odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Wednesday, 25th February 2026, ২৫th February ২০২৬
ইরানের যুদ্ধজাহাজ ‘শহিদ মাহদাভি’ ১০,৭০০ নটিক্যাল মাইল অতিক্রম করে আন্তর্জাতিক মিশন সম্পন্ন

প্রথম মিশনেই বাজিমাত! দক্ষিণ গোলার্ধ পাড়ি দিয়ে ইরানের ‘শহিদ মাহদাভি’র সফল প্রত্যাবর্তন

odhikarpatra | প্রকাশিত: ২৫ February ২০২৬ ২০:২২

odhikarpatra
প্রকাশিত: ২৫ February ২০২৬ ২০:২২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, অধিকার পত্র ডটকম:

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি)-এর নৌবাহিনী পরিচালিত দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত মহাসাগরগামী যুদ্ধজাহাজ ‘শহিদ মাহদাভি’ সফলভাবে প্রথম দীর্ঘমেয়াদি আন্তর্জাতিক মিশন সম্পন্ন করে ইরানের আঞ্চলিক জলসীমায় ফিরে এসেছে।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা Mehr News Agency সোমবার এক প্রতিবেদনে জানায়, ৫৭ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা এ সমুদ্রযাত্রা শেষে জাহাজটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান আইআরজিসি নৌবাহিনীর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল Alireza Tangsiri।

স্বাগত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei-এর নির্দেশনা অনুযায়ী ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বিশ্বের মহাসাগরগুলোতে দৃঢ় উপস্থিতি নিশ্চিত করতে প্রস্তুত।

ব্রিকস নৌ মহড়ায় অংশগ্রহণ

আইআরজিসি পরিচালিত এই বহুমুখী যুদ্ধজাহাজটি দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূলে অনুষ্ঠিত BRICS জোটভুক্ত দেশগুলোর যৌথ নৌ মহড়ায় অংশ নেয়। বিশ্লেষকদের মতে, এটি আঞ্চলিক সীমা অতিক্রম করে আন্তর্জাতিক পরিসরে ইরানের নৌ উপস্থিতি সম্প্রসারণের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘শহিদ মাহদাভি’ আইআরজিসি নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে সমুদ্রে পাঠানো অষ্টম যুদ্ধজাহাজ। এটি ইরানের ১০৩তম নৌবহরের অংশ হিসেবে প্রায় ১০,৭০০ নটিক্যাল মাইল বা প্রায় ১৮ হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছে। এ বহরে ইরানি সেনাবাহিনীর ‘শহিদ নাকদি’ ডেস্ট্রয়ার এবং ‘মাকরান’ ফরোয়ার্ড বেস জাহাজও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

প্রযুক্তি ও সামরিক সক্ষমতা

২,১০০ টন ওজনের এই যুদ্ধজাহাজটির দৈর্ঘ্য ২৪০ মিটার এবং প্রস্থ ২৭ মিটার। এটি ২০২৩ সালের মার্চে আইআরজিসির নৌবহরে যুক্ত হয়। জাহাজটি ভাসমান নৌঘাঁটি হিসেবেও কাজ করতে সক্ষম।

‘শহিদ মাহদাভি’-তে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার পাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া নজরদারি ও আঘাত হানতে সক্ষম ড্রোন, ত্রিমাত্রিক ফেজড অ্যারে রাডার, সমুদ্র থেকে সমুদ্র ও সমুদ্র থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র এবং উন্নত ইলেকট্রনিক যুদ্ধ প্রযুক্তি সংযুক্ত রয়েছে।

এই মিশনের মাধ্যমে আইআরজিসি নৌবাহিনী প্রথমবারের মতো দক্ষিণ গোলার্ধ এবং আটলান্টিক মহাসাগরে অভিযান পরিচালনার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে বলে জানানো হয়।

কমান্ডার আলীরেজা তাংসিরি বলেন, “এই মিশন আমাদের সামরিক সক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সুস্পষ্ট প্রমাণ।”

তথ্যসূত্র: মেহের নিউজ



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: