odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Sunday, 30th November 2025, ৩০th November ২০২৫

ইমরান খানের নির্জনতা ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ

odhikarpatra | প্রকাশিত: ২৯ November ২০২৫ ২২:১৭

odhikarpatra
প্রকাশিত: ২৯ November ২০২৫ ২২:১৭

অধিকার পত্র ডটকম] আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণ: সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দীর্ঘ নির্জন কারাবাস নিয়ে পাকিস্তানের রাজনীতিতে যে অচলাবস্থা চলছে, তাতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং পশ্চিমা গণমাধ্যমের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদির প্রতিবাদ এবং ইমরান খানের পরিবারের 'প্রমাণিত সুস্থতা' (Proof of life) চাওয়ার ঘটনাটি পরিস্থিতিকে এক নতুন সংকটে নিয়ে গেছে।


১. আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর ভূমিকা
ইমরান খানের নির্জনতা প্রসঙ্গে জাতিসংঘ এবং অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থাগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে:
* জাতিসংঘের আহ্বান: জাতিসংঘের উপ-মুখপাত্র ফারহান হক পাকিস্তানের কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন ইমরান খানের মানবাধিকার ও যথাযথ প্রক্রিয়াগত অধিকার (Due Process Rights) নিশ্চিত করা হয়। জাতিসংঘ জোর দিয়ে বলেছে, এই ধরনের রাজনৈতিক সংবেদনশীল মামলাগুলোতে ন্যায়বিচার যেন কেবল করা না হয়, বরং তা দৃশ্যমানও হয় (Justice must be seen to be done)।
* অন্যান্য সংস্থার উদ্বেগ: অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং হিউম্যান রাইটস কমিশন অফ পাকিস্তান (HRCP) এর মতো সংস্থাগুলো বহুবার উল্লেখ করেছে যে, ইমরান খানের বিরুদ্ধে আনা মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে এবং তার আইনি সুবিধা খর্ব করা হচ্ছে।
* 'অমানবিক নির্জনতা': ইমরান খানের ছেলে কাসিম খান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছে জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, তার বাবাকে ছয় সপ্তাহ ধরে সম্পূর্ণ গোপনীয়তা ও নির্জন সেলে রাখা হয়েছে, যা 'অমানবিক নির্জনতা' এবং নিরাপত্তা প্রটোকল নয়, বরং তার পরিস্থিতি গোপন করার ইচ্ছাকৃত প্রচেষ্টা।


২. আদালতের আদেশ এবং সরকারের জবাবদিহিতা
ইমরান খানের সাথে তার পরিবার ও আইনজীবীদের সপ্তাহে দুইবার সাক্ষাতের অনুমতি দিয়েছিল ইসলামাবাদ হাইকোর্ট (IHC)। কিন্তু জেল কর্তৃপক্ষ সেই আদেশ বারবার লঙ্ঘন করছে—এমন অভিযোগ এনে তার বোন আলেমা খান শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) আদিয়ালা জেল সুপারিনটেনডেন্ট এবং অন্যদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা (Contempt Petition) দায়ের করেছেন।
* সরকারের অবস্থান: পাকিস্তান সরকার যদিও তার স্বাস্থ্য নিয়ে ওঠা 'মৃত্যুর গুজব' সরাসরি অস্বীকার করেছে, তবে সাক্ষাতে বাধা দেওয়ার বিষয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট নয়। প্রতিরক্ষামন্ত্রী দাবি করেছেন, ইমরান খান কারাগারে বিলাসবহুল সুবিধা পাচ্ছেন। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ বলেছেন, সাক্ষাতকার আইন মেনে হওয়া উচিত এবং বন্দী অবস্থায় বাইরে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করা অবৈধ।
* জবাবদিহিতার অভাব: আদালতের আদেশ সত্ত্বেও সাক্ষাতকার বন্ধ রাখা এবং কেপিকে মুখ্যমন্ত্রীর মতো উচ্চপদস্থ ব্যক্তিকে জেলের গেট থেকে ফিরিয়ে দেওয়া রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।


৩. ভবিষ্যতের পরিণতি
যদি পাকিস্তানের কর্তৃপক্ষ দ্রুত স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করে এবং আদালতের আদেশ কার্যকর না করে, তবে আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে, 'প্রমাণিত সুস্থতা'র দাবিতে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ পশ্চিমা সরকারগুলোকে প্রকাশ্যে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানাতে উৎসাহিত করতে পারে। এই নির্জন কারাবাস কেবল একজন রাজনৈতিক নেতার স্বাধীনতা নয়, বরং পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থিতিশীলতা নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে সন্দেহ বাড়াচ্ছে।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: