কারাকাস, ভেনেজুয়েলা | ৩ জানুয়ারি ২০২৬
ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে মার্কিন সামরিক অভিযানের পর নেমে এসেছে এক অস্বস্তিকর নীরবতা। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি জানায়, অভিযানের পরদিন শহরের অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ ছিল এবং রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা দেখা গেছে।
খোলা থাকা অল্প কয়েকটি দোকানের সামনে দীর্ঘ সারি দেখা গেলেও বড় কোনো জনসমাগম ছিল না। তবে কয়েকশ মানুষ রাস্তায় নেমে মার্কিন অভিযানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে এবং আটক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর মুক্তির দাবি জানায়।
বিক্ষোভকারীদের একজন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক কাতিয়া ব্রিসেনো বলেন,
“কোনো বিদেশি সরকার কীভাবে আমাদের দেশে এসে রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে নেয়? এটা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য।”
এএফপির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কালো পোশাক পরিহিত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা রাজধানীর কেন্দ্রীয় এলাকায় টহল দিচ্ছে এবং হামলার পর শহরের বিভিন্ন স্থানে এখনো বিস্ফোরকের গন্ধ অনুভূত হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও রাজনৈতিক বক্তব্য
মার্কিন অভিযানের কড়া সমালোচনা করেছেন ফ্রান্সের কট্টর ডানপন্থি রাজনীতিক ও ন্যাশনাল র্যালির দীর্ঘদিনের নেতা মারিন লে পেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন,
“নিকোলাস মাদুরোর শাসনব্যবস্থার সমালোচনার বহু কারণ রয়েছে—তা কমিউনিস্ট, অলিগার্কিক ও কর্তৃত্ববাদী। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে ভেনেজুয়েলায় সরকার পরিবর্তন ঘটিয়েছে, তার বিরোধিতা করার সবচেয়ে বড় কারণ হলো—রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব কখনোই আলোচনার বিষয় হতে পারে না।”
তিনি আরও বলেন,
“আজ যদি ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রে এই নীতি ত্যাগ করা হয়, তবে ভবিষ্যতে অন্য যেকোনো রাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও তা বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: