
দেশের সব উপজেলায় বয়স্ক ভাতা দিতে চায় সরকার। সে লক্ষ্যে আগামী বাজেটে এর আওতা বাড়ানো হচ্ছে।আগামী বাজেটে আরো ১১ লাখ উপকারভোগীকে সরকার বয়স্ক ভাতার আওতায় আনার উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
সূত্রে আরো জানা গেছে, এ লক্ষ্যে আরো ১০০ উপজেলাকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। নতুন ১১ লাখসহ মোট উপকারভোগীর সংখ্যা দাঁড়াবে ৬৮ লাখ। এতে সরকারের ব্যয় বাড়বে ৫০০ কোটি টাকা।
নিত্যপণ্যের দাম বাড়লেও আগামী অর্থবছরে সমাজের অবহেলিত বয়স্ক ও বিধবাদের ভাতার পরিমাণ বাড়ানোর বিষয়ে সরকার এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
গতকাল রোববার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার কমিটির ২৮তম বৈঠকে বয়স্ক ভাতার আওতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে সামাজিক নিরাপত্তা খাতের বয়স্ক ভাতার আওতা, উপকারভোগীর সংখ্যা এবং ভাতার পরিমাণ বাড়ানোর ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। তবে আগামী অর্থবছরে বয়স্ক ভাতা না বাড়িয়ে শুধু এর আওতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো মাসে ১০০ টাকা হারে বয়স্ক ভাতা চালু করে সরকার। বয়স্ক জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পরিবার ও সমাজে তাদের মর্যাদা বাড়ানো, আর্থিক অনুদানের মাধ্যমে মনোবল জোরদার এবং চিকিৎসা ও পুষ্টি সরবরাহ বাড়াতে এই ভাতা চালু করা হয়। একইভাবে পরের অর্থবছর থেকে বিধবা ভাতা চালু করা হয়। প্রাথমিকভাবে দেশের সব ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিটি ওয়ার্ডে পাঁচজন পুরুষ ও পাঁচজন নারীকে প্রতি মাসে ১০০ টাকা হারে ভাতার আওতায় আনা হয়। পরে দেশের সব পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়।
তিন বছর আগে ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়। ফলে গত তিন অর্থবছর ধরে উপকারভোগীরা মাসে ৫০০ টাকা হারে ভাতা পাচ্ছেন। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে বয়স্ক ও বিধবা ভাতা ৬০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছিল। আগামী অর্থবছরে ভাতার পরিমাণ না বাড়লে চার অর্থবছর ধরে একই হারে টাকা পাবেন বয়স্ক ও বিধবারা।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: