
ইউক্রেনের প্রভাবশালী রাজনীতিক ও সাবেক সংসদীয় স্পিকার আন্দ্রি পারুবিয় লভিভ শহরে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলিতে নিহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, হামলাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত ও সুসংগঠিত। শনিবার দুপুরে ছদ্মবেশী বন্দুকধারী এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়, যা দেশজুড়ে চরম আলোড়ন তুলেছে।
ঘটনাবিবরণ:
স্থানীয় পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, শনিবার (৩০ আগস্ট, ২০২৫) দুপুর ১২টার কিছু পর লভিভের সিখিভ এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। এক বন্দুকধারী খাবার সরবরাহকারীর ছদ্মবেশে সাইকেল নিয়ে এসে হঠাৎ পারুবিয়ের উপর একাধিক রাউন্ড গুলি চালায়। মুহূর্তের মধ্যেই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় আততায়ী। গুরুতর আহত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়া পারুবিয় ঘটনাস্থলেই মারা যান।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া আলামত, গুলির ধরন ও হামলার ধরণ দেখে স্পষ্ট যে এটি ছিল একটি পরিকল্পিত আক্রমণ। এ ঘটনায় “অপারেশন সাইরেন” নামে বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে এবং লভিভ শহরের প্রবেশপথে কড়াকড়ি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। এদিকে, আকস্মিক এই হত্যাকাণ্ডে স্থানীয় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে একে যুদ্ধকালীন সময়ে ইউক্রেনের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক আঘাত হিসেবে দেখছেন।
সরকারি প্রতিক্রিয়া-
প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক বিবৃতিতে এই হত্যাকাণ্ডকে “ভয়াবহ অপরাধ” বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা অপরাধীদের খুঁজে বের করব এবং তাদের যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করব।” জেলেনস্কি নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত জোরদার করতে নির্দেশ দিয়েছেন।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া-
সাবেক প্রেসিডেন্ট পেট্রো পোরোশেঙ্কো শোকবার্তায় বলেছেন, “আন্দ্রি পারুবিয় ছিলেন স্বাধীনতার রক্ষক। তার মৃত্যু জাতির হৃদয়ে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে”।
সংসদের বিভিন্ন সদস্য ও রাজনৈতিক সহকর্মীরাও পারুবিয়কে “দেশপ্রেমিক নেতা” আখ্যা দিয়ে বলেন, “এই হত্যাকাণ্ড ইউক্রেনের স্বাধীনতার লড়াইয়ের ওপর আঘাত”।
আন্দ্রি পারুবিয়ের প্রোফাইল-
আন্দ্রি পারুবিয় (১৯৭১–২০২৫) লভিভ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ২০১৪ সালে জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা পরিষদের সচিব ছিলেন এবং ২০১৬ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত ইউক্রেনের সংসদীয় স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ইউরোমাইদান আন্দোলনের অন্যতম নেতা হিসেবে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি পান। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি পশ্চিমাপন্থী নীতির জোরালো সমর্থক ও ইউক্রেনের স্বাধীনতার দৃঢ় কণ্ঠস্বর ছিলেন।
প্রকাশ্য দিবালোকে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ড ইউক্রেনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে নাড়িয়ে দিয়েছে। যুদ্ধকালীন সময়ে এ ধরনের আক্রমণ দেশজুড়ে অস্থিরতা বাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই শোক ও আতঙ্কে আচ্ছন্ন লভিভসহ সারা দেশ, আর নিরাপত্তা বাহিনী আততায়ীকে ধরতে সর্বোচ্চ তৎপরতা চালাচ্ছে।
- মো. সাইদুর রহমান বাবু, স্পেশাল করোসপন্ডেন্টস
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: