odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Wednesday, 28th October 2026, ২৮th October ২০২৬
উত্তরা ও ভাটারায় অভিযান চালিয়ে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ১২ নারীকে উদ্ধার করেছে এসআরবি-১; বিদেশে পাচার, নির্যাতন ও অনৈতিক কাজে বাধ্য করার অভিযোগ

চীনে চাকরির প্রলোভনে ঢাকায় এনে ১২ নারীকে আটকে রাখার অভিযোগ, উদ্ধার ২ কিশোরী

odhikarpatra | প্রকাশিত: ২৭ October ২০২৬ ২৩:৩৫

odhikarpatra
প্রকাশিত: ২৭ October ২০২৬ ২৩:৩৫

নিজস্ব প্রতিবেদক | অধিকার পত্র ডটকম

চীনে উচ্চ বেতনে চাকরি ও নানা সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে ঢাকায় এনে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ১২ নারীকে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের মধ্যে দুজনের বয়স ১৫ বছর। বিদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে রাজধানীর দুটি এলাকায় তাঁদের আটকে রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১। সোমবার (২৬ অক্টোবর) উত্তরা পশ্চিম ও ভাটারা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের উদ্ধার করা হয়।

এসআরবি-১-এর গণমাধ্যম কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহ আলমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার বিকেল ৩টার দিকে উত্তরা পশ্চিম থানার জমজম টাওয়ার-সংলগ্ন এলাকা থেকে দুই নারীকে উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার হওয়া ওই দুই নারীর দেওয়া তথ্য এবং চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানায় করা একটি সাধারণ ডায়েরির (জিডি) সূত্র ধরে ভাটারা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সোমবার রাত ৮টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে আরও ১০ নারীকে উদ্ধার করা হয়।

চাকরির প্রলোভন, নির্যাতনের অভিযোগ

এসআরবি-১ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধার হওয়া নারীরা জানিয়েছেন, তাঁদের চীনে উচ্চ বেতনে চাকরি ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখানো হয়েছিল। পরে বিদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে বৈধ ভ্রমণসংক্রান্ত কাগজপত্র ও পাসপোর্ট ছাড়াই তাঁদের একটি বাসায় আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা।

উদ্ধার হওয়া নারীদের অভিযোগ, আটকে রাখার সময় তাঁদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন অনৈতিক কাজে জড়ানোর জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পরিচয়, তাঁদের ভূমিকা কিংবা কথিত পাচারচক্রের বিস্তৃতি সম্পর্কে সরবরাহ করা তথ্যে বিস্তারিত উল্লেখ নেই।

পরিবারের কাছে হস্তান্তর, মামলা করার প্রস্তুতি

এসআরবি-১ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষে উদ্ধার হওয়া ১২ নারীকে তাঁদের পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পরিবার মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে নারীদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়া, আটকে রাখা এবং বিদেশে পাচারের চেষ্টা হয়ে থাকলে তা মানবপাচার ও সংশ্লিষ্ট অপরাধের তদন্তের বিষয়। তবে ঘটনায় কারা জড়িত, কীভাবে তাঁদের ঢাকায় আনা হয়েছিল এবং বিদেশে পাঠানোর পরিকল্পনায় আর কেউ যুক্ত ছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

 এসআরবি-১-এর গণমাধ্যম কর্মকর্তার বক্তব্যের ভিত্তিতে সরবরাহ করা তথ্য।