🔴 ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও ঐক্য সরকারের ইঙ্গিত
দুর্নীতিবিরোধী এজেন্ডায় ঐক্যের ডাক, প্রধানমন্ত্রী নির্ধারণ হবে ভোটের ফলেই—জামায়াত আমির
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনায় বসেছে বলে জানিয়েছে দলটি। জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যেকোনো ঐক্য সরকার গঠনের ক্ষেত্রে দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান একটি যৌথ ও প্রধান এজেন্ডা হতে হবে।
তিনি বলেন, নির্বাচনে যে দল সর্বাধিক আসন পাবে, সেই দল থেকেই প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হবেন। জামায়াত যদি সর্বাধিক আসন পায়, তবে দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কে প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হবেন—এ ক্ষেত্রেও তিনি নিজে প্রার্থী হবেন কি না, তা দলই নির্ধারণ করবে।
শেখ হাসিনা পরবর্তী রাজনীতি ও জামায়াতের পুনরুত্থান
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে তরুণদের নেতৃত্বে হওয়া গণ-অভ্যুত্থানে দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় পরিবর্তন এসেছে। আওয়ামী লীগ বর্তমানে নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। শেখ হাসিনার শাসনামলে জামায়াতের একাধিক শীর্ষ নেতাকে ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে দণ্ড দেওয়া হয়—যা জামায়াত বরাবরই বিতর্কিত বলে দাবি করে এসেছে।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতার সঙ্গে দলীয় গঠনতন্ত্র সাংঘর্ষিক—এই যুক্তিতে আদালতের রায়ে জামায়াতের নির্বাচন কার্যক্রম নিষিদ্ধ হয়। তবে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের আগস্টে জামায়াতের ওপর সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ
শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর ভারতে অবস্থান করা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শফিকুর রহমান বলেন, এতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় পৌঁছেছে।
তিনি জানান, চলতি বছর বাইপাস সার্জারির পর তিনি একজন ভারতীয় কূটনীতিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, তবে ওই সাক্ষাৎটি গোপন রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “অন্যান্য দেশের কূটনীতিকরা এলে তা প্রকাশ্য হয়, তাহলে এখানে গোপনীয়তার বিষয় কেন?”—এতে তিনি খোলামেলা ও ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর জোর দেন।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য না করলেও ভারতীয় একটি সরকারি সূত্র বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এদিকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি ঢাকায় এসে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারকে সমবেদনা জানান।
পাকিস্তান ও রাষ্ট্রপতি প্রসঙ্গ
জামায়াতের পাকিস্তানের সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্কের প্রশ্নে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা কোনো এক দেশের দিকে ঝুঁকি না নিয়ে সবার সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক চাই।”
তিনি আরও বলেন, জামায়াত অংশগ্রহণকারী কোনো সরকার বর্তমান রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনের সঙ্গে স্বস্তিবোধ করবে না। উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন ইতোমধ্যে মেয়াদের মাঝপথে দায়িত্ব ছাড়ার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন, যদিও এ বিষয়ে সাম্প্রতিক মন্তব্যে তিনি নতুন করে কিছু বলতে চাননি।
🖊️ বিশেষ প্রতিনিধি, অধিকার পত্র ডটকম
📅 জানুয়ারি ২০২৬
#জামায়াতে_ইসলামী #ফেব্রুয়ারির_নির্বাচন #ঐক্য_সরকার
#দুর্নীতিবিরোধী #বাংলাদেশ_রাজনীতি #ভারত_বাংলাদেশ
#Jamaat #BangladeshElection #UnityGovernment #OdhikarPatra

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: