আন্তর্জাতিক ডেস্ক | অধিকারপত্র ডটকম
ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনের পর দেশটির পরবর্তী সরকার কে গঠন করবেন—দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, নাকি বিরোধী শিবিরের নেতা ও সাবেক সামরিক প্রধান গাদি আইজেনকোট—তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। নির্বাচনের প্রাথমিক বুথফেরত জরিপে কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।
ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য অন্তত ৬১ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন প্রয়োজন। ফলে নির্বাচনে কে বেশি আসন পেয়েছেন, শুধু সেই হিসাবই শেষ কথা নয়; বরং কোন দলগুলো একসঙ্গে জোট গঠন করতে পারবে, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
আল-জাজিরার ২৮ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের রাতে প্রকাশিত চারটি বুথফেরত জরিপে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট এবং আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের আসনসংখ্যায় খুব বেশি ব্যবধান দেখা যায়নি। কান ১১ ও চ্যানেল ১৩-এর জরিপে দুই পক্ষের আসনসংখ্যা ৫১টি করে দেখানো হয়। চ্যানেল ১২-এর জরিপে নেতানিয়াহুর জোট ৫২টি এবং বিরোধী জোট ৪৯টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা দেওয়া হয়। অন্য একটি জরিপেও দুই পক্ষের কেউই নিশ্চিত সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।
জোট গঠনে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো
দুই প্রধান রাজনৈতিক শিবিরের বাইরে থাকা আরব নেতৃত্বাধীন রা’আম ও জয়েন্ট লিস্ট দলগুলোর আসন সরকার গঠনের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিভিন্ন বুথফেরত জরিপে দল দুটির সম্মিলিত আসনসংখ্যা ১৬ থেকে ১৯টির মধ্যে অনুমান করা হয়েছে।
তবে এসব দলের সমর্থন পাওয়া রাজনৈতিকভাবে সহজ হবে না। নেতানিয়াহু আরব দলগুলোর ওপর নির্ভরশীল সরকার গঠনের বিরোধিতা করেছেন। অন্যদিকে, আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবিরের মধ্যেও আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে জোট বা সহযোগিতার প্রশ্নে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফলে সংখ্যার হিসাবে সম্ভাব্য সমর্থন থাকলেও তা বাস্তবে সরকার গঠনের চূড়ান্ত সমাধান হবে কি না, তা নির্ভর করবে রাজনৈতিক সমঝোতার ওপর।
কীভাবে নির্ধারিত হবে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী?
ইসরায়েলে ভোটাররা সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করেন না; তারা পার্লামেন্টের সদস্য নির্বাচনের জন্য দলকে ভোট দেন। এরপর বিভিন্ন দল জোট গঠন করে সরকার প্রতিষ্ঠা করে।
নির্বাচনের ফল চূড়ান্ত হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ সরকার গঠনের জন্য এমন একজন প্রার্থীকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করবেন, যাঁর সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া দলের নেতাই যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রধানমন্ত্রী হবেন, এমন নয়। তাঁকে প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করতে হবে।
কোনো পক্ষই প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হলে জোট আলোচনা দীর্ঘায়িত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে নতুন নির্বাচনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও থাকবে।
এখন নজর চূড়ান্ত ফল ও জোট আলোচনায়
নির্বাচনের প্রাথমিক জরিপ ও গণনার চিত্র থেকে স্পষ্ট, ইসরায়েলে সরকার গঠনের হিসাব কেবল দুই প্রধান শিবিরের আসনসংখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ছোট দলগুলোর অবস্থান, সম্ভাব্য জোটসঙ্গীদের সিদ্ধান্ত এবং প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া—সবকিছুই পরবর্তী সরকার নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।
আল-জাজিরা এ পরিস্থিতি বোঝার জন্য একটি ইন্টারঅ্যাকটিভ টুল প্রকাশ করেছে। এতে চারটি বুথফেরত জরিপের যেকোনো একটি বেছে নিয়ে অথবা নিজেদের মতো করে বিভিন্ন দলের আসনসংখ্যা নির্ধারণ করে জোটের হিসাব পরীক্ষা করা যায়। ৬১ আসনে পৌঁছাতে কোন কোন দলকে একসঙ্গে আনতে হবে, তা-ও দেখা যায়।
**সূত্র:** আল-জাজিরা, ২৮ অক্টোবর ২০২৬; রয়টার্সের নির্বাচনী প্রতিবেদন
:
নেতানিয়াহু নাকি আইজেনকোট—ইসরায়েলের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে? সরকার গঠনে বড় বাধা ৬১ আসনের হিসাব
#ইসরায়েল_নির্বাচন #নেতানিয়াহু #গাদি_আইজেনকোট #IsraelElection2026 #BenjaminNetanyahu #GadiEisenkot #IsraelPolitics #Odhikarpatra
