odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Sunday, 11th January 2026, ১১th January ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার মাঝে ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনীই ক্ষমতার ভারসাম্যের মূল নিয়ামক।

ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ এখন সেনাবাহিনীর হাতে: ট্রাম্প-রদ্রিগেজ চুক্তির কেন্দ্রে ফ্যানব (FANB)

Special Correspondent | প্রকাশিত: ১১ January ২০২৬ ০৩:১৫

Special Correspondent
প্রকাশিত: ১১ January ২০২৬ ০৩:১৫

নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র

গত ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস অপহৃত হওয়ার পর দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে। এই সংকটময় মুহূর্তে ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনী, যা ন্যাশনাল বলিভারিয়ান আর্মড ফোর্সেস (FANB) নামে পরিচিত দেশটির ক্ষমতার চাবিকাঠি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

সেনাবাহিনীর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব:

বিগত ২৭ বছর ধরে হুগো চাভেজ এবং পরবর্তীতে নিকোলাস মাদুরোর শাসনামলে সেনাবাহিনী ছিল সরকারের সবচেয়ে বিশ্বস্ত মিত্র। বিনিময়ে সামরিক কর্মকর্তাদের দেওয়া হয়েছে মন্ত্রণালয়, গভর্নর পদ এবং রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানির মতো লাভজনক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ। মাদুরো সরকার পতনের পর এখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এবং অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সরকার উভয় পক্ষই জানে যে ভেনেজুয়েলা শাসন করতে হলে সেনাবাহিনীর সমর্থন অপরিহার্য।

মার্কিন অভিযানের ধাক্কা ও কৌশলগত পরিবর্তন:

মাদুরোকে যখন কারাকাসের সবচেয়ে সুরক্ষিত সামরিক দুর্গ ফুয়ের্তে তিউনা (Fuerte Tiuna) থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন ভেনেজুয়েলার সামরিক সক্ষমতা এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকটভাবে ধরা পড়ে। এই অভিযানে অন্তত ২৩ জন ভেনেজুয়েলান সেনা এবং ৩২ জন কিউবান বিশেষ বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এই চরম পরাজয়ের পর সেনাবাহিনীর সামনে এখন দুটি পথ খোলা আছে:

১. ডেলসি রদ্রিগেজের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করা।

২. অথবা যুক্তরাষ্ট্রের আরও হামলার ঝুঁকি নিয়ে নিজেদের ক্ষমতা ও অস্তিত্ব সংকটে ফেলা।

ডেলসি রদ্রিগেজ: কেন তিনি ট্রাম্পের পছন্দ?

মজার বিষয় হলো ট্রাম্প প্রশাসন কট্টর বিরোধী দলীয় নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদোর পরিবর্তে মাদুরোর দীর্ঘদিনের সহযোগী ডেলসি রদ্রিগেজকেই বেছে নিয়েছে। এর প্রধান কারণ হলো সামরিক বাহিনীর মধ্যে রদ্রিগেজের গ্রহণযোগ্যতা। বিশ্লেষকরা মনে করছেন রদ্রিগেজই একমাত্র ব্যক্তি যিনি সেনাবাহিনীকে সংঘাতের পথ থেকে সরিয়ে আলোচনার টেবিলে আনতে সক্ষম।

সেনাবাহিনীর সামনে কঠিন শর্তাবলি:

টিকে থাকার জন্য ভেনেজুয়েলার সামরিক নেতৃত্বকে কিছু অকল্পনীয় শর্ত মেনে নিতে হতে পারে:

মাদক পাচারের অভিযোগ থেকে মুক্তি: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান অভিযোগ সামরিক কর্মকর্তারা মাদক পাচারে জড়িত তা থেকে নিজেদের মুক্ত করা।

নতুন তেল চুক্তি: ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল সম্পদের নিয়ন্ত্রণ মার্কিন কোম্পানিগুলোর হাতে তুলে দেওয়ার চুক্তিতে সায় দেওয়া।

দমনপীড়ন হ্রাস: জনগণের ওপর সামরিক বাহিনীর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও দমনপীড়ন কমিয়ে আনা।

ভবিষ্যৎ পরিক্রমা:

ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনী এখন অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে। তারা যদি ট্রাম্প ও রদ্রিগেজের প্রস্তাবিত পথে না হাঁটে তবে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে ডেলসি রদ্রিগেজকে সমর্থন করলে তারা হয়তো তাদের বর্তমান সুযোগ-সুবিধার একটি অংশ বজায় রাখতে পারবে। সব মিলিয়ে মাদুরো পরবর্তী ভেনেজুয়েলায় শান্তি ফিরবে নাকি গৃহযুদ্ধ শুরু হবে তা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে জেনারেলদের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।

--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র

 



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: