংলাদেশের ৪৫ থেকে ৮০ বছর বয়সী নারীদের ওপর পরিচালিত একটি গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ওই গবেষণায় অস্টিওপোরোসিসের প্রাদুর্ভাব পাওয়া গেছে ৪০ শতাংশ এবং অস্টিওপেনিয়ার হার ৪৩ দশমিক ৫ শতাংশ। গবেষণায় অংশ নেওয়া ৮৩ শতাংশের বেশি নারীর হাড়ের ঘনত্বে ঘাটতি ছিল।

এ ছাড়া শহরাঞ্চলে ৪৬ থেকে ৬৫ বছর বয়সী নারীদের ওপর পরিচালিত একটি পুরোনো হাসপাতালভিত্তিক গবেষণায় অস্টিওপোরোসিসের হার ৪১ দশমিক ৮ শতাংশ এবং অস্টিওপেনিয়ার হার ৪০ দশমিক ৭ শতাংশ পাওয়া যায় বলে সেমিনারে উল্লেখ করা হয়।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, বাংলাদেশে কতসংখ্যক নারী অস্টিওপোরোসিসে ভুগছেন, তার সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নির্ধারণ করা কঠিন। এ জন্য আরও গবেষণা ও নিয়মিত স্ক্রিনিং প্রয়োজন। কন্যাশিশু ও তরুণীদের জন্য উপযুক্ত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া গেলে ভবিষ্যতে এ রোগের ঝুঁকি ও জটিলতা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

৬৪ জেলায় সচেতনতা কর্মসূচির প্রস্তাব

অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে একটি অস্টিওপোরোসিস সোসাইটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন ডা. জুবাইদা রহমান। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলায় সমন্বিতভাবে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করা সম্ভব হবে। কোনো এলাকার মানুষ যেন সচেতনতা ও স্ক্রিনিংয়ের অভাবে এ রোগের ব্যথা ও দুর্ভোগের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, চিকিৎসক সমাজ জনগণকে অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করতে এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দেশজুড়ে নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমেও এ রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো সম্ভব।

প্রতিবছর অস্টিওপোরোসিস সচেতনতা মাস পালনের প্রস্তাব দিয়ে তিনি নিয়মিত সভা, র‌্যালি ও প্রচারাভিযানের আয়োজনের ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি জেলা ও বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের জন্য আধুনিক রোগ নির্ণয় পদ্ধতি বিষয়ে সেমিনার আয়োজনের আহ্বান জানান।

পুষ্টি, স্ক্রিনিং ও দ্রুত শনাক্তকরণে গুরুত্ব

অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে পুষ্টি ও জনস্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি, হাড়ের খনিজ ঘনত্ব কমে যাওয়া এবং শৈশবে ক্যালসিয়াম গ্রহণের মতো বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

তিনি হাড়ের খনিজ ঘনত্ব নির্ণয়ে স্ক্রিনিং ক্যাম্প আয়োজন এবং নির্দিষ্ট বিরতিতে কমিউনিটিভিত্তিক স্ক্রিনিংয়ের সুযোগ তৈরির আহ্বান জানান। যেসব এলাকায় হাড়ের খনিজ ঘনত্ব নির্ণয়ের ব্যবস্থা নেই, সেখানে ফ্র্যাকচার রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট টুল ব্যবহার করে হাড় ভাঙার ঝুঁকি মূল্যায়নের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, অস্টিওপোরোসিসের পরিণতি কমাতে দেশব্যাপী সমন্বিত উদ্যোগ, রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি।

সেমিনারে চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণ

ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ড্যাবের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার এবং ডা. আব্দুস সালাম এমপি।

সেমিনারে বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে প্রশ্নোত্তর পর্ব, প্যানেল আলোচনা ও কুইজ অনুষ্ঠিত হয়। প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক ডা. এরফানুল হক সিদ্দিকী, অধ্যাপক ডা. ফারুক কাশেম, অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আকরাম হোসেন, অধ্যাপক ডা. শামীম আহমেদ, ডা. শেখ ফরিদ আহমেদ এবং অধ্যাপক মোহাম্মদ বেলালুল ইসলাম।

‘আজীবন হাড় গড়ুন, সুরক্ষা দিন ও শক্তিশালী করুন’ প্রতিপাদ্যে এবারের কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। এতে বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা দিচ্ছে ইনসেপ্টা। হাড়ের ক্ষয়জনিত রোগ অস্টিওপোরোসিস সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে প্রতিবছর ২০ অক্টোবর বিশ্ব অস্টিওপোরোসিস দিবস পালন করা হয়।

 

 

 

অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে ৬৪ জেলায় সচেতনতা ও স্ক্রিনিংয়ের আহ্বান জুবাইদা রহমানের

বাংলাদেশে প্রায় ৬০ লাখ মানুষ অস্টিওপোরোসিসে আক্রান্ত বলে ধারণা করা হয়। হাড় ক্ষয়জনিত এ রোগ প্রতিরোধে দেশের ৬৪ জেলায় সচেতনতামূলক কর্মসূচি, নিয়মিত স্ক্রিনিং ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন ডা. জুবাইদা রহমান।

মঙ্গলবার বিশ্ব অস্টিওপোরোসিস দিবস উপলক্ষে বিএমইউর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল ভবনে ড্যাব আয়োজিত এক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে তিনি বলেন, অস্টিওপোরোসিসে হাড় দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে পড়ে, ফলে হাড় ভাঙার ঝুঁকি বাড়ে।

রোগটির প্রকৃত চিত্র জানতে আরও গবেষণা, পুষ্টিবিষয়ক সচেতনতা এবং দ্রুত শনাক্তকরণের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

বিস্তারিত পড়ুন অধিকার পত্র ডটকমে।

#জুবাইদারহমান #অস্টিওপোরোসিস #হাড়েরস্বাস্থ্য #বিশ্বঅস্টিওপোরোসিসদিবস #স্বাস্থ্য #বিএমইউ #ড্যাব #অধিকারপত্রডটকম