odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Wednesday, 4th November 2026, ৪th November ২০২৬
নতুন মজুরি বোর্ডের সিদ্ধান্ত পর্যন্ত ধৈর্য ধরার আহ্বান, শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধিতে শিল্পের সক্ষমতা বিবেচনার তাগিদ।

পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন স্থগিত করে কাজে ফেরার আহ্বান মালিকদের

odhikarpatra | প্রকাশিত: ৩ November ২০২৬ ২৩:২৭

odhikarpatra
প্রকাশিত: ৩ November ২০২৬ ২৩:২৭

অধিকারপত্র ডটকম নিজস্ব প্রতিবেদক 

ঢাকা | ৩ নভেম্বর ২০২৬ | অধিকার পত্র ডটকম

পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের পরিপ্রেক্ষিতে চলমান আন্দোলন স্থগিত রেখে শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকেরা। তাঁদের মতে, মজুরি বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন সচল রাখা এবং আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিক অসন্তোষের সমাধান করা প্রয়োজন।

মালিকপক্ষ বলছে, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের ন্যায্য স্বার্থের পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতাও বিবেচনায় নিতে হবে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

 মজুরি বোর্ডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষার আহ্বান

বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ও এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সমাধান হওয়া উচিত। এ জন্য মজুরি বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে।

তিনি জানান, ২০২১ সালে সর্বশেষ মজুরি বোর্ড গঠনের সময় পাঁচ বছর ধরে প্রতিবছর ৫ শতাংশ হারে বাধ্যতামূলক বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার এই সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করে এবং বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯ শতাংশ নির্ধারণ করে।

ফজলুল হকের ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী জানুয়ারিতে তিন বছরের এই সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা। তাই মিছিল বা আন্দোলনের পরিবর্তে নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মজুরি বৃদ্ধির বিষয়টি সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

শ্রমিকদের দাবি ও শিল্পের সক্ষমতা বিবেচনার তাগিদ

ফজলুল হক বলেন, শ্রমিকদের দুঃখ-কষ্টের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। তবে বেতন বাড়ানোর পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সেই বাড়তি ব্যয় বহনের সক্ষমতা রয়েছে কি না, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

তিনি আরও বলেন, সরকার গঠিত মজুরি বোর্ডে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের দুজন করে প্রতিনিধি এবং সরকারের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। ফলে বোর্ডের সিদ্ধান্তের ওপর সংশ্লিষ্ট সবার আস্থা রাখা প্রয়োজন।

কারখানা বন্ধের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, উত্তরা এলাকায় আট থেকে ১০ দিন আগেই বিচ্ছিন্ন মিছিলের মাধ্যমে শ্রমিক অসন্তোষের কিছু পূর্বাভাস পাওয়া গিয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সবাইকে ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।

আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ওপর জোর

এদিকে বিকেএমইএর বর্তমান কমিটির নির্বাহী সভাপতি এবং বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, শ্রমিকদের বেতন নির্ধারণের জন্য সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। তাই চলমান আন্দোলনের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতির সমাধান করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, মজুরি বোর্ড গঠনের পর আন্দোলনের দাবি এবং এর পেছনের কারণগুলো স্পষ্টভাবে জানা জরুরি। এ ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।

শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ বজায় রাখতে এবং শ্রমিক অসন্তোষের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

 শ্রমিক-মালিক সমঝোতাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প দেশের রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান খাত। এ খাতে উৎপাদন ব্যাহত হলে রপ্তানি কার্যক্রম, ক্রয়াদেশ বাস্তবায়ন এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।

অন্যদিকে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির বাস্তবতায় শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় ও ন্যায্য মজুরির প্রশ্নটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে শ্রমিকদের প্রত্যাশা এবং শিল্পের বাস্তব সক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করাই নতুন মজুরি বোর্ডের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।