odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Saturday, 10th January 2026, ১০th January ২০২৬

গভীর রাতে ইবাদত আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের উত্তম পন্থা

Mahbubur Rohman Polash | প্রকাশিত: ১৬ November ২০১৮ ২০:২০

Mahbubur Rohman Polash
প্রকাশিত: ১৬ November ২০১৮ ২০:২০

বদরের ময়দানে সত্যের ফুল ফোটাতে নিরস্ত্র মুজাহিদগণের অতুলনী গুণসমূহেরর মধ্যে এটিও ছিল একটি বিশেষ গুণ। মুজাহিদগণ রাতের শেষ প্রহরে জেগে ওঠে চোখের পানি ফেলে কাঁদতেন এবং আল্লাহ তায়ালার কাছে গুনাহ থেকে মাফ চাইতেন। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তাদের সে কথা পবিত্র কোরআনে উল্লেখ করে বলেন, এসব লোক অগ্নি পরীক্ষায় অটল ও অচল, সত্যের অনুরাগী, পরম অনুগত, আল্লাহর পথে মাল উৎসর্গকারী এবং রাতের শেষ প্রহরে আল্লাহর কাছে ভুলত্রুটির জন্য ক্ষমাপ্রার্থী।’ (সূরা : আলে ইমরান, ১৭)

অথচ আমরা অনেকেই আছি, যারা এই রাতকে ক্ষমা পাওয়ার পরিবর্তে পাপের নিয়ামক বানিয়ে নিই। রাত যতো গভীর হয় আমাদের পাপাচার যেন ততোই বেগবান হয়। অহেতুক গল্পগুজব, পরনিন্দা বা অনৈতিক কথাবার্তায় লিপ্ত থাকি। সমাজের বেশির ভাগ মানুষই এর সাথে জড়িত। রাতে বন্ধুদের সঙ্গে অযথা রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো, আর যারা বাইরে যায় না, তারা ঘরে বসে ইন্টারনেটে সারা দুনিয়া চষে বেড়ায়।

আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা এই রাতকে ঘুম বা স্রস্টা অন্বেষণকারীদের স্রস্টা পাওয়ার সূত্র আর প্রভুপ্রেমিকদের সেতুবন্ধন হিসেবে সৃষ্টি করেছনে। তাই তো তিনি রাতের ভাঁজে ভাঁজে এতো এতো সৌন্দর্য ঢেলে দিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয়ই নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডল সৃজনে এবং দিন-রাতের পরিবর্তনে সুস্পষ্ট নিদর্শন রয়েছে জ্ঞানীদের জন্য। যারা দাঁড়িয়ে, বসে, শুয়ে আল্লাহর জিকির করে এবং নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডল সৃজন নিয়ে চিন্তাভাবনা করে। (তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্বীকার করতে বাধ্য হয়) হে আমার প্রতিপালক! আপনি এগুলো বৃথা সৃষ্টি করেননি। আপনি বৃথা সৃষ্টি করার দোষ থেকে পবিত্রতম। (সূরা : আল ইমরান, ১৯০, ১৯১, ১৯২)

এই নির্জন নিশিকে আমরা শুধু ঘুম কিংবা পাপাচারে নষ্ট না করে মহান আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে তাঁরই কুদরতি পায়ে অবনত মস্তকে লুটিয়ে পড়তে। রাতের দ্বি-প্রহরে জেগে ওঠে দুই চার রাকাত তাহাজ্জুদ নামাজ পড়তে। এখন তো রাত যথেষ্ট বড় এবং নাতিশীতোষ্ণ। ইচ্ছে করলেই আমরা পরিমাণ মতো ঘুমিয়েও তাহাজ্জুদে অভ্যস্ত হতে পারি। রাত ১০ টায় ঘুমিয়ে পড়লে ভোর ৪ টায় সহজেই জাগা যায়। এতে ৬ ঘন্টা ঘুমও হবে। আবার তাহাজ্জুদও পড়া যাবে। তাহাজ্জুদের ফজিলত প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন, ‘রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ নামাজ কায়েম করুন; এটা আপনার জন্য এক অতিরিক্ত কর্তব্য। আশা করা যায়, আপনার প্রতিপালক আপনাকে প্রতিষ্ঠিত করবেন মাকামে মাহমুদে (প্রশংসিত স্থানে)। ‘ (সূরা বনি ইসরাইল : ৭৯) তিনি আরও বলেন, ‘তারা শয্যা ত্যাগ করে আকাঙ্খা ও আশঙ্কার সঙ্গে তাদের প্রতিপালককে ডাকে এবং আমি তাদের যে রুজি প্রদান করেছি, তা থেকে তারা দান করে।’ (সূরা সিজদা : ১৬)

অন্য এক আয়াতে তাদেরকে আল্লাহর প্রিয় বান্দা ও ঈমানদার আখ্যায়িত করে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা বলেছেন, ‘আল্লাহর প্রিয় বান্দা তারা, যারা তাদের প্রতিপালকের দরবারে সিজদা করে এবং দাঁড়িয়ে থেকেই রাত কাটিয়ে দেয়।’ (সূরা : ফুরকান, ৬৩-৬৪)



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: