অধিকার পত্র ডটকম] আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এর প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের দীর্ঘ নির্জন কারাবাস নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন খাইবার পাখতুনখোয়া (কেপিকে)-এর নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি। আদালতের আদেশ থাকা সত্ত্বেও ইমরান খানের সাথে সাক্ষাতে বাধা দেওয়ায় তিনি আদিয়ালা জেলের বাইরে রাস্তায় বসে প্রতিবাদ করেছেন
সোহেল আফ্রিদি, যিনি ৪০ মিলিয়নেরও বেশি নাগরিকের প্রতিনিধিত্ব করেন, প্রতিবাদস্থলে বসে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেছেন, "ইমরান খানের দীর্ঘায়িত নির্জনতা মোটেও স্বাভাবিক নয়। আমি আদিয়ালা জেলের বাইরে রাস্তায় বসে আছি কারণ আমি চাই আদালত অবমাননা এবং পাকিস্তানের একটি প্রদেশের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে কী করা হচ্ছে, তা বিশ্ব দেখুক।"
আদালতের আদেশ সত্ত্বেও সাক্ষাতে বাধা
পিটিআই নেতা এবং ইমরান খানের পরিবারের অভিযোগ, আদিয়ালা জেল কর্তৃপক্ষ বারবার আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ইমরান খানের পরিবার, আইনজীবী এবং দলীয় নেতাদের সাথে তার সাক্ষাতের সুযোগ কেড়ে নিচ্ছে।
সংবাদ মাধ্যমের নজরদারি: কেপিকে মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রতিবাদ স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম (যেমন: CNN, BBC News, Fox News, AJEnglish) এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর (HumanRightsCtte) দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
পরিবারের উদ্বেগ: ইমরান খানের ছেলে কাসিম খান প্রকাশ্যে দাবি করেছেন, তার বাবাকে ছয় সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে সম্পূর্ণ গোপনীয়তা ও নজরদারির মধ্যে 'ডেথ সেলে' নির্জন কারাবাসে রাখা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো তার অবস্থা গোপন করা।
স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
সাক্ষাৎ বন্ধ করে দেওয়ার কারণে ইমরান খানের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে গুজব ও জল্পনা আরও বেড়েছে। তার পরিবার 'প্রমাণিত সুস্থতা' (Proof of life) দাবি করেছে এবং দ্রুত এই 'অমানবিক নির্জনতা' অবসানের আহ্বান জানিয়েছে।
অন্যদিকে, জেল কর্তৃপক্ষ এবং সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, ইমরান খান 'সম্পূর্ণ সুস্থ' আছেন এবং তিনি কারাগারে সমস্ত চিকিৎসা সুবিধা পাচ্ছেন। তবে, পিটিআই নেতৃত্ব এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করে, যা তাদের জনপ্রিয় নেতাকে চুপ করানোর জন্য চাপ সৃষ্টির কৌশল।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: